ওআইসির ঘোষণা

পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০৮
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করেছে মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতামুলক সংগঠন ওআইসি। তাদের এ পদাঙ্ক অনুসরণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে। বুধবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসির জরুরি সম্মেলন থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। এ সময় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেম ইস্যুতে যে অবস্থান নিয়েছে তা বিপদজনক। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান বর্তমানে ওআইসির সভাপতি। গত সপ্তাহের বুধবারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেন।
এ নিয়ে মুসলিম বিশ্ব সহ সচেতন মহল ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। দেশে দেশে পোড়ানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা। এমন অবস্থায় করণীয় নির্ধারণ করতে জরুরি ভিত্তিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ওআইসির জরুরি সম্মেলন আহ্বান করেন এরদোগান। তার আহ্বানে নিয়মিত কর্মকা- বাদ দিয়ে সদস্য দেশগুলোর নেতারা যোগ দেন ইস্তাম্বুলের সম্মেলনে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। আহ্বান জানানো হয়, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ও পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানীর স্কীকৃতি দিতে। সম্মেলন শেষে ওআইসি এক বিবৃতি দেয়। তাতে বলা হয়, ৫৭ সদস্যের এই গ্রুপটি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয় ফিলিস্তিনের ভূমি ইসরাইলের দখলমুক্ত করার। বলা হয়, যদি অবৈধ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহ্যার করা না হয় তাহলে সমস্ত পরিণতির জন্য দায়ী থাকবে ট্রাম্প প্রশাসন। ওআইসির বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা মনে করছি (ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঘোষণা) অত্যন্ত ভয়াবহ। এর মধ্য দিয়ে (ওই শহরের) আইনগত মর্যাদা পরিবর্তন বোঝানো হয়। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত সারশূন্য। এর কোনো আইনগত বৈধতা নেই। এ নিয়ে আল জাজিরার সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, ইস্তাম্বুলের এই সম্মেলনে যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ফিলিস্তিনি, আরব ও মুসলিমরা। এখন মুসলিম দেশ ও অন্যরা, যারা ফিলিস্তিনের মিত্র তাদের উচিত জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা যারা সমর্থন করবে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে এসব মুসলিম দেম। বুধবার দিনের শুরুতে ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেল ইউসেফ আল ওথাইমিন তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন। মুসলিম নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান এমন পদক্ষেপের জবাবে একত্রিত হয়ে কাজ করতে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের নিন্দা ও তা প্রত্যাখ্যান করছে ওআইসি। এ ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের অনুভূতিতে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক এবং তার ধারাবাহিকতায় বিশ্বে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। তার বক্তব্যের আগে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘোষণার মাধ্যমে ভবিষ্যত ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি আলোচনায় নিজেদেরকে অযোগ্য করে তুলেছে। তারা ইসরাইলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ওআইসি। এরপর থেকে তারা মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত কণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গত ৬ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। কিন্তু তাতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে এখনও তার এ সিদ্ধান্তে সমর্থন আসে নি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাকে বিমুখ করেছে তারা। সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার ওই সিদ্ধান্ত মানে না। এমনই এক প্রেক্ষাপটে মাহমুদ আব্বাস ওই সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। শান্তি আলোচনায় তাদের কোনো ভূমিকা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী এবং সব সময়ই তা থাকবে। ফিলিস্তিনিরা সব সময়ই তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখে থাকে পূর্ব জেরুজালেমকে। এই অংশটি মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। ১৯৬৭ সালে যুদ্ধের সময় ইসরাইল এই পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। কিন্তু ফিীলস্তিন তা মানে না। তাই বুধবার জেরুজালেম ইস্যুতে সবচেয়ে কড়া বক্তব্য উপস্থাপন করলেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট আব্বাস। ওদিকে ফিলিস্তিনের রামাল্লাহয় অবস্থান করছিলেন আল জাজিরার সাংবাদিক হোদা আবদেল হামিদ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর অনেক নিন্দা জানানো হয়েছে। তা ছাড়া অনেক চুক্তি হয়েছে অতীতে। কিন্তু কোনো কিছুতেই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আসে নি। তাই অত্যন্ত হতাশায় ভুগছে ফিলিস্তিনিরা। উল্লেখ্য, বুধবারে ইস্তাম্বুলের সম্মেলনে ২০ টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদি আরব শুধু তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে দায় শোধ করেছে। মিশর ও অন্য কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এতে যোগ দিয়েছিলেন। এই সম্মেলনের চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার বক্তব্যে ইসরাইলকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বলে অভিযুক্ত করেন। বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণা সারশূন্য। কারণ, শুধু সুবিধাভোগী ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশ তার এ সিদ্ধান্তে সমর্থন দেয় নি। দু’এক মিনিট যদি কেউ জেরুজালেমের রাস্তায় হাঁটেন তাহলে তিনি বুঝতে পারবেন এটি একটি দখল করে নেয়া ভূমি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Omar Faruque

২০১৭-১২-১৪ ০৭:২৯:৪৮

খুব বেশি জরুরি, আল্লাহ্ SWT যাদের কে সমস্ত মুসলিম রাষ্টের প্রধান বানিয়েছেন তাদের একত্রিত হওয়া।

রুহুল আমিন

২০১৭-১২-১৪ ০৫:৫৯:২২

ধন্যবাদ o i c কে। বিশ্বের মুসলিম এক হও।

Sk.lokman.hossain

২০১৭-১২-১৩ ২৩:০২:৩৬

মহান আল্লাহ তা'য়ালা দুনিয়ার সকল মুসলমানদেরকে হিফাজত করুন।আমীন।

sdd

২০১৭-১২-১৪ ১১:২২:৪৯

ট্রাম্পের সাথে OIC-র ঘোষণার তফাৎ হল, ইসরাইল ট্রাম্পের ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে পারবে, ফিলিস্তিন OIC-র ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এরদোগান নিজেকে নেতা হিসেবে প্রমান করতে চাইছেন, কিন্তু ভুল পথে তা হয় না। যেমনটি মাহাথির মালয়েশিয়ার সফল নেতা হলেও মুসলিম নেতা হিসেবে সফল হন নি, হবার কথা নয়। যখন আমরা বিশ্বের কথা বলি, তখন জাতি-ধর্মের উর্ধে উঠে বিশ্ব মানুষের কথা বলতে হয়। মাহাথির ও এরদোগান দুজনেই এখানে ব্যর্থ। দুজনেই মুসলিম নেতা হতে চেয়েছেন, বিশ্ব তাদের মূল্যায়ন কেন করবে!

Salim Khan

২০১৭-১২-১৪ ১১:০৩:৩৪

সাবাশ O I C, কাফের মুশরিক বিজাতীয়দের অন্যায় অবিচার ও দৈত নীতির বিরুদ্ধে সব সময় এধরণের সক্রিয় ভূমিকা রাখা দরকার। Congratulations.

আপনার মতামত দিন

শাম্মী আখতার আর নেই

স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির রায়

‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে জিতবে তাবিথ’

‘মিথ্যা মামলায় খালেদার কোনো ক্ষতি হবে না, জনপ্রিয়তা বাড়বে’

ডিএনসিসি উপনির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট, আদেশ বুধবার

জেলপলাতক ৩ বাংলাদেশিকে এখনো ধরা যায়নি, সীমান্তে নজরদারি

অনশন ভাঙলেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা

পুতিনই হবেন রাশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট

শেকলে বাঁধা সন্তান, উদ্ধার ১৩, গ্রেপ্তার পিতামাতা

আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা

ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের তলব করেছে আফ্রিকার ৫ দেশ

আপিলের অনুমতি পেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

যৌন হেনস্থা নিয়ে ভয়ে মুখ খুলছেন না বলিউড অভিনেত্রীরা!

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এক কোটি ওন দান করলেন অভিনেত্রী লি হানি

খালেদার শেষ, সালিমুল-শরফুদ্দিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক মুলতবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় মুক্তিপণ দেয়ার পরও খুন এক বাংলাদেশী