সম্পত্তির লোভেই বাড্ডার ব্যবসায়ী হত্যা

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার
রাজধানীর বাড্ডার আফতাব নগরে ব্যবসায়ী মনজিল হত্যায় এখনো হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে এই ব্যবসায়ীকে তার সম্পত্তির লোভে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। ব্যবসায়ী মনজিলের সম্পত্তির জন্যই তার ঘনিষ্ঠরাই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। রহস্য উদঘাটনে মনজিলের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিমধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মনজিলের বাবা রামপুরার একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মনজিলের মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আবার বিয়ে করেন। তার সৎ-মায়ের তিন মেয়ে ও এক ছেলে থাকলেও মনজিলের কোনো ভাই বোন নেই। চলতি বছরেই তার বাবা তাকে আফতাব নগরের বি-ব্লকের তিন নম্বর রোডের পাঁচ নম্বর বাসার ষষ্ঠ তলায় একটি ফ্ল্যাট কিনে দেন। ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন তিনি। এর পাশাপাশি তার একটা মোটর মেকানিকের দোকান ছিল। তিন বছর আগে বিয়ে করেন মনজিল। কিন্তু সেই সংসার বেশিদিন টিকেনি। সূত্রমতে, মনজিলের বাবা দুটি বিয়ে করলেও তিনি মনজিলের জন্য অনেক সম্পত্তি রেখে যান। তার আর কোনো ভাই বোন না থাকায় মনজিল একাই সেই সম্পত্তির মালিক। তাই তার ঘনিষ্ঠরা এই সম্পত্তির লোভেই তাকে হত্যা করিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডটি ভাড়াটে কিলার দিয়ে করানো হয়েছে। মনজিলকে হত্যার আগে চার হত্যাকারী তাদের সঙ্গে আলাদা পোশাক নিয়ে আসে। হত্যাকাণ্ড শেষ করে তারা রক্তমাখা কাপড় পরিবর্তন করে অন্য কাপড় পরে বাসা থেকে বের হয়েছে। সেই রক্তমাখা কাপড় পুলিশ উদ্ধারও করেছে। তার আগে খুনিরা মনজিলের পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা নিহতের হাতের কবজির রগ কেটে ফেলে। তবে মনজিল হত্যাকাণ্ডের পরে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করেছিল প্রেমঘটিত কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এমন চিন্তা মাথায় রেখে তদন্ত চালিয়ে যায় পুলিশ এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এক তরুণীর সঙ্গে আড়াই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মনজিলের। কিন্তু চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। মনজিলের ফ্ল্যাটে ওই তরুণী প্রায়ই যেতেন বলে জানিয়েছেন ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী আবুল কালাম মণ্ডল। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ওই তরুণী ঘন ঘনই মনজিলের বাসায় আসতেন। নিজের কেনা ফ্ল্যাট বলে আমি বাধা দিতাম না। মনজিল হত্যা মামলার বাদী ফারুক মিয়া মানবজমিনকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমি বুঝতে পারছি তারা আমাকে সন্দেহ করছে। বুধবার আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখন আমার মনে হচ্ছে ঘটনার পর সেখানে যাওয়াটাই আমার ঠিক হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ১১ই ডিসেম্বর রাজধানীর আফতাবনগরের ডি ব্লকের তিন নম্বর রোডের পাঁচ নম্বর বাসার ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মঞ্জিল হোসেন (৩০) নামের এক ব্যবসায়ীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি স্থানীয় একটি মোটর ওয়ার্কশপের মালিক ছিলেন। ওই বাসার দারোয়ান আবুল কালাম পুলিশকে জানিয়েছে, ওই দিন সকাল ১১টার দিকে একটি মেয়ে ও কয়েক যুবক ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। যুবকরা চলে যাওয়ার পর ওই মেয়ে ছয় তলা থেকে নিচে নেমে কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, ‘ওরা মেরে ফেলেছে’। এরপর দারোয়ান ও বাসার অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেয়। নিহতের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনায়।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ছয় মামলায় রিপনের জামিন

চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই পুলিশ বরখাস্ত

এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন বন্ধ থাকবে ফেসবুক

ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাকে অনেক পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ

মেয়রের বাড়িতে হামলার মামলায় ১০ আসামি কারাগারে

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

নারায়ণগঞ্জের থানায় আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর গ্রেপ্তার

বলিউড ছবি নিয়ে ভারতে তোলপাড়, নিষেধাজ্ঞা নেই-সুপ্রিম কোর্ট

‘আমি আমার শহরের লিডার’

চকবাজারে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

ভারতে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ

দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৯ ডাকাত

রাজধানীতে মা-মেয়ের ‘আত্মহত্যা’

'যত বেশি সম্ভব মুসলিম মারতে চেয়েছি'

সিএনজি চালক হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২