ফিলিস্তিনে সহায়তা পাঠানোর বিষয় পুনর্বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৬ জানুয়ারি ২০১৮, শনিবার
ফিলিস্তিনে সহায়তা পাঠানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী শুক্রবার মার্কিন নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎস। খবরে বলা হয়, এ সপ্তাহের শুরুতে এক টুইটার বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনে সহায়তা পাঠানো বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। ট্রাম্পের এই হুমকির পরপরই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনে সহায়তা পাঠানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথা জানানো হলো। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, ‘ফিলিস্তিনিদের সাম্প্রতিক আচরণের কারণে তাদের দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বিষয়টি আমরা পুনর্বিবেচনা করছি।’ হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কে ভালো জানাশোনা আছে এমন দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইউএনআর-ডব্লিউএ’কে সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিকে নিয়েই মূল বিতর্ক।
তবে সংস্থাটির মুখপাত্র বলেছেন, এই বিষয়ে তাদের কর্মকর্তারা মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, ইউএনআরডব্লিউএ জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত একটি সংস্থা। এটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের অর্থনৈতিক সহায়তাসহ সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে। ইউএনআরডব্লিউএ প্রতি বছর মার্কিন সরকারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ অনুদান পেয়ে থাকে। মঙ্গলবার এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, কোনো কারণ ছাড়া আমরা শুধু পাকিস্তানকেই কোটি কোটি ডলার সহায়তা দেই না। আরো অনেক দেশই এমন সহায়তা পায়। যেমন, আমরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি বছরে কোটি কোটি ডলার সহায়তা পাঠাই। কিন্তু বিনিময়ে তাদের থেকে কোনো সম্মান পাই না। এমনকি তারা ইসরাইলের সঙ্গে বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তি করতেও রাজি হয়নি। এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত ফিলিস্তিনে সহায়তা পাঠানো বন্ধ করে দিতে চান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র  ইউএনআরডব্লিউএ’র মোট বাজেটের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ অর্থ অনুদান দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন পিএলও’র জ্যেষ্ঠ সদস্য হানান আশরায়ি বলেন, ট্রাম্প শুধু আন্তর্জাতিক আইনই লঙ্ঘন করেননি। তিনি শান্তিপ্রক্রিয়ার মূল ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিয়েছেন। আশরায়ি অভিযোগ করে বলেন, ট্রাম্প নিজের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের ফল ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন