লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি প্রার্থীদের

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৯
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কমিশনের কাছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিসহ সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি জানালেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। গতকাল তিনি রংপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এসপি মিজানুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব কথা বলেন। এরপর সেন্ট্রাল রোড, জুম্মাপাড়া মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় তার সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন। ওদিকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশঙ্কা তুলে বিএনপি প্রার্থী  কাওসার জামান বাবলা ভোটারদের বলেন, সরকার দলের প্রার্থী একের পর এক আচারণ বিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। প্রশাসনসহ সরকারদলীয় লোকজনের ভূমিকাও ভালো মনে হচ্ছে না। এক্ষেত্রে তিনি ভোটগ্রহণের দিন সেনা মোতায়েনের দাবি জানান।
তিনি স্টেশন এলাকা, রবার্টসনগঞ্জ, মুসলিম পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন। ওদিকে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। তবে তিনিও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি জানান। গতকাল সিটি বাজার, হনুমানতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে ঝন্টু বলেন, বর্তমান সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিস্থিতি রয়েছে স্বাভাবিক। নির্বাচনের পরিবেশ এমন থাকলে আগামী ২১শে ডিসেম্বর নির্বাচনে আবার বিজয় লাভ করবে আওয়ামী লীগের নৌকা। রংপুর সিটি করপোরেশন দখল নিতে মরিয়া আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি। দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে সব নির্বাচন কৌশলই তারা চালাচ্ছেন। ৭ মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলেও এগিয়ে রয়েছেন ৩ প্রধান দলের প্রার্থী। জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ নবাবগঞ্জ বাজারে নির্বাচনী প্রচারণাকালে বলেন, ভোটাররাই আমার একমাত্র ভরসা। আমি কারো বিপক্ষে কথা বলবো না। আমাকে যোগ্য মনে হলে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তিনি বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যার কারণে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন।
ওদিকে নির্বাচনে আচরণ বিধির কোনো তোয়াক্কাই করছেন না মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী মেয়র প্রার্থীরা নগরের ৬ এলাকায় নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন। কিন্তু বড় ৩ দলের মেয়র প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ এ বিধানের তোয়াক্কা না করে প্রতিটি ওয়ার্ডেই একাধিক ক্যাম্প স্থান করেছেন। একজন কাউন্সিলর প্রার্থী তার ওয়ার্ডে একটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে। সেখানে একাধিক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে ৩৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী ক্যাম্প রয়েছে ৭টি। রংপুর জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন মানবজমিনকে জানান, নির্বাচনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে ১১ ভিজিলেন্স টিম কাজ করছে। এসব টিমের দায়িত্বে রয়েছে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন যাতে কোনো খানে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়।  

‘টপ হিরো অব দ্য রংপুর’
সেলিম আক্তার। তিনি রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে মনোনয়ন নিয়ে ন্যাপ ভাসানী, ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি, জাগপা, মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ ইসলামী পার্টি, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পার্টিসহ দশ দলীয় জোটের ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)-এর সমর্থিত প্রার্থী। তার প্রতীক আম। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নবীন হলেও কাজে নিজেকে প্রবীণ বলে দাবি করেন। রংপুর নগরীর অবহেলিত, বঞ্চিতদের সেবার লক্ষ্য নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বিগত মেয়র ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলেও রংপুর নগরীর তেমন কোনো উন্নয়ন করেননি। বর্ধিত এলাকাগুলোতে এখনো গ্রামের ছোঁয়া রয়েছে। নগরজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছি। নির্বাচিত হয়ে রংপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, যানজটমুক্ত, মাদকমুক্ত একটি সুন্দর মহানগর উপহার দেবো। যেখানে থাকবে না কোনো অশিক্ষিত মানুষ। তাদের শিক্ষিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। হকার ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। রাস্তা পাড়া-পাড়ের জন্য ওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবো। হতদরিদ্র ও অবহেলিতদের বিনা খরচে চিকিৎসা সেবাসহ অন্যান্য বিশেষ নাগরিক সুবিধা প্রদান করা হবে। ১৮ হাজার ভিজিএফ সুবিধা বঞ্চিতদের সহায়তা দেয়া হবে। ময়লা আবর্জনা মুক্ত নগরী হিসেবে রংপুর সিটি করপোরেশনকে গড়ে তোলা হবে।’ তার এসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির জন্য সমর্থক আনোয়ার হোসেন রুশো বলেন, প্রবীণদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নবীন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, নির্বাচনে অংশ নিয়ে লড়াই করাটাই মুখ্য বিষয়। ভোটার লিটু আনাম, ডলারসহ অন্যরা বলেন, এনপিপি প্রার্থী সেলিম টপ হিরো অব দ্যা রংপুর। এ সময় তার কাছে টপ হিরো আখ্যা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর কক্ষে তার সমর্থকের দেয়া এক বিশাল পোস্টারে লেখা রয়েছে ঝন্টু হিরো অব দ্যা রংপুর। ঝন্টুসহ জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও বিএনপির কাওসার জামান বাবলার মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অর্থই হচ্ছে টপ হিরো অব দ্যা রংপুর।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

শাম্মী আখতার আর নেই

স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির রায়

‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে জিতবে তাবিথ’

‘মিথ্যা মামলায় খালেদার কোনো ক্ষতি হবে না, জনপ্রিয়তা বাড়বে’

ডিএনসিসি উপনির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট, আদেশ বুধবার

জেলপলাতক ৩ বাংলাদেশিকে এখনো ধরা যায়নি, সীমান্তে নজরদারি

অনশন ভাঙলেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা

পুতিনই হবেন রাশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট

শেকলে বাঁধা সন্তান, উদ্ধার ১৩, গ্রেপ্তার পিতামাতা

আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা

ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের তলব করেছে আফ্রিকার ৫ দেশ

আপিলের অনুমতি পেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

যৌন হেনস্থা নিয়ে ভয়ে মুখ খুলছেন না বলিউড অভিনেত্রীরা!

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এক কোটি ওন দান করলেন অভিনেত্রী লি হানি

খালেদার শেষ, সালিমুল-শরফুদ্দিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক মুলতবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় মুক্তিপণ দেয়ার পরও খুন এক বাংলাদেশী