শোকে মলিন চট্টলা

প্রথম পাতা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৮
চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকে মলিন বিজয় দিবসের কর্মসূচি। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন তো বটেই, বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিও বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে স্মৃতি হাতড়িয়েছেন
মহিউদ্দিন চৌধুরীর। প্রশাসনের কর্মসূচিতেও ছিল মহিউদ্দিন শোক।
তাদের সবারই এক কথা, যাকে ঘিরে চট্টগ্রামে বিজয়ের উচ্ছ্বাস ছিল; যিনি ছিলেন বিজয় শোভাযাত্রার প্রধান আয়োজক, বিজয় দিবসের কর্মসূচিকে প্রাণবন্ত করে রাখতেন যিনি, প্রধান অতিথি হিসেবে যার মুখে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাথা শুনতে বিজয় দিবসের সমাবেশে আসা, তিনি তো নেই।
তাকে ছাড়া যে চট্টগ্রামের মানুষের জন্য কোনো বিজয়ই বিজয় না, তার অনুপস্থিতিতে তা প্রমাণ হয়ে গেল। তাকে ছাড়া গতকাল চট্টগ্রামের বিজয় দিবসের কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত মলিন।
এমন কথাই বলেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সমপাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।
ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিজয় শোভাযাত্রা কমিটির আহ্বায়ক ও বিজয় মেলা পরিষদের অন্যতম সদস্য। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামে বিজয় দিবসের প্রধান কর্মসূচি বিজয় শোভাযাত্রা বের করতেন সদ্য প্রয়াত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
প্রতি বছর সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে এই বিজয় শোভাযাত্রা বের হতো চট্টগ্রামে। আর শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিতেন বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
এবারও ২৯তম বারের মতো শুরু হওয়া এ মুক্তিযুদ্ধের বিজয় শোভাযাত্রাও আজ শনিবার নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিজয় শিখা চত্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নেতৃত্ব দেবেন কে। আয়োজক মহিউদ্দিন চৌধুরী তো আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাই বিজয় শোভাযাত্রা করিনি আমরা। এ কথা বলেই চোখ মুছেন তিনি।
তিনি বলেন, বিজয় শোভাযাত্রা বের করিনি। কিন্তু স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিজয় শিখা চত্বরে এসে মহিউদ্দিন ভাইকে খুঁজেছি। দলের অনেক নেতাকর্মী ও প্রশাসনের লোকজন সকালে বিজয় শিখা চত্বরে এসে মহিউদ্দিন ভাইকে খুঁেজছেন। কেউ কেউ নীরবে চোখের পানিও ফেলেছেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর বিজয় দিবসের প্রাক্কালে রাত ১২টা ১ মিনিটে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বপ্রথম ফুল দিতেন মহিউদ্দিন ভাই। এবার ফুল দিতে গিয়ে মহিউদ্দিন ভাইকে আমি পায়নি। তাতে মনে হয়নি আমি শহীদমিনারে ফুল দিয়েছি। ফুল দিতে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিককর্মী, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন কারও মুখে হাসি ছিল না। সবার মুখ ছিল মলিন, শোকে মূহ্যমান।
বিজয় দিবসের কোনো কর্মসূচিতে ছিল না কারো উচ্ছ্বাস। সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো করেনি বিজয়ের আনন্দ অনুষ্ঠান। বিজয় দিবসে ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাথা’ শোনাতে গিয়ে বারবার শুনিয়েছেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মৃতিকথা। দলীয় সংগঠন, জেলা প্রশাসন, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক নেতা বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় মহিউদ্দিন চৌধুরীকে স্মরণ করে বক্তব্য শুরু এবং শোক প্রকাশ করে বক্তব্য শেষ করেছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও বলেছেন একই কথা। মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। কিন্তু তিনি কোনো সময় কাউকে প্রতিপক্ষ মনে করেননি। তিনি চট্টগ্রামের গণমানুষের নেতা ছিলেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নই ও গণমানুষের কল্যাণই ছিল তার মূল রাজনীতি। তার মতো নেতা হয়ে ওঠা ভবিষ্যতে হয়তো আর কারও হবে না। তিনি সবার মনের মাঝেই ছিলেন। তাই বিজয় দিবসেও তার শোকের ছায়া বিরাজমান ছিল সর্বত্র।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর নসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে কথায় কথায় স্মরণ করেছেন। শোক ও তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বক্তব্য শেষ করেছেন। সব বক্তার মাঝে মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকের ছায়া ছিল স্পষ্ট।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবছর বিজয় দিবসে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু এবারের আলোচনা সভায় তার অনুপস্থিতি বিজয় দিবসের আলোচনা সভাকে মনে হয়েছিল মলিন। পুরো আলোচনা সভা মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকে মুহ্যমান ছিল। আলোচনা সভায় প্রতিটি বক্তা মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভুল করেননি।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন জানান, চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালন করলেও তা ছিল মহিউদ্দিন শোকে মলিন। সংগঠনের প্রতিটি আলোচনা সভা মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোক সভায় পরিণত হয়েছে। বিজয়ের আনন্দের বদলে নেতাকর্মীরা চোখের পানি ফেলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার শান্তির সঙ্গে নেতাকর্মীরা মহিউদ্দিন চৌধুরীর আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া মিলাদ মাহফিল করেছেন।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সিংহপুরুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন হৃদরোগ ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ই ডিসেম্বর শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালের সিইইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে আসে।
চট্টগ্রামে ৩ দিনের শোক: সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে তিনদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মহিউদ্দিন চৌধুরীর দাফন কাজ শেষে রাতেই মরহুমের চশমা হিলের বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের জরুরি বৈঠকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচি আওতায় রবি, সোম ও মঙ্গলবার নগরীর কোতোয়ালি থানার দারুল ফজল মার্কেটের দলীয় কার্যালয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিকের কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ব্যাংক কোম্পানি আইন পাস, জাপার ওয়াকআউট

২০ হাজার টাকায় ১ বছর ক্লাস, অতঃপর...

শাম্মী আখতারের মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া

ট্রেনে কাটা পড়ে রেলওয়ে কর্মকর্তার মৃত্যু

শাম্মী আখতারের জানাজা কাল বাদ জোহর

আইভী-শামীম সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

শাম্মী আখতার আর নেই

স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির রায়

‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে জিতবে তাবিথ’

‘মিথ্যা মামলায় খালেদার কোনো ক্ষতি হবে না, জনপ্রিয়তা বাড়বে’

ডিএনসিসি উপনির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট, আদেশ বুধবার

জেলপলাতক ৩ বাংলাদেশিকে এখনো ধরা যায়নি, সীমান্তে নজরদারি

অনশন ভাঙলেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা

পুতিনই হবেন রাশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট

শেকলে বাঁধা সন্তান, উদ্ধার ১৩, গ্রেপ্তার পিতামাতা

মার্কিন কূটনীতিকদের তলব করেছে আফ্রিকার ৫ দেশ