জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের চূড়ান্ত আলোচনা কাল

শেষের পাতা

মিজানুর রহমান | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৩
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে সই হওয়া সম্মতি চুক্তির আওতায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের চূড়ান্ত আলোচনা কাল 
। এ সম্পর্কিত আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে ৬ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশে আসছেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো। কাল সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনা’য় পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তিনি। বাংলাদেশ দলে স্বরাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়সহ অন্তত ৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্র্র্তারা থাকছেন। দ্বিপক্ষীয় ওই আলোচনার প্রস্তুতি বিষয়ে গতকাল সেগুনবাগিচায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সেই সভায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র বলছে, সেখানে প্রস্তাবিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কাঠামো এবং কর্মক্ষমতা বিষয়ক টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে ওঠে আসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অস্পষ্টতা বা ধোঁয়াশায় থাকা বিষয়গুলো। সূত্র মতে, সচিব পদ মর্যাদার দু’জন কর্মকর্তার যৌথ নেতৃত্বে উভয় পক্ষের ২৪ বা ২৬ কর্মকর্তাকে নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপটি গঠনে সম্মত ঢাকা ও নেপি’ড। তবে সেটি স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র না দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে হবে তা আলোচনায় চূড়ান্ত হবে। অনানুষ্ঠানিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, মিয়ানমারের তরফে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব ওয়ার্কিং গ্রুপের নেতৃত্বে থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের আওতায় ফাংশনাল লেভেলে একটি সাব-কমিটি গঠনের চিন্তা রয়েছে। যুগ্ম সচিব বা মহাপরিচালকের নেতৃত্বে উভয় দেশের ৫ থেকে ৬ জন করে ১০ বা ১২ সদস্যের সেই কমিটি হতে পারে। ওই কমিটি জরুরি প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে বৈঠক করে যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবে। সূত্র মতে, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রপের টিওআর নিয়ে মতভিন্নতার কারণে বিশেষ করে ওই কমিটির কর্মক্ষমতার বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় ২৩শে নভেম্বর সই হওয়া চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রক্ষা করা যায়নি। অর্থাৎ চুক্তি সইয়ের ৩ সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্র্কিং গ্রুপ হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল ঢাকা আসছে এবং আলোচনায় বসছে। গত ৩ সপ্তাহে দফায় দফায় চিঠি চালাচালির পরও দুই দেশ যে সব ইস্যুতে এখনো একমত বা কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি সে বিষয়ে ঢাকার এক কর্মকর্তারা বলেন, মোটাদাগে কয়েকটি বিষয়ে এখনো ভিন্নমত রয়েছে। বিষয়গুলো হয়- রোহিঙ্গাদের জিসপ্লেইস্‌ড মিয়ানমার রেসিডেন্ট বা বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ। চুক্তিতেও তাই আছে। মিয়ানমার এখন তাদের ‘জিসপ্লেইস্‌ড পারসনস ফ্রম রাখাইন স্টেট’ বলতে চায়। তাছাড়া বাংলাদেশ প্রস্তাব করেছে ওয়ার্কিং গ্রুপকে পলিসি, স্ট্যাটেজিক এবং ফাংশনাল সব ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে। মিয়ানমার তাতে রাজি হয়। তারা ওয়ার্কিং গ্রুপকে সংকীর্ণ বা ছোট পরিসরে রাখার পক্ষে। ঢাকার অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, সই হওয়া প্রত্যাবাসন বিষয়ক প্রাথমিক চুক্তির সব উপাদানই পরবর্তী বাস্তবভিত্তিক চুক্তিতে রাখার প্রস্তাব করেছে ঢাকা। এতে এখনো মিয়ানমারের সায় নেই। নেপি’ডতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে সই হওয়া দ্বিপক্ষীয় অ্যারেঞ্জমেন্টের শর্ত মতে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর জন্য পরবর্তী বাস্তব ব্যবস্থা বা ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট সই হওয়া এবং দুই মাসের মধ্যে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের ফেরানোর কাজ পুরোপুরি শুরু করার ‘বাধ্যবাধকতা’ রয়েছে। চুক্তির এক মাস অতিবাহিত হতে চলেছে, কিন্তু এখনো রোহিঙ্গা স্রোতই থামানো যায়নি। প্রত্যাবাসন চুক্তি সইয়ের পর থেকে প্রতিদিনই বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যমতে এখন নবাগত রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে আরো ৪ লাখ রোহিঙ্গা।
রাখাইনে নির্যাতন ও বলপূর্বক বাস্তুচ্যুতি অব্যাহত থাকা এবং নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় সেখানে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টির রাষ্ট্রীয় কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় প্রত্যাবাসনে আগ্রহী রোহিঙ্গারাও হতাশ হয়ে পড়ছেন। সমপ্রতি এক আন্তর্জাতিক জরিপে এ চিত্র ওঠে এসেছে। ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের কালকের বৈঠকে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে নিশ্চিত করেছে সেগুনবাগিচা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভিডিও দেখে অস্ত্রধারীদের খোঁজা হচ্ছে

‘অতিষ্ঠ হয়ে প্রেমিককে ছুরিকাঘাত’

ফল প্রকাশের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অবরোধ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সময় লাগবে ৯ বছর!

মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত, আক্রমণের শিকার নাগরিক সমাজ

মেয়র আইভী হাসপাতালে

জিয়াউর রহমানের ৮২ তম জন্মবার্ষিকী আজ

এবার আটকে গেল দক্ষিণের ১৮ ওয়ার্ডের নির্বাচনও

হাথুরুকে দেখিয়ে দেয়ার লড়াই

‘আপনার এত তাড়াহুড়া কিসের?’

সংবাদটি আমাকেও শোকে মুহ্যমান করে ফেলে

‘নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছিল’

৬ মাসের প্রাণ পেলো যশোর রোডের গাছগুলো

সিলেটে রাজনীতির আড়ালে সক্রিয় ‘চিহ্নিত’ অপরাধীরা

‘নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ৮০ শতাংশ ভোট পাবে বিএনপি’

কাজাখস্তানে বাসে আগুন লেগে ৫২ জনের মৃত্যু