ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা

দেশ বিদেশ

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার
মুক্তিযোদ্ধারা ভেতরে থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পথ প্রদর্শন করে যৌথভাবে যুদ্ধ করে মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে দেশকে স্বাধীন করেছিল। শনিবার কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ামে ভারতীয় সেনাবাহিনী আযোজিত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধিদলের নেতা বাংলাদেশের গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন একথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গেরিলা ট্রেনিংসহ কিভাবে একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় সেই যুদ্ধ কৌশল ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা পেয়েছিলাম। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল অভয় কৃষ্ণও বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা নিয়েই ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। তার মতে, তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধারা এই যুদ্ধের অংশীদার এবং সেই কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের এক সাবেক সেনাকর্মকর্তার একাত্তরের যুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বলে মন্তব্য করায় প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে কলকাতায় বিজয় উৎসবে যোগদানকারী সাবেক ভারতীয় সেনাকর্তারাও জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় সেনারা যুদ্ধ করেছিল। শনিবার কলকাতায় ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রতি বছরের মতো এবারো যথাযোগ্য মর্যাদায় একাত্তরের যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণে বিজয় উৎসব পালন করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর আমন্ত্রণে কলকাতায় এসেছেন ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও ৬ জন সামরিক কর্মকর্তাসহ তাদের পরিবার পরিজন। এদিন সকালে ফোর্ট উইলিয়ামের গেটের পাশে তৈরি বিজয় স্মারকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতা গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল অভয় কৃষ্ণ। বাংলাদেশের তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে মেজর জেনারেল এসএম শামীমউজ্জামান, ক্যাপ্টেন মোহম্মদ আবদুল মুকিদ খান এবং এয়ার কমান্ডার চৌধুরী মহিদুল হোসেনও ভারতীয় সেনবাহিনীর নিহত সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এ সময় আকাশ থেকে ভারত ও বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে দুটি হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়েছে। পরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ভারতীয় সাবেক সেনাকর্মকর্তাদের সঙ্গে স্মৃতিচারণে মিলিত হয়েছিলেন। বিজয় দিবস আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী মিশনেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিলেন। এরপর তার ভাষণে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার অবদানের কথা স্মরণ করেন। সারাদিন ধরে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন দুই দেশের শিল্পী ও আলোচকবৃন্দ। এদিন ত্রিপুরায় নিযুক্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড কমান্ডার কর্নেল সাগুন ভাটনগর আগরতলার উপকণ্ঠে লিচুবাগানে শহীদ স্মারকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আলাদা একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কথা উল্লেখ করেন ত্রিপুরার গভর্নর কথাগত রায়। এদিকে ত্রিপুরার বেলোনিয়ার ছোট্টাখোলাতে তৈরি ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পার্কের উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এই পার্কে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ২০ একর জমির উপর তৈরি এই পার্কটি আট বছরের চেষ্টায় তৈরি হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধীর পূর্ণ-অবয়ব মূর্তি রয়েছে। রয়েছে ভারতীয় সেনানী ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ের নানা ইতিহাস।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ব্যাংক কোম্পানি আইন পাস, জাপার ওয়াকআউট

২০ হাজার টাকায় ১ বছর ক্লাস, অতঃপর...

শাম্মী আখতারের মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া

ট্রেনে কাটা পড়ে রেলওয়ে কর্মকর্তার মৃত্যু

শাম্মী আখতারের জানাজা কাল বাদ জোহর

আইভী-শামীম সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

শাম্মী আখতার আর নেই

স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির রায়

‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে জিতবে তাবিথ’

‘মিথ্যা মামলায় খালেদার কোনো ক্ষতি হবে না, জনপ্রিয়তা বাড়বে’

ডিএনসিসি উপনির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট, আদেশ বুধবার

জেলপলাতক ৩ বাংলাদেশিকে এখনো ধরা যায়নি, সীমান্তে নজরদারি

অনশন ভাঙলেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা

পুতিনই হবেন রাশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট

শেকলে বাঁধা সন্তান, উদ্ধার ১৩, গ্রেপ্তার পিতামাতা

মার্কিন কূটনীতিকদের তলব করেছে আফ্রিকার ৫ দেশ