তুর্কি প্রধানমন্ত্রী ঢাকায়

শেষের পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১০
বিপর্যস্ত রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরজমিন দেখতে দু’দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিম। রাত ৯টার কাছাকাছি সময়ে বিশেষ বিমানে চড়ে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তুর্কি প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান।  সেখানে তাকে স্ট্যাট্রিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এবং আঙ্কারায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ দুই দেশের কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফর করছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট রোহিঙ্গা-বোঝা লাঘবে অব্যাহতভাবে রাজনৈতিক এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে তুরস্কের অঙ্গীকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করবেন তিনি।
কর্মকর্তারা বলছেন, তুর্কি সরকার প্রধানের সফরে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়েই আলোচনা হবে। আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়েও কথা হবে। তবে সেখানে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্ব পাবে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বর্মী সেনা এবং তাদের দোসর রাখাইন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী উগ্রপন্থিদের হত্যা-ধর্ষণসহ বর্বর নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে গত ২৫শে আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে দফায় দফায় নির্যাতনের কারণে বিভিন্ন সময়ে আরো প্রায় ৪ লাখ মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে রয়েছে। ১০ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা লাঘবে শুরু থেকেই বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে  তুরস্ক। বাস্তুচ্যুত প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গার জন্য ২৫ হাজার সেমি পাকা বাড়ি তৈরির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করেছে তুরস্ক সরকার। সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের জন্য তুরস্ক যে মডেলের বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে রোহিঙ্গাদের প্রায় অভিন্ন মডেলের বাড়ি তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছে তুরস্ক। কক্সবাজারের উখিয়ায় প্রস্তাবিত প্রত্যকটি বাড়িতে ৫ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার সব রকম সুবিধা নিয়ে বসবাস করতে পারবে। সোলার প্যানেলযুক্ত ১৫ স্কয়ার মিটারের শয়নকক্ষে (দুটি ভাগ) ছাড়াও প্রত্যেকটি বাড়িতে রান্নাঘর ও বাথরুম থাকছে। তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর সফরে ওই প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি বা সমঝোতা না হলেও এ নিয়ে আলোচনা এবং স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে। ঢাকার কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, তুরস্কের অর্থায়নে সিরিয়ার বাস্তুচ্যুতদের জন্য তৈরি করা বাড়িগুলোর আদলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ি তৈরি করা হলে অনেক জায়গার প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ হয় তো হুবহু তুর্কি মডেলে না করে কাছাকাছি মডেলে একই পরিমাণ খরচে ২৫ হাজারের বদলে ৫০ হাজার কিংবা একটি বাড়িতে দুটি পরিবার থাকার মতো একটি বাড়ির মডেল প্রস্তাব করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তুর্কি অর্থায়নে তৈরি করা বাড়িগুলোতে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা থাকতে পারবে। কেবল তুরস্ক নয়, ইউএনইচসিআর এবং আইওএমকেও একই রকম বাড়ি তৈরির প্রস্তাব দিতে পারে ঢাকা। সার্বিক বিষয়ে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী সফরে আলোচনা হতে পারে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই দেশটির প্রস্তাবিত দুটি ফিল্ড হাসপাতালের ইক্যুইপমেন্ট কক্সবাজারের পৌঁছেছে। হাসাপতাল নির্মাণে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আগামী বুধবার সেই হাসপাতালের সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং পরিদর্শন করবেন। এ ফিল্ড হাসপাতালে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা পর্যায়ক্রমে সেবা পাবেন। তুর্কি সরকারের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও যাতে ফিল্ড হাসপাতালের সুবিধা ব্যবহার করে বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গাদের অব্যাহতভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদানের প্রস্তাব দেবে ঢাকা। কর্মকর্তারা আশা করছেন সেই প্রস্তাবে আঙ্কারা রাজি হবে এবং এটি ফিল্ড হাসপাতাল না হয়ে রোহিঙ্গা সংকট শেষ হওয়া পর্যন্ত স্থায়িত্ব পাবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছে, আজই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তুর্কি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত এবং আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। সেই বৈঠক শেষে এসএমই ও বিএসটিআই বিষয়ক দুটি পৃথক সমঝোতা সই হওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন মূলত গত রাতে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় এলেও আজ থেকে সফরের আনুষ্ঠনিকতা শুরু হবে। দিনের শুরুতেই তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ধানমন্ডিস্থ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বাধীন শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। বিকালে যাবেন বঙ্গভবনে, প্রেসিডেন্ট আবুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের নেতৃত্বাধীন দুই দেশের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অফিসিয়াল বৈঠকের আগে শেখ হাসিনা-ইলদ্রিম একান্ত বৈঠক হবে। তুরস্কের আগ্রহেই সেই বৈঠক হচ্ছে। সেখানে এমন ইস্যু আলোচনা হবে, যা তুর্কি প্রধানমন্ত্রী অফিসিয়াল বৈঠকে হয়তো বলতে চাইছে না। তবে যেহেতু একান্ত বৈঠক হবে সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তরফে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হবে বলে আভাস দিয়েছেন সফর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য অভিযুক্ত ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারীরা যেন কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ না পায় সেই অনুরোধ জানাতে পারেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। এমন অনুরোধ আগেও এসেছে জানিয়ে ঢাকার এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা গুলেন চেনে না। চেনে তুর্কি পাসপোর্ট। তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য অবশ্য ঢাকা তা বিবেচনায় নিবে। অতীতেও তুর্কি পাসপোর্টধারী অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, এমনকি দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। ইলদ্রিম কক্সবাজারে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরজমিন এবং সেখানে তুরস্কের ত্রাণসংস্থাগুলোর কার্যক্রম দেখে কক্সবাজার থেকেই তুরস্কের উদ্দেশ্যে সরাসরি রওনা করবেন। সফরকালে রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তুরস্কের অর্থায়নে নির্মিত পূর্ণ কোমোথেরাপি সেন্টার উদ্বোধন করবেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এর আগে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিলা এরদোয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত ক্যাভুফোগলু বাংলাদেশ সফর করেছেন। সে সময়ে তারা রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে তারা কথা বলেন এবং তাদের দেশ ত্যাগের কারণ, দুর্ভোগ, নির্যাতনের বর্ণনা ইত্যাদি শোনেন। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তারা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ব্যাংক কোম্পানি আইন পাস, জাপার ওয়াকআউট

২০ হাজার টাকায় ১ বছর ক্লাস, অতঃপর...

শাম্মী আখতারের মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া

ট্রেনে কাটা পড়ে রেলওয়ে কর্মকর্তার মৃত্যু

শাম্মী আখতারের জানাজা কাল বাদ জোহর

আইভী-শামীম সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

শাম্মী আখতার আর নেই

স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির রায়

‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে জিতবে তাবিথ’

‘মিথ্যা মামলায় খালেদার কোনো ক্ষতি হবে না, জনপ্রিয়তা বাড়বে’

ডিএনসিসি উপনির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট, আদেশ বুধবার

জেলপলাতক ৩ বাংলাদেশিকে এখনো ধরা যায়নি, সীমান্তে নজরদারি

অনশন ভাঙলেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা

পুতিনই হবেন রাশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট

শেকলে বাঁধা সন্তান, উদ্ধার ১৩, গ্রেপ্তার পিতামাতা

মার্কিন কূটনীতিকদের তলব করেছে আফ্রিকার ৫ দেশ