কমেছে আত্মঘাতী হামলা বেড়েছে নারী বোমারুর সংখ্যা

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৮ জানুয়ারি ২০১৮, সোমবার
পূর্বের তিন বছরের তুলনায় গত বছরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা কমেছে। তবে এই ধরনের হামলায় নারী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালিকাদের ব্যবহার করার প্রবণতা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে গত এক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সংঘটিত আত্মঘাতী হামলার ঘটনাগুলোকে পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য বছরের মতো গত বছরে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলার ঘটনা অব্যাহত ছিল। তবে ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যক আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।
এ বছর বেশির ভাগ হামলার সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস), আল-কায়েদা ও অন্য সালাফি-জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রতিবেদনে ২০১৮ সালেও আত্মঘাতী হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। যেসব হামলার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়েছে শুধু সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষকরা বলেন, ইরাকের উত্তরাঞ্চল ও সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে আইএস-এর বেশকিছু আত্মঘাতী হামলার ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় নি। কেননা, সেখানে এখনো সংঘাত চলছে। প্রতিবেদনে ২৩টি দেশের ৩৪৮টি আত্মঘাতী হামলার ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, হামলাগুলোর সঙ্গে ৬২৩ জনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এদের মধ্যে ১৩৭ জনই নারী। নারী হামলাকারীর এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০১৬ সালে আত্মঘাতী হামলায় সংশ্লিষ্ট নারীর সংখ্যা ছিল ৭৭ জন। আর ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১৮ জন। প্রধানত, আফ্রিকার জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারাম হামলা চালানোর ক্ষেত্রে নারীদেরকে ব্যবহার করে। নিজেদের নারী সদস্যদের পাশাপাশি তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদেরকেও বিভিন্ন সময়ে অপহরণ করার পর আত্মঘাতী হামলায় বাধ্য করে। গত বছরে বিশ্বজুড়ে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছে ৪ হাজার ৩১০ জন। আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৭০০ জন। হামলা চালানোর ক্ষেত্রে সবার ওপরে রয়েছে আইএস। তারা স্থানীয় বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সাহায্যে বিশ্বজুড়েই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আসছে। গত বছরে গোষ্ঠীটি ২২০টি আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। যা মোট হামলার ৬৩ শতাংশ। তবে এই সংখ্যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বেশ কম। ২০১৬ সালে এই গোষ্ঠী ৩২২টি আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিল। যা ছিল ওই বছরের মোট হামলার ৭০ শতাংশ। হামলা চালানোর ক্ষেত্রে আইএসের পরেই রয়েছে আল-কায়েদা। গত বছরের মোট আত্মঘাতী হামলার ৯০ শতাংশই চালিয়েছে আইএস ও আল-কায়েদা। গবেষকরা বলেন, বাকি ১০ শতাংশ হামলার জন্য অন্য সালাফী উগ্রপন্থি দলগুলো দায়ী। তবে এই দলগুলো কখনোই দায় স্বীকার করে না। মধ্যপ্রাচ্যে বেশির ভাগ হামলা চালিয়েছে আল-কায়েদা। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় এ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে হামলার পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরে ইরাকে সবচেয়ে বেশি ৬৪টি আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিরিয়া। দেশটিতে হামলার সংখ্যা ৪০টি। তবে উভয় দেশেই পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় হামলার পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমেছে। এছাড়া লিবিয়াতেও হামলা কমেছে ৫০ শতাংশ। ২০১৭ সালে ইয়েমেনে ১১টি, মিশরে ১০টি, লেবাননে ২টি, সৌদি আরবে ২টি ও তুরস্কে ১টি আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। আর পশ্চিম তীরে আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রচেষ্টা বানচাল করা হয়েছে ১৩টি। এশিয়ায় এক বছরে ১০১টি আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৩টি। আফ্রিকায় সন্ত্রাসীরা ১১২টি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছে। এই সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। ওই বছর আফ্রিকায় হামলার সংখ্যা ছিল ৮৬টি। আফ্রিকার মধ্যে নাইজেরিয়ায় সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ৫৭টি আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এছাড়া সোমালিয়ায় ২৬টি ও ক্যামেরুনে ২৫টি আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছে আত্মঘাতী হামলা তাদের লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এতে তাদের শক্তিমত্তার প্রদর্শন হয়। মানুষের মনে তাদের সম্পর্কে ভীতির সঞ্চার হয়। মানুষ তাদেরকে শক্তিশালী সংগঠন মনে করে, যে শক্তি আদৌ তাদের নেই।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন