ভারতে কর্মক্ষেত্রে দিনে ২ জন নারী যৌন হেনস্থার শিকার

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার
ভারতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ জন নারী কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার শিকার হন। ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ১২ই ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ন্যাশনাল কমিশন ফর উইম্যান (এনসিডব্লিউ)-এ ৩১৬ দিনে ৫৩৯ টি যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যার গড় দৈনিক ১.৭। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এ ধরণের সমস্ত অভিযোগের শতকরা ৬০ ভাগই দায়ের করা হয়েছে পাঁচটি রাজ্য থেকে। এগুলো হচ্ছে- উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ এবং হরিয়ানা।
উল্লেখ্য, দায়ের করা এসব অভিযোগ প্রকৃত যৌন হেনস্থার একটি ক্ষুদ্র চিত্র মাত্র। ধারণা করা হয়, বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে নারীর ওপর সংঘটিত যৌন হেনস্থার মাত্রা আরো অনেক বেশি। যৌন নির্যাতন আইন অনুসারে, এ সংক্রান্ত যে কোন অভিযোগ প্রথমে আভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি কিংবা জেলা অভিযোগ কমিটিতে দায়ের করা হয়। এরপর, অভিযোগকারী চাইলে রাষ্ট্রীয় নারী সংস্থায় (এনসিডব্লিউ) অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ পান। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্যাতনের শিকার নারীরা নানা প্রতিকূলতার কারণে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন না বা আগ্রহ দেখান না। গত চার বছরের দায়ের করা অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওই সময়ে মোট ১৯৭১ টি যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। যার গড় দিনপ্রতি ১.৮। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী কে ভি ধনাঞ্জয় বলেন, মূল সমস্যাটি হলো, বর্তমান নিয়মে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা না নেয়া কিংবা যৌন হেনস্থার ঘটনাকে আড়াল করা প্রতিষ্ঠানসমূহের বিরুদ্ধে কোন ধরণের শাস্তির ব্যবস্থা নেই। প্রতি ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টিতেই নেই কোন কার্যকর কমিটি। যদিও বড় কো¤পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে খানিকটা সচেতন, তবে সার্বিকভাবে নারীদের হয়রানি রোধে কার্যকর নিয়মকানুন কিংবা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘাটতি রয়েছে। উল্লেখ্য, তিন মাস পূর্বে কর্নাটকের নারী কমিশন (কেডব্লিউসি) ব্যাঙ্গালুরুর একজন গার্মেন্টস সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরো ১১ জন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।  কেডব্লিউসির চেয়ারপার্সন নাগালক্ষী বাই বলেন, বেশিরভাগ অভিযোগই তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে আসছে। তিনি আরো বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীরা সাধারণত দুই ধরণের হয়রানির শিকার হন। এর মধ্যে একটি হলো পেশাগত হয়রানি। অন্যটি যৌন হয়রানি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেশাগত হয়রানি ধীরে ধীরে যৌন হয়রানিতে রূপ নেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, সমাজবিজ্ঞানী সমতা দেশমানে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বেশিরভাগ নারীই হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা থেকে বিরত থাকেন।  কারণ, কর্মক্ষেত্রগুলোতে এখনো পুরুষের আধিপত্য বিদ্যমান এবং অনেকক্ষেত্রেই হয়রানির অভিযোগ আনা নারীরা উল্টো বিড়ম্বনার শিকার হন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শাম্মী আখতার আর নেই

স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির রায়

‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে জিতবে তাবিথ’

‘মিথ্যা মামলায় খালেদার কোনো ক্ষতি হবে না, জনপ্রিয়তা বাড়বে’

ডিএনসিসি উপনির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট, আদেশ বুধবার

জেলপলাতক ৩ বাংলাদেশিকে এখনো ধরা যায়নি, সীমান্তে নজরদারি

অনশন ভাঙলেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা

পুতিনই হবেন রাশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট

শেকলে বাঁধা সন্তান, উদ্ধার ১৩, গ্রেপ্তার পিতামাতা

আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা

ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের তলব করেছে আফ্রিকার ৫ দেশ

আপিলের অনুমতি পেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

যৌন হেনস্থা নিয়ে ভয়ে মুখ খুলছেন না বলিউড অভিনেত্রীরা!

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এক কোটি ওন দান করলেন অভিনেত্রী লি হানি

খালেদার শেষ, সালিমুল-শরফুদ্দিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক মুলতবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় মুক্তিপণ দেয়ার পরও খুন এক বাংলাদেশী