ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার
মুক্তিযোদ্ধারা ভিতরে থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পথ প্রদর্শন করে যৌথভাবে যুদ্ধ করে মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে দেশকে স্বাধীন  করেছিল। গতকাল শনিবার কলকাতায় ফোর্ট উইলিযামে ভারতীয সেনাবাহিনী আযোজিত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধিদলের নেতা বাংলাদেশের গৃহায়ণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন একথা বলেছেন। তিনি আরও জানিযেছেন, গেরিলা ট্রেনিংসহ কিভাবে একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় সেই যুদ্ধ কৌশল ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা পেয়েছিলাম। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল অভয় কৃষ্ণও বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা নিয়েই ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। তার মতে, তিনি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন,  মুক্তিযোদ্ধারা এই যুদ্ধের অংশীদার এবং সেই কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের এক সাবেক সেনাকর্মকর্তার একাত্তরের যুদ্ধকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বলে মন্তব্য করায় প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে কলকাতায় বিজয় উৎসবে যোগদানকারী সাবেক ভারতীয় সেনাকর্তারাও জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে ভারতীয সেনারা যুদ্ধ করেছিল। শনিবার কলকাতায় ভারতীয সেনাবাহিনী প্রতি বছরের মত এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় একাত্তরের যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণে বিজয় উৎসব পালন করেছে। ভারতীয সেনাবাহিনীর আমন্ত্রনে কলকাতায় এসেছেন ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও ৬ জন সামরিক কর্মকতাসহ তাদের পরিবার পরিজন।  এদিন সকালে ফোর্ট উইলিযামের গেটের পাশে তৈরি বিজয় স্মারকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতা গৃহায়ণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল অভয় কৃষ্ণ। বাংলাদেশের তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে মেজর জেনারেল এসএম শামীমউজ্জান, ক্যাপ্টেন মোহম্মদ আব্দুল মুকিদ খান এবং এয়ার কমান্ডার চৌধুরী মহিদুল হোসেনও ভারতীয় সেনবাহিনীর নিহত সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।  এই সময় আকাশ থেকে ভারত ও বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে দুটি হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়েছে। পরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ভারতীয় সাবেক সেনাকর্মাকর্তাদের সঙ্গে স্মৃতি চারণে মিলিত হয়েছিলেন। বিজয় দিবস আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী মিশনেও যথযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তেলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিলেন। এর পর তার ভাষণে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার অবদানের কথা স্মরণ করেন। সারাদিন ধরে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন দুই দেশের শিল্পী ও আলোচকবৃন্দ। এদিন ত্রিপুরায় নিযুক্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড কমান্ডার কর্ণেল সাগুন ভাটনগর আগরতলার উপকন্ঠে লিচুবাগানে শহীধ স্মারকে পুষ্পস্তবক দিয়ে, শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আলাদা একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কথা উল্লেখ করেন ত্রিপুরার গভর্ণর কথাগত রায়। এদিকে ত্রিপুরার বেলোনিয়ার ছোট্টাখোলাতে তৈরি ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পার্কের উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এই পার্কে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ২০ একর জমির উপর তৈরি এই পার্কটি আট বছরের চেষ্টায় তৈরি হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধীর পূর্ণয়বয়ব মূর্তি রয়েছে। রয়েছে ভারতীয় সেনানী ও মুক্তিদোদ্ধাদের লড়াইয়ের নানা ইতিহাস।
[এমকে]

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

হ্যান্ডকাফসহ পালালো আসামি

‘ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত সরকারেরই নীল নকশার অংশ’

২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে আন্দোলন

সাক্ষ্য দেবেন না স্টিভ ব্যানন

‘সবকিছুতে সরকারের যোগসাজশ খোঁজেন কেন?’

রাখাইনে বৌদ্ধদের দাঙ্গা, গুলিতে নিহত ৭

৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের আদেশ হাইকোর্টের

ভয়াবহ বিপদজনক চুক্তি

যুক্তি তর্ক শুনানি চলছে, আদালতে খালেদা

ঢাকা উত্তরের মেয়র উপনির্বাচন স্থগিত

উত্তরা মেডিকেলের ৫৭ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা নেই

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ

মিয়ানমার অনুমতি দেয় নি, কাল বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর

‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন অবৈধ’

‘তেমন ভালো কাজ তো এখন হচ্ছে না’

আইভী-শামীম মুখোমুখি, সংঘর্ষ