চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধকালীন শতাধিক পরিত্যক্ত বাড়ি অবৈধ দখলে

দেশ বিদেশ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহরে সর্দার বাহাদুর নগরে ২৩৩ নম্বর সরকারি পরিত্যক্ত বাড়িটি দীর্ঘ ৪ দশক ধরে দখলে রেখেছে মৃত নবী হোসেনের পরিবার। ১০ শতক জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িটির বর্তমান মূল্য কয়েক কোটি টাকা। আদালতে স্বত্বের মামলা করে বছরের পর বছর বাড়িটিতে বসবাস করছেন তারা।
এভাবে হালিশহর, ফিরোজ শাহ কলোনি, শেরশাহ কলোনিসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ দখলে আছে আরো ১১৯টি সরকারি পরিত্যক্ত বাড়ি। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও আদালতে স্বত্বের মামলা দায়েরসহ নানা কৌশলে এসব বাড়ি দখলে রেখেছেন। দখলদাররা রাজনৈতিক দলের নেতা বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
যারা আইনি জটিলতা সৃষ্টি করার কারণে অধিকাংশ বাড়িই উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। আবার আশার কথা শুনিয়ে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, নগরীর জামাল খান এলাকায় আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সরকারি একটি বাড়ি দখলমুক্ত হয়েছে। সরকারি সিটি কলেজের সাবেক এক শিক্ষক প্রায় ৩০ বছর ধরে দখল করে রেখেছিলেন ওই বাড়িটি। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এ সুবাধে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে পরিত্যক্ত সরকারি বাড়িটি দখল করেছিলেন। আর হালিশহরের ২৩৩ নম্বর বাড়ি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে বসবাসকারী সাবেক কাউন্সিলর মৃত নবী হোসেনের পুত্র সাইমুম বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে আমরা এ বাড়িতে বসবাস করছি। বিভিন্ন সময় গণপূর্তের পক্ষ থেকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু খরিদা সূত্রে আমার বাবা (নবী হোসেন) বাড়ির মালিক হওয়ায় আমরা বাড়ি ছাড়িনি। বর্তমানে এ বাড়ি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আমরাও বসবাস করছি। গণপূর্ত বিভাগ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তথ্যমতে, বিভাগের আওতায় বর্তমানে চট্টগ্রামে ৩৩০টি সরকারি বাড়ি রয়েছে। এরমধ্যে ১৬১টি সংরক্ষিত। আর মুক্তিযুদ্ধকালীন ও বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন সময়ে পরিত্যক্ত ঘোষিত বাড়ি রয়েছে ১৬৯টি। সংরক্ষিত বাড়িগুলোর মধ্যে ২৪টি এরই মধ্যে বেহাত হয়ে গেছে। বাকি ১৩৭টি বাড়ি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসস্থান ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। অন্যদিকে পরিত্যক্ত ১৬৯টি বাড়ির মধ্যে বেহাত হয়েছে ৯৫টি। বেশির ভাগ দখলদারই নানা কৌশলে মালিকানা দাবি করে বাড়িগুলো ছাড়ছে না। বেদখলে চলে যাওয়া বেশির ভাগ বাড়ির অবস্থান নগরীর হালিশহর, ফিরোজ শাহ কলোনি ও শেরশাহ কলোনিতে। এছাড়া চট্টগ্রামে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগের আওতায় দুই হাজারের বেশি সরকারি বাড়ি ছিল। এর মধ্যে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হাতে ছিল ১ হাজার ৭৬৫টি বাড়ি। বিভিন্ন সময় তারা এসব বাড়ি বিক্রি করে দেয়ায় এখন তাদের আওতায় রয়েছে ৩৫-৪০টি বাড়ি। এসব বাড়ির অধিকাংশই দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা। জানা গেছে, বেহাত হওয়া সরকারি বাড়িগুলো গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের আওতাধীন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বাড়িগুলো তাদেরই রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা। তবে দখলে না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে এসব বাড়ি সংস্কার-মেরামতও করা যাচ্ছে না। এতে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে শতাধিক বাড়ি। দখল ধরে রাখতে ঝুঁকি নিয়েই বাড়িগুলোয় বসবাস করছে দখলদাররা। অনেকেই স্বত্ব ঘোষণার মামলা ঠুকে বাড়ি দখল রেখেছে। অনেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের নামে বাড়ি দখল করেছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাড়ি উদ্ধারে অনাগ্রহকে দায়ী করেছেন অনেকে। পদাধিকার বলে চট্টগ্রামের পরিত্যক্ত সরকারি সম্পত্তি বোর্ডের চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার। বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখলের সঙ্গে অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত। অনেকেই ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি বাড়িগুলো দখলে রেখেছে। অস্তিত্বহীন মানুষের নামে পর্যন্ত বাড়ি দখলে রাখা হয়েছে। মামলা থাকায় এসব বাড়ি সহজে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। উচ্ছেদ করতে গেলেই আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে অর্ধশত বাড়ি নিয়ে দখলদারদের দায়ের করা মামলার রায় গণপূর্ত বিভাগের পক্ষে গেছে। তবে উচ্চ আদালতে দখলদারদের করা আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় এসব বাড়ির দখল ফিরে পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে গণপূর্তের ১০৭টি বাড়ি নিয়ে মামলা চলছে। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে চলছে ৫৬টি। উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৫১টি মামলা।
চট্টগ্রামের গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল আলম বলেন, অবৈধ দখলদাররা অনেক আগেই কৌশলে সরকারি বাড়িগুলো দখলে নিয়েছে। এরপর তারা দখল ও মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছে। এভাবে সংরক্ষিত ও পরিত্যক্ত শতাধিক বাড়ি বেদখল হয়ে গেছে। আমরাও আদালতের মাধ্যমে এগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি। এরই মধ্যে অনেক মামলার রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। এরপর দখলদাররা উচ্চ আদালতে আপিল করেছে। তাই দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও এসব বাড়ি দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। তাছাড়া মামলাগুলো মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের আরেক নির্বাহী প্রকৌশলী ওম প্রকাশ বলেন, দীর্ঘদিন বেদখল থাকায় সরকারি বাড়িগুলো উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বহু চেষ্টার পর গত বছর জামাল খান এলাকায় একটি বাড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কারাবন্দি বাবাকে দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল ছেলের

আদালতের এজিপি ফেন্সিডিলসহ আটক

ফেনীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

বিএনপি নেতা কামরুল ঢালীর বিরদ্ধে দুদকে মামলা

সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

পদ্মা সেতুর ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন ইয়াং হি লি

আইভীর সিটিস্ক্যান ও এমআরআই সম্পন্ন, রাতে প্রেস ব্রিফিং

‘যথাসময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব’

পর্নো তারকা অলিভিয়ার মৃত্যু

বিরোধীদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা শুরু করছে পাকিস্তান সরকার

অধিভুক্তদের ঢাবির পরিচয়পত্র নয়

ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট

ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা

কাতার ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রে অচলাবস্থার নেপথ্যে