ক্যাপিট্যাল প্রেসে তল্লাশি ও শফী খান

মিডিয়া কর্নার

| ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:৪৭
প্রয়াত প্রখ্যাত সাংবাদিক ফয়েজ আহমদের লেখা বহুল পঠিত গ্রন্থ ‘সত্যবাবু মারা গেছেন’। ওই বইয়ের প্রথম অধ্যায় ‘ক্যাপিট্যাল প্রেসে তল্লাশি ও শফী খান’। 

অনেকেই কিন্তু আশঙ্কা করেছিলেন, হামলা হবে। পুলিশের এ অভ্যাসটা আজকের নয়, প্রেস আবিষ্কারের পর থেকেই। দেশে গণ আন্দোলন হলেই সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের লোক নানা প্রেসে ঘুরে বেড়ায়; আর সময়ে অসময়ে আকস্মিক হামলা চালায় রাইফেল হাতে। সে অনেক পুরোন কাল থেকে শুরু হয়েছে- স্বাধীনতাকামী বা আন্দোলনমুখর যে কোন দেশেই যেন স্বরাষ্ট্র বিভাগের বাঁধা নিয়মে ‘বেআইনি’ প্রচারপত্র বা পুস্তিকার সন্ধানে পুলিশ তো অহরহ মাঠে নেমেই আছে।
বন্ধু মোহাম্মদ শফী খানের প্রেসটিও এমনিভাবে পুলিশের শিকার হয়ে দাঁড়ালো। বছরখানেক আগে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আমরা রাজনৈতিকভাবে স্বাধীনতা পেয়ে আত্মপরিচয়ের প্রয়োজনে নানা দিক থেকে বিকাশের পথ খুঁজছি।
কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই এই অঞ্চলের মানুষ ভাষা-সংস্কৃতি রাজনৈতিক দিক থেকে যে বিদ্রোহের পথ অবলম্বন করতে বাধ্য হলো, তা ছিল সরকার বা শাসক নির্দেশিত পথের বিপরীত। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসের প্রথম ভাষা আন্দোলন, পরবর্তী বছর এপ্রিলে টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে শামসুল হকের কাছে লীগ প্রার্থী খুররম খান পন্নীর পরাজয় বরণ, সেই বছর মুসলিম লীগ শাসন-বিরোধী প্রথম বৃহৎ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্ন বেতনভুক কর্মচারীদের সাথে ছাত্রদের আন্দোলন এবং পঞ্চাশে শাসনতন্ত্রের রূপরেখা সম্বলিত মূলনীতি কমিটির রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন ঢাকা ও প্রদেশে নতুন রাজনৈতিক চেতনা ও চিন্তাধারা বিস্তারের পথ উন্মুক্ত করছিল।
এমন ক্রমবর্ধমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির সময় আমরা অনেকে পুরোন শহরের একটা প্রেসে আড্ডা দিতে যেতাম। কেন্দ্রয় জেল গেটের মুখোমুখি বেগম বাজার রোডের কোণার এক তলার বাড়িটাই ছিল শফী খানদের ছোট প্রেস, ক্যাপিট্যাল প্রিন্টিং প্রেস। ভারত বিভাগের পর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত আদি গুটিকয় প্রেসের অন্যতম। জেল গেট আর এই প্রেসের মাঝামাঝি চৌমাথায় বৃটিশ শাসনের সাক্ষী এক প্রাচীন বটবৃক্ষ এই সেদিন পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিল। এক সময় পূজারী সন্ন্যাসীদের বৈঠক বসত এই বটমূলে। কয়েদীদের আত্মীয় স্বজন আপনজনের দর্শন লাভের আশায় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে এই বটের ছায়াতলে বিশ্রাম নিত। সেই যুগের সাক্ষী বটবৃক্ষটির বৃক্ষঘাতকদের হাতে শেষ পর্যন্ত ফাঁসি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী কর্ণেল তাহেরের প্রবঞ্চণাপূর্ণ বিচার ও তড়িৎ ফাঁসির সময় এই বটের পার্শ্বস্থ পুলিশ ব্যারাকে সারিবদ্ধ মেশিনগান স্থাপন করা হয়েছিল। জেল গেটের ছাদের উপর রক্ষিত মেশিনগানের নল এই চৌমাথাকে লক্ষ্য করেই যেন নির্দেশের অপেক্ষায় জাগ্রত ছিল। সেই বটমূলের আশপাশের এলাকা যে কি ভয়াবহ হয়ে উঠলো! বটমূল আর জেল পুলিশের মুখোমুখি ক্ষুদ্র দুটি কক্ষেই আটচল্লিশ সাল থেকে দীর্ঘদিন আমাদের আড্ডা ছিল; প্রেসের মালিক শফী খান আমাদের সক্রিয় সহযোগী। পুলিশের নজর সেই ক্ষুদ্র প্রেস যুক্ত প্রাচীন বাড়িটার উপর সে সময় থেকেই; পুলিশের খাতায় এমন প্রেস ঢাকায় আরো ছিল।
পাটুয়াটুলিস্থ ‘বিজয়া প্রেস’ কোলকাতার নামে ‘সওগাত প্রেস’-এ রূপান্তরিত হবার পূর্বে আমরা অনেক তরুণ লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী বন্ধু শফীর ক্যাপিট্যাল প্রেসে মিলিত হতাম। হাসান হাফিজুর রহমান, মাহবুব জামাল জাহেদী, মুস্তফা নূর-উল-ইসলাম, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আনিস চৌধুরী, বদরুল হাসান, বাহাউদ্দিন চৌধুরী, গোলাম রহমান এবং আরো অনেকের সাথেই এ প্রেসের যোগাযোগ ছিল। প্রকৃতপক্ষে হাসান হাফিজুরের মাধ্যমেই ক্যাপিট্যাল প্রেসে গোপন কাগজপত্র আসতে আরম্ভ করে। জাহেদী সায়েব ও শহীদুল্লাহ কায়সার গোপনে যোগসূত্র রক্ষা করতেন। বন্ধুরা আসতেন পাজামা-পাঞ্জাবীর উপর ঝুলি কাঁধে; আসতেন ক্ষয়প্রাপ্ত স্যান্ডেল পায়ে, ফুল-হাতা জামা গায়ে। তখনো হাওয়াই সার্টের প্রচলন হয়ে ওঠেনি; প্যান্টের স্থানটা তখন পর্যন্ত পাজামা দখল করে আছে। আর হেঁটেই শহরটা মই দিয়ে বেড়াতাম। শফী সায়েব কোন দিনই কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। কিন্তু বিপজ্জনক পরিস্থিতি মধ্যেও তিনি গোন প্রচারপত্র বা পুস্তিকা তার প্রেসে ছাপার ব্যাপারে কোন আপত্তি জানিয়েছেন বলে প্রমাণ নেই।
আজ থেকে তেত্রিশ বছর পূর্বে (১৯৫০, আগস্ট) ঢাকা শহরের প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক পত্রিকাগুলির বিপরীতে সম্ভবত প্রথম প্রগতিশীল মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘মুক্তি’ মুদ্রিত হয়েছিল এই ক্যাপিট্যাল প্রিন্টিং প্রেসে; যার যৌথ সম্পাদনা করেছেন আবদুল গণি হাজারী ও মাহবুব জামাল জাহেদী। আর এই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন সরদার জয়েন উদ্দিন। সমসাময়িক কালে (বাংলা ১৩৫৭) শফী খানের নিজের উদ্যোগে একটি প্রগতিশীল শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকা বের করেছিলেন, ‘হুল্লোড়’। আমি সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলাম এবং সম্পাদনা পরিষদে ছিলেন অধ্যাপক অমিয় চক্রবর্তী, অধ্যাপক অজিত গুহ, কবি হাবিবুর রহমান ও শিল্পী কামরুল হাসান।
এই পত্রিকাটি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রথমেই বিপদে পড়লাম কভার ব্লক নিয়ে। ঢাকায় তখন ব্লক কোম্পানি, বিশেষ করে রঙিন ব্লক করার কোন ব্যবস্থাই ছিল না। অনেকে চেষ্ট করে কোলকাতা থেকে ব্লক করিয়ে আনতেন। শেষ পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া গেল কোলকাতা থেকে আগত মধ্যবয়সী এক কারিগরের- যিনি থাকেন নারিন্দার পুল পেরিয়ে এক এঁদো গলি ঠাকুর দা লেনে। তিন মাস সময় নিয়ে হাতে খোদাই করে তিনি কামরুল হাসান অঙ্কিত দু’ কালারের কভার ব্লক করেছিলেন। মদন মোহন বসাক রোডের (বর্তমানে টিপু সুলতান রোড) আধুনিক ‘স্ক্রিন ব্লকের’ কারখানাটি তখনো সচল নয়। তখন ছোটদের জন্য লেখা ও লেখককের সংখ্যা এতো সীমিত যে, অমিয় চক্রবর্তী, অজিত গুহ, আলাউদ্দিন আল-আজাদ, সরদার জয়েন উদ্দিন, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, এমন কি ফররুখ আহমদকে দিয়েও শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা তৈরী করিয়ে নিতে হয়েছে। কাজ ছিল আমার প্রতিদিনই তাগাদা। এঁরা ছোটদের জন্য লেখা তখন থেকেই শুরু করেন। কবি ফররুখ আহমদের ছোটদের জন্য প্রকাশিত কবিতা ‘হাসির গান’ প্রথম এ পত্রিকাতেই বের হয়।
একদিন এক কিশোর মোটা খামে একটা লেখা অফিসে আমার হাতে দিয়ে বলল: আপনার হাতেই দিতে বলা হয়েছে। এ, এম, এম, শহীদুল্লাহ ‘বাবা’ নামে একটি গল্প পাঠিয়েছেন। সেবারের সংখ্যায় প্রকাশিত উক্ত গল্পটির লেখক শহীদুল্লাহ আসলে পরবর্তী কালের প্রখ্যাত লেখক শহীদুল্লাহ কায়সার। পুলিশের তাড়নায় তখন তিনি ভূতলবাসী। যতোদূর জানি, ঢাকার এটি তার প্রথম প্রকাশিত সাহিত্য রচনা।
রাজনৈতিক অঙ্গনে গণতান্ত্রিক শক্তির তৎপরতা পর্যায়ক্রমে যখন বৃদ্ধি পাচ্ছিল, সে সময় আরমানিটোলা ময়দানই ছিল সভা-সমিতিতে মতপ্রকাশের প্রধান প্রাণকেন্দ্র- পল্টন ময়দানে নয়। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এই ময়দানে কোন না কোন প্রকার রাজনৈতিক সভা হতো। এমনি একটি গ্রেফতার ও নির্যাতন বিরোধী সভার আয়োজন করা হয়েছিল এই ময়দানে ১৯৫০ সালের ১৯শে জুলাই। বিরোধী দল ও তাদের সমর্থকদের এমন বৃহৎ জনসভা সম্ভবত ইতিপূর্বে আর দেখা যায়নি। সেদিনই জনাব সোহরাওয়ার্দ্দীর ঢাকা আগমনের কথা এবং পূর্বাহ্নেই প্রচার করা হয়েছিল যে, তিনি উক্ত সভায় বক্তৃতা করবেন। সে কারণেই জনসমাগম আশাতীত ছিল। যাঁর ‘শিরচ্ছেদ’ করার হুমকি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, তাঁকে দেখতে আসাটাই ছিল স্বাভাবিক। তিনি সেবার ঢাকায় টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে বিজয়ী তরুণ নেতা শামসুল হকের (ইতিমধ্যে তিনি আঃ মুঃ লীগের সাদারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।) পক্ষে নির্বাচনী মামলা পরিচালনা করতে এসেছিলেন। জনাব সোহরাওয়ার্দী জীপ যোগে ময়দানে পৌঁছানো মাত্র ঢাকার পুলিশ সুপার ১৪৪ ধারা জারী করে সভা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন এবং সোহরাওয়ার্দীকে জানালেন যে, নির্বাচনী মামলার বাইরে তিনি কোন প্রকার রাজনৈতিক কর্মকা-ে যোগদান করতে পারবেন না। তাঁকে ২৮শে জুলাই এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলীয় ও গণতান্ত্রিক শক্তির সংগ্রামের প্রথম অধ্যায় কেটেছে আরমানিটোলা ময়দানের রণক্ষেত্রে। এর প্রধান কারণ ছিল মন্থরগতিতে নতুন শহরের সম্প্রসারণ। রেল লাইন পার হলেই যেন আমরা অন্য একটা বিশ্বে এসে পৌঁছাতাম।
এর ফলে পুরোন শহরের রেস্তোরাঁগুলোই প্রথম দিকে আমাদের তর্ক-বিতর্ক বা আড্ডার প্রধান কেন্দ্র ছিল। জেল গেটের মুখোমুখি ক্যাপিট্যাল প্রেস থেকে চকবাজার আর কতো দূরে? লালবাগের দিক থেকে চক সার্কুলার ঘুরে বাসগুলো এসে এখানেই দাঁড়াত, সদরঘাটের পথে। কুব্জ দেহ আহত কচ্ছপের মতো বাসটা মোগলটুলির মুখে এসে দাঁড়ালেই ‘আজিজিয়া হোটেল’। বা দিকে কিছুটা সুড়ঙ্গ পথ, তারপরই গবাক্ষহীন একটি বক্র কক্ষ। চুল্লির ধোঁয়ায় সর্বক্ষণ আচ্ছন্ন রেস্তোরাঁটির বৈদ্যুতিক বাল্বগুলো দিনের বেলা নিকটবর্তী তারকার মতো জ্বলতো; এখানে আলোতে দিনের চাইতে রাতেই আমরা পরিস্কার দেখতাম সবকিছু- ঘনীভূত অন্ধকারে আলোর প্রাধান্য হতো স্বাভাবিক। এ হোটেলে মাংস আর রুটির মূল্য এমনই সস্তা ছিল যে, সেই সদরঘাট থেকে হেঁটে এসেও আজিজিয়ায় তৃপ্তির সাথে ভোজন সমাপ্ত করেছি। চকবাজার এলাকাতেই স্থানীয় বাসিন্দা ব’নজীরের সাথে সাক্ষাৎ হয়। কবি বেনজীরের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তবে তিনিও কবিতা লিখতেন। সাদা লুঙ্গি-সার্ট, দীর্ঘ কেশ, হাতে আর মুখে পান। নিকটবর্তী চিলুমপট্টী ও চুরিহাট্টার বন্ধুরা তখন তার সাথী। চাখানায় উদীয়মান লেখক পরিবেষ্টিত হয়ে আড্ডা দিয়ে তিনি যৌবনে যুবরাজ ছিলেন।
এমনি আর এক উদাসীন বন্ধু খালেদ চৌধুরীর পরবর্তী কালে আড্ডা ও খাদ্য গ্রহণের দীর্ঘ দিনব্যাপী নির্ধারিত হোটেল ছিল ইসলামপুরে। ‘আদেল-খলিল’ প্রতিষ্ঠানের সম্মুখে টিনের চালায় নীচে সাধারণ মানুষের হোটেলটি ছিল তার অতি প্রিয়। কিন্তু এখানে কোলাহলপূর্ণ বড় রাস্তার উপর সাহিত্যিকদের আগমনের বিশেষ আগ্রহ ছিল না। তবুও আমরা যেতাম তার খাদ্যের আকর্ষণে; আর তার আগ্রহ ছিল বন্ধুদের সিগারেট লাভে।
বাংলাবাজারের একটু ভেতরে গেলেই এখনো শ্রীশদাসা লেনে প্রাচীন জমিদার বাড়ির পরিত্যক্ত ফটকের পাশেই ‘বিউটি’ হোটেলের সন্ধান পাওয়া যাবে। বছরের পর বছর সুদূর বেগমবাজারের প্রেস থেকে হেঁটে এসে এখানে সুস্বাদু পুরির লোভে উপস্থিত হয়েছি। তরুণ সাহিত্যিকদের দীর্ঘস্থায়ী আড্ডা অনেক সময়ই আমাদের জমাট করে রাখতো।
কিন্তু পুরোন ঢাকার রায় সাহেবের বাজারের সেই সর্বজন পরিচিত ‘ইসলামিয়া হোটেলে’ আমাদের মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি হয়তো নেই, যিনি একবারও সেখানে বিশেষ ধরনের মাংস রান্নার স্বাদ লাভ করেননি। তবে এখানে আড্ডার চাইতে খাদ্যের আকর্ষণটাই পঞ্চাশের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছিল বেশী। পত্রিকা অফিস থেকে বেরিয়ে রাত দুটোর পরও আমরা খাদ্য পেয়েছি এই রেস্তোরাঁয়, সেদিক থেকে রেস্তোরাঁটা ছিল মূল্যবান।
আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, বা যে রেস্তোরাঁতেই খেতে যাই না কেন, রাজনৈতিক প্রচারপত্র ছাপাতে বা সাহিত্যের তাৎক্ষণিক আড্ডা দিতে মাঝে মাঝে ক্যাপিট্যাল প্রেসে গিয়ে উপস্থিত হওয়াটা ছিল অভ্যাস। একান্ন সালের মার্চ মাসে যুব সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। ২৭ শে ও ২৮শে মার্চ ঢাকা বার লাইব্রেরি হলে এই সম্মেলন হবার কথা ছিল। এই সম্মেলনেই ঐতিহাসিক যুবলীগের প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চলে। কিন্তু সরকার ১৪৪ ধারা জারী করে সম্মেলন অনুষ্ঠানের পথে বাধা সৃষ্টি করেন। এই বাধা এড়াবার জন্য প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সম্মেলনে আগত যুব সম্প্রদায় বুড়িগঙ্গার অপর পারে ভাসমান গ্রীন বোটে অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম যুব সম্মেলনে যোগদান করে। যুবলীগের জন্ম এ ভাবে।
যুবলীগ প্রতিষ্ঠার এই আয়োজন চলাকালে, সম্মেলনের ক’দিন পূর্বে আমরা ক’জন বন্ধু শফী খানের ক্যাপিট্যাল প্রেসে জমজমাট আড্ডায় নিমগ্ন ছিলাম। সন্ধ্যার পর সাতটার দিকে একদল গোয়েন্দা উক্ত প্রেসে পুলিশ সহ দ্রুত প্রবেশের পর তল্লাশি চালাতে শুরু করে। নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতেই যেন এই তল্লাশি চলছিল। যুব সম্মেলনের কোন প্রচারপত্র এই প্রেসে ছাপানো হচ্ছে বলেই তাদের কাছে খবর পৌঁছায়। কিন্তু বেআইনি বা সরকার বিরোধী কোন প্রচারপত্রের সন্ধানই তারা পেলেন না।
শফী সায়েব সাধারণত রাগতেন না। তার বক্তব্যে এমন কোন শব্দ থাকতো না, যা অন্যকে ক্ষুব্ধ করে। তিনি নিঃশব্দে বসেছিলেন। তল্লাশির দায়িত্বে নিযুক্ত অফিসার প্রেস থেকে বেরিয়ে যাবার সময় শফী খান বললেন: গত ক’বছরে আমাদের প্রেসটা আপনারা ভূয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচবার তল্লাশি করেছেন। কোন বারই তো কিছু পেলেন না।
অফিসার হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন: একবার পাওয়া যাবে।

[আগামীকাল পড়ুন বইটির দ্বিতীয় অধ্যায় ‘গাভীর হাম্বা রব যদি ভাষা হয়’।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

হ্যান্ডকাফসহ পালালো আসামি

‘ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত সরকারেরই নীল নকশার অংশ’

২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে আন্দোলন

সাক্ষ্য দেবেন না স্টিভ ব্যানন

‘সবকিছুতে সরকারের যোগসাজশ খোঁজেন কেন?’

রাখাইনে বৌদ্ধদের দাঙ্গা, গুলিতে নিহত ৭

৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের আদেশ হাইকোর্টের

ভয়াবহ বিপদজনক চুক্তি

যুক্তি তর্ক শুনানি চলছে, আদালতে খালেদা

ঢাকা উত্তরের মেয়র উপনির্বাচন স্থগিত

উত্তরা মেডিকেলের ৫৭ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা নেই

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ

মিয়ানমার অনুমতি দেয় নি, কাল বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর

‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন অবৈধ’

‘তেমন ভালো কাজ তো এখন হচ্ছে না’

আইভী-শামীম মুখোমুখি, সংঘর্ষ