সরাইলে ২ সন্তানসহ গৃহবধূ নিখোঁজ

এক্সক্লুসিভ

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:২৪
সরাইলে ২ সন্তানসহ সামিরা আক্তার ঝর্ণা (৩০) নামের এক গৃহবধূ ৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। স্বামীসহ পরিবারের লোকজনের দাবি এটা পরিকল্পিত অপহরণ। ৫ই ডিসেম্বর কালিকচ্ছের নন্দিপাড়া পিত্রালয় থেকে স্বামীর বাড়ি সরাইল সদরের বড় দেওয়ান পাড়া আসার পথে নিখোঁজ হয়েছেন তারা। নিখোঁজ গৃহবধূর ছেলে তামিম (১১) ও মেয়ে নওরীন (০৫)। ৮ই ডিসেম্বর গৃহবধূর পিতা আব্দুর রফিক লস্কর সরাইল থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ বেনু দাস (৪৮) নামের এক অটোরিকশা চালককে আটক করেছে।
পুলিশ, জিডি ও গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে বড় দেওয়ান পাড়ার শফি উদ্দিন ঠাকুরের ছেলে মোছলেহ উদ্দিন পল্টুর সঙ্গে বিয়ে হয় কালিকচ্ছ ইউনিয়নের নন্দিপাড়া গ্রামের আব্দুর রফিক লস্করের মেয়ে ঝর্ণার। স্বামী পল্টু ঢাকায় একটি প্রাইভেট চাকরি করেন। বিয়ের পর থেকে সুখেই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। তাদের রয়েছে তামিম ও নওরীন নামের ২টি সন্তান। পিত্রালয় কাছে হওয়ায় ঝর্ণা প্রায়ই বেড়াতে যান। গত ১০-১২ দিন পূর্বে ঝর্ণা ২ সন্তানকে নিয়ে তার পিত্রালয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ৫ই ডিসেম্বর ছেলে মেয়েকে নিয়ে ঝর্ণা স্বামীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কালিকচ্ছ বাজার থেকে বড় দেওয়ান পাড়ায় আসতে তিনি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠেন। এরপর থেকেই সন্তানসহ ঝর্ণা নিখোঁজ রয়েছেন। বাবার বাড়ির লোকজন ভাবছেন ঝর্ণা স্বামীর বাড়িতে চলে গেছে। আর স্বামীর বাড়ির লোকজন ভাবছেন ঝর্ণা তো বাবার বাড়িতে আছে। ৩দিন পর ৮ই ডিসেম্বর স্বামী পল্টু ঢাকা থেকে বাড়িতে আসলে স্ত্রীর মুঠোফোনে কল দিয়ে দেখেন নাম্বার বন্ধ (০১৭১৫৪-১১৯১৫২, ০১৯৩০-২৬৫২৮৫)। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা জানান ৩ দিন আগেই তো ঝর্ণা বড় দেওয়ান পাড়ায় চলে গেছে। স্ত্রী সন্তানের চিন্তায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন স্বামী পল্টু। তাদের সব আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করে কোথাও পাননি। আর ঘটনার দিন থেকেই বন্ধ রয়েছে ঝর্ণার মুঠোফোনটি। ৬ দিনেও তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ঝর্ণার স্বামী পল্টু ও বাবা রফিক লস্কর। ৮ই ডিসেম্বর ঝর্ণার বাবা আব্দুর রফিক লস্কর এ বিষয়ে সরাইল থানায় একটি জিডি করেন (জিডি নং-৩৩৪, তারিখ-০৮.১২.১৭)। ওই রাতেই পুলিশ ঝর্ণাকে বহনকারী অটোরিকশা চালক বেনু দাসকে আটক করেছে। বেনু দাস জানায়, কালিকচ্ছ থেকে ২ সন্তানসহ ঝর্ণাকে নিয়ে সরাইলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সড়কের খাদ্য গুদামের কাছে আসার পর অটোরিকশাটিতে যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দেয়। পরে তাদের আরেকটি অটোরিকশায় উঠিয়ে দেয়। ওই অটোরিকশাটিতে চালকের সঙ্গে একজন যাত্রী সামনের সিটে বসা ছিল। চালককে বেনু দাস চিনেন না। অটোরিকশাটি কোথাকার সেটিও জানেন না। ঝর্ণার স্বামী পল্টুসহ পরিবারের সদস্যদের দাবি এটা পরিকল্পিত অপহরণ। তাদের জোরপূর্বক অথবা অন্যকোনো কৌশলে অজ্ঞান করে নিয়ে গেছে কোনো চক্র। ঝর্ণার সঙ্গে স্বামী পল্টুর সর্বশেষ কথা হয়েছে সোমবার সকালে। ঝর্ণার পিতা রফিক লস্কর বলেন, আমার পাশেই বসবাসকারী রিকশাচালক বিশু দেবকে আমার মেয়ে মালামালসহ পরিচিত একটি সিএনজিতে উঠিয়ে দিতে বলে। পরে বিশু দেব ওই বেনু দাসের অটোরিকশায় উঠিয়ে দিয়েছে। আমার মেয়ের নিখোঁজের ঘটনার সঙ্গে বেনু দাস অবশ্যই জড়িত। সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. মনিরুজ্জামান ফকিরের সার্বিক সহায়তায় নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভিডিও দেখে অস্ত্রধারীদের খোঁজা হচ্ছে

‘অতিষ্ঠ হয়ে প্রেমিককে ছুরিকাঘাত’

ফল প্রকাশের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অবরোধ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সময় লাগবে ৯ বছর!

মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত, আক্রমণের শিকার নাগরিক সমাজ

মেয়র আইভী হাসপাতালে

জিয়াউর রহমানের ৮২ তম জন্মবার্ষিকী আজ

এবার আটকে গেল দক্ষিণের ১৮ ওয়ার্ডের নির্বাচনও

হাথুরুকে দেখিয়ে দেয়ার লড়াই

‘আপনার এত তাড়াহুড়া কিসের?’

সংবাদটি আমাকেও শোকে মুহ্যমান করে ফেলে

‘নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছিল’

৬ মাসের প্রাণ পেলো যশোর রোডের গাছগুলো

সিলেটে রাজনীতির আড়ালে সক্রিয় ‘চিহ্নিত’ অপরাধীরা

‘নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ৮০ শতাংশ ভোট পাবে বিএনপি’

কাজাখস্তানে বাসে আগুন লেগে ৫২ জনের মৃত্যু