আইপিও’র মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন কমেছে ৬৩০ কোটি টাকা

দেশ বিদেশ

এম এম মাসুদ | ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৬
স্থিতিশীলতা ফিরে এলেও পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। চলতি বছর ২০১৭ সালে মাত্র ৭টি প্রতিষ্ঠান আইপিও ছেড়ে ২১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে। গত বছর ২০১৬ সালে আইপিও’র মাধ্যমে ১১টি প্রতিষ্ঠান ৮৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন করে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আইপিও’র মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন কমেছে ৬৩০ কোটি ৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা জানান, বাজারে যত কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে, বাজারের আকার তত প্রসারিত হবে।
সংশ্লিদের উচিত ভালো ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উদ্যোগ নেয়া। আইপিও’র সংখ্যা কম হওয়ায় পুঁজিবাজারের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। বাজারে কোম্পানির সংখ্যা বেশি থাকলে কারসাজির পরিমাণ কমে। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানির জবাবদিহিতা বাড়ে বলে মনে করেন তারা।
বিএসইসি’র তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে আইপিও’র মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা ৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড রয়েছে একটি। আইসিবি এমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড নামে প্রতিষ্ঠানটি উত্তোলন করেছে ৫০ কোটি টাকা। আগের বছর ২০১৬ সালে আইপিওতে আসা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সংখ্যা ছিল ৩টি। ওই ফান্ড ৩টির সম্মিলিত অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ১৯০ কোটি টাকা। সে হিসাবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বছরের ব্যবধানে অর্থ উত্তোলন কমেছে ১৪০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে আইপিওতে এসেছে ৬টি কোম্পানি। কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত উত্তোলনের পরিমাণ ১৬৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আগের বছর আইপিওতে আসে ৮টি কোম্পানি। কোম্পানিগুলোর উত্তোলিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সে হিসাবে আইপিও থেকে কোম্পানির অর্থ উত্তোলন কমেছে ৪৯০ কোটি ৫ লাখ টাকা।
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আইপিও’র মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন কমার একটি কারণ হলো দেশে সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক নয়। তাই পুঁজিবাজারেও কোম্পানি আসার পরিমাণ কমেছে। আরেকটি কারণ হলো- আমাদের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতার কারণে পুঁজিবাজারে আসতে চান না। কারণ পুঁজিবাজারে এলে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে হয়। শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে মিটিং কারতে হয়। বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জের জবাবদিহিতা থাকে। এসব কারণে অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে চায় না বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, বাজার এখন যে পরিস্থিতিতে রয়েছে তাতে আইপিও’র পরিমাণ বাড়া উচিত ছিল। আইপিও কম আসার কারণে সার্বিক পুঁজিবাজারের যে প্রবৃদ্ধি আশা করি সেটা হচ্ছে না। আমাদের আরো বেশি কোম্পানির তালিকাভুক্তি দরকার। যাতে কোম্পানির বৈচিত্র্য থাকে। বেশি কোম্পানি বাজারে থাকলে মেনুপুলেশনের (কারসাজি) সুযোগ কম থাকে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, যারা প্রিমিয়াম চাচ্ছে তাদের বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসতে হচ্ছে এবং বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসতে নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, এতে দীর্ঘ সময় লাগে। যে কারণে আইপিওতে আসা কোম্পানির সংখ্যা কম। এ ছাড়া সার্বিক বিনিয়োগের পরিবেশও ভালো নয়, তাই অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ কম। আবার যেটুকু অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে তা সহজেই ব্যাংক থেকে কোম্পানি নিতে পারছে। এসব কারণে আইপিও’র পরিমাণ কমেছে।
বিএসইসি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে একমাত্র ‘আমরা নেটওয়ার্কস’ প্রিমিয়াম নিয়ে আইপিওতে এসেছি। কোম্পানিটির উত্তোলিত অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রিমিয়াম বাবদ কোম্পানিটি নিয়েছে ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বছরটিতে আইপিও’র মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে- শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ২০ কোটি, নূরানী ডাইং ৪৩ কোটি, বিবিএস কেবলস ২০ কোটি, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড ১৫ কোটি এবং নাহি অ্যালুমিনিয়াম ১৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজার থেকে আইপিও’র মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে ১১২৭ কোটি টাকা তুলতে চায় ২০টি কোম্পানি। এর মধ্যে নাহী অ্যালুমিনিয়াম ১৫ কোটি, আমান কটন ৮০ কোটি, বসুন্ধরা পেপার মিলস ২০০ কোটি, এসটিএস হোল্ডিংস (অ্যাপোলো হাসপাতাল) ৭৫ কোটি, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ৬০ কোটি, রানার অটোমোবাইলস ১০০ কোটি, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস ৭০ কোটি, ডেল্টা হসপিটাল ৫০ কোটি, ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ৪০ কোটি, শামসুল আল আমীন রিয়েল এস্টেট ৮০ কোটি, এস্কোয়ার নিট কম্পোজিট ১৫০ কোটি, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং ২০ কোটি ও ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, জেনেক্স ইনফোসিস ও এডভেন্ট ফার্মা  ২০ কোটি টাকা করে মূলধন সংগ্রহের আবেদন করেছে। একইভাবে ভিএফএস থ্রেড ২২ কোটি, কাট্টালি টেক্সটাইল ৩৪ কোটি, কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস ১৫ কোটি, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ২৬ কোটি ৮ লাখ ও সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস ৩০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন জমা দিয়েছে। বিএসইসির তথ্যে দেখা গেছে, গত ৫ বছরে ৫০টি কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলন করেছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কারাবন্দি বাবাকে দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল ছেলের

আদালতের এজিপি ফেন্সিডিলসহ আটক

ফেনীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

বিএনপি নেতা কামরুল ঢালীর বিরদ্ধে দুদকে মামলা

সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

পদ্মা সেতুর ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ইয়াং হি লি

আইভীর সিটিস্ক্যান ও এমআরআই সম্পন্ন, রাতে প্রেস ব্রিফিং

‘যথাসময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব’

পর্নো তারকা অলিভিয়ার মৃত্যু

বিরোধীদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা শুরু করছে পাকিস্তান সরকার

অধিভুক্তদের ঢাবির পরিচয়পত্র নয়

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট

ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা

কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থার নেপথ্যে