বিএনপির প্রচারণায় বাধার অভিযোগ

শেষের পাতা

সিরাজুস সালেকিন ও জাভেদ ইকবাল, রংপুর থেকে | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৭
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা থাকলেও বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকতে চায় । রোববার দুপুরে জেলা শহরের গ্রান্ড হোটেল মোড়ে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক টুকু এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনও হয়নি। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের কিছুই বলে না, অথচ বিএনপির প্রার্থী হোটেলে বসে চা পান করলেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়। টুকু বলেন, সরকারদলীয়দের ভয়ে প্রশাসন ভীত।
তা না হলে কেন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের পরও তাদের কিছুই বলছে না। বিএনপি যেখানেই পথসভা করার পরিকল্পনা করছে সেখানেই বাধা দিচ্ছে প্রশাসন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীরা মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে গাড়িবহর নিয়ে সেটা কি আচরণবিধি ভঙ্গের কিছু না? রাস্তার মোড়ে মোড়ে নৌকা ও লাঙল প্রতীক বড় করে বৈদ্যুতিকভাবে চালানো হচ্ছে সেটাও কি চোখে পড়ে না কমিশনের? শুধু বিএনপির সাথেই এই বৈষম্যমূলক আচরণ করছে প্রশাসন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি ও পথসভায় বাধা দেয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তারা টাইম টু টাইম নির্বাচন কমিশনকে মৌখিকভাবে জানাচ্ছেন, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে রসিকের নির্বাচন সুন্দরভাবে শেষ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানান। ইকবাল হাসান টুকু অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে আমাদের পোলিং এজেন্টদের বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে, হুমকি দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের লোকজন বলছে, দশটা ভোট পেলেও তারা জয়ী হবে আবার ভোট না পেলেও জয়ী হবে। এ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোট কেন্দ্রে থাকলে পরিণতি খারাপ হবে এমন হুমকি দেয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিক তা সরকার প্রথম থেকে চাচ্ছিল না। তারপরও আমরা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের পক্ষ থেকে কাওছার জামান বাবলাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু তাকে ঋণখেলাপি বলে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে হাইকোর্ট তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। তারপরও সরকার থেমে যায়নি। তারা এ আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে সোনালী ব্যাংককে দিয়ে আপিল করায় কিন্তু সেখানেও তারা হেরে যায়। দেশের বৃহত্তম দল হিসেবে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক তা সরকার চাইছিল না বলেও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। টুকুর দাবি, আওয়ামী লীগ একক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চেয়েছিল, কিন্তু সে সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি বলেন, এত কিছুর পরেও আমরা নির্বাচন করতে চাই। সামনে আরো সিটি করপোরেশন নির্বাচন আছে, সরকার কী করে আমরা তা দেখতে চাই। তারা যদি কারচুপি করে, তাহলে দেশের জনগণ তাদের মুখোশ খুলে দেবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা, মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু প্রমুখ।
অশুভ শক্তিকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে: মোস্তফা
নির্বাচনে কোনো অশুভ শক্তি যদি প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে তবে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। গতকাল নগরীর মহাদেবপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকার পাগল হয়ে যায়নি যে তারা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে। তবে কোনো অশুভ শক্তি যদি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে তবে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে রংপুরে পেঁৗঁছেছেন দলটির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। গতকাল দুপুরে তিনি জানান, সোমবার থেকে তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেবেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় যুবলীগ চেয়ারম্যান
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টুর সমর্থনে রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার প্রতিনিধি সভা করেছে যুবলীগ। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। রংপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক এবিএম সিরাজুম মনির বাসারের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এইচ এম রাশেদুন্নবী জুয়েল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক লহ্মীণ চন্দ্র দাস, নোশাদ আলম রাজুসহ অন্যরা। সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন অব্যাহত রাখতে যুবলীগ কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে নৌকার বিকল্প নাই। তাই আসন্ন সিটি নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান করা হয়।
৪০ শতাংশ প্রার্থী স্কুলের গণ্ডি পেরোননি
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (রসিক) প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রায় ৪০ শতাংশ প্রার্থী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোননি। প্রার্থীদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগই ব্যবসায়ী। গতকাল রংপুর চেম্বার ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রসিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য উপস্থাপন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সুজনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রাজেশ দে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ২৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬৭ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নীচে। যা শতাংশের হিসেবে ৫৮.৮০%। পক্ষান্তরে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৬১ জন। শতকরা ৩৯.০৮ শতাংশ প্রার্থী বা ১১১ জন প্রার্থী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি অতিক্রম করেনি। ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই ব্যবসায়ী। এর মধ্যে একজন পেশার ঘর পূরণ করেননি। সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পেশার ঘরে উল্লেখ করেছেন রাজনীতি। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সর্বমোট ২৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ ব্যবসায়ী। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে দুই জনের বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে। বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৬ লাখ টাকা আয় করেন সাবেক মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় বিএনপি সমসর্থিত মেয়র প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার প্রায় ১৬ লাখ টাকা। জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার আয় প্রায় ১০ লাখ টাকা। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২৮ জনের বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নয় দশমাংশই স্বল্প আয়ের। এ ছাড়া মোট প্রার্থীদের ২৩০ জনই ৫ লাখ টাকার কম সম্পদের মালিক। তাদের মধ্যে তিনজনের কোটি টাকার ওপর ঋণ আছে। ৫৮.০৯ শতাংশ প্রার্থী আয়কর প্রদানকারী। হলফনামার তথ্য অনুসারে, ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ফৌজদারি মামলার আসামি রয়েছেন ৪ জন। ২১২ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৫২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অতীতে এবং ১৭ জনের বিরুদ্ধে উভয় সময়ে ফৌজদারি মামলা ছিল বা আছে। তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে ৫৮ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪০ জনের বিরুদ্ধে অতীতে এবং ১৮ জনের বিরুদ্ধে উভয় সময়ে মামলা ছিল বা আছে।
সুজন রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি আকবর হোসেন বলেন, গত নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন এমন প্রার্থীদের সম্পদের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। এমনকি এই বৃদ্ধির হার কয়েকশত গুণ। হলফনামায় দেয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সুজনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন, মহানগর সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন টিটো সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শাম্মী আখতার আর নেই

স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির রায়

‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে জিতবে তাবিথ’

‘মিথ্যা মামলায় খালেদার কোনো ক্ষতি হবে না, জনপ্রিয়তা বাড়বে’

ডিএনসিসি উপনির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট, আদেশ বুধবার

জেলপলাতক ৩ বাংলাদেশিকে এখনো ধরা যায়নি, সীমান্তে নজরদারি

অনশন ভাঙলেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা

পুতিনই হবেন রাশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট

শেকলে বাঁধা সন্তান, উদ্ধার ১৩, গ্রেপ্তার পিতামাতা

আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা

ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের তলব করেছে আফ্রিকার ৫ দেশ

আপিলের অনুমতি পেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

যৌন হেনস্থা নিয়ে ভয়ে মুখ খুলছেন না বলিউড অভিনেত্রীরা!

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এক কোটি ওন দান করলেন অভিনেত্রী লি হানি

খালেদার শেষ, সালিমুল-শরফুদ্দিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক মুলতবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় মুক্তিপণ দেয়ার পরও খুন এক বাংলাদেশী