অস্থিতিশীল ইরান

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, সরকারপন্থি জনসমাবেশ, সিআইএ’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৬ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার
সপ্তাহজুড়ে অস্থিরতা চলছে ইরানে। বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও অসন্তোষ রূপ নেয় প্রতিবাদে। সরকারের বিরুদ্ধে তেহ্‌রানের রাস্তায় বিক্ষোভ করতে থাকে তারা। আবার সরকারের পক্ষেও রাস্তায় নেমেছে হাজারো জনগণ। সরকার বিরোধীদের দমন করার দাবিতে শুক্রবার তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভ করে তারা। এরই মধ্যে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডেকেছে দেশটি। তবে ইরান সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে বিচ্ছিন্ন মনে করছে না। দেশটি দাবি করেছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, ইসরাইল ও সৌদি আরব সমন্বিতভাবে সরকার-বিরোধীদের ইন্ধন জুগিয়েছে। তারা ইরানকে অস্থীতিশীল করতে চাইছে। তবে শুক্রবার ইরানে কিছুটা স্থীতিশীলতা ফিরে আসে। এদিন জুমার নামাজের পর ইরানের সরকারপন্থিরা তেহ্‌রানের রাস্তায় নেমে আসেন। তারা গত কয়েকদিন ধরে চলা অস্থিরতার অবসান ঘোষণা করেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি, এএফপি ও রয়টার্স। খবরে বলা হয়, অবৈধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনে ইরানের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মনুচিন বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো- দ্য শহীদ ইসলামী রিসার্চ সেন্টার, শহীদ খাররাজি ইন্ডাস্ট্রিজ, শহীদ মোঘাদ্দাম ইন্ডাস্ট্রিজ, শহীদ সানিখানি ইন্ডাস্ট্রিজ ও শহীদ শুস্তারি ইন্ডাস্ট্রিজ। এই কোম্পানিগুলোর সবই শহীদ বাকেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এই কোম্পানিগুলোর সকল সম্পত্তি জব্দ করা হবে। পাশাপাশি এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।  তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, পারমাণবিক কর্মসূচির অজুহাতে নতুন নতুন অবরোধ দেয়া অযৌক্তিক। তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র ইরানি জনগণের অর্থনৈতিক প্রয়োজন নির্বাহ করার জন্য। এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
সরকার বিরোধী বিক্ষোভের পরিকল্পনাকারী সিআইএ: সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী বিক্ষোভের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, ইসরাইল ও  সৌদি আরবকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটি বলেছে, সিআইএ ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মূল পরিকল্পনাকারী। এতে সমর্থন দিয়েছে ইসরাইল ও সৌদি আরব। তবে ইরানের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রশাসন। আর এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সিআইএ। বৃহস্পতিবার ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ জাফর মোন্তাজেরি বলেন, সিআইএ ইরানে একটি অভিযান চালিয়েছে। এতে সমর্থন দিয়েছে ইসরাইল ও সৌদি আরব। তিনি অভিযোগ করেন, সিআইএ মধ্য ফেব্রুয়ারি নাগাদ ইরানের সরকার-বিরোধী  বিক্ষোভকে একটি সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তখন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের বর্ষপূর্তি বানচাল করতে চেয়েছিল তারা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,  যুক্তরাষ্ট্র এটা আশা করেনি যে, সেখানে বিক্ষোভ হবে। এই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছে। ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার মতো সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন