রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো

প্রতি সনদে আর্জেন্ট ফি ৩০০ টাকা!

প্রথম পাতা

হাসান শাফিঈ | ৮ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩৯
কাওরান বাজারের টিসিবি ভবনের দ্বিতীয় তলা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অফিস। গার্মেন্টস পণ্যসহ সব ধরনের রপ্তানি পণ্য ইউরোপের ২৮টি দেশে রপ্তানির জন্য এ অফিস থেকে ইস্যু করা হয় ‘জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (জিএসপি)’ সনদ। রপ্তানিকারকরা জিএসপি সনদ নিয়ে পণ্য রপ্তানি করলে বিদেশি ক্রেতারা সংশ্লিষ্ট দেশে সাড়ে ১২ ভাগ কর রেয়াত পান। তবে ইপিবি কর্তৃপক্ষ প্রতিটি সনদের বিপরীতে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে আদায় করছে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা। সংশ্লিষ্টদের কাছে এ অতিরিক্ত অর্থ দেয়ার বিষয়টির পরিচিতি ‘আর্জেন্ট ফি’ নামে।
এভাবে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার সনদের বিপরীতে অবৈধ লেনদেন হচ্ছে ১৫ লাখ টাকার বেশি। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।
সরজমিন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো অফিস ঘুরে দেখা মিলেছে এমন চিত্রের। জিএসপি সনদ পেতে গার্মেন্টস কোম্পানিগুলোর কর্মাশিয়াল ম্যানেজাররা নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, ইপিবি কর্তৃপক্ষ অবৈধ লেনদেনকে এক ধরনের সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে এসেছে। জিএসপি সনদ পেতে গ্রাহকরা ২৪০ টাকায় নির্দিষ্ট ফরম কিনে ব্যাংকে জমা দেন সরকার নির্ধারিত ৫শ’ টাকা। এ অর্থের স্লিপসহ জিএসপি সনদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিলে এবং সব তথ্য সঠিক থাকলে ২৪ ঘণ্টায় অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই জিএসপি সনদ সরবরাহের কথা। ইপিবি অফিসের দেয়ালে একাধিক নির্দেশিকায়ও রয়েছে এমন তথ্য। তবে সরজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত ফি’র বাইরে ‘আর্জেন্ট ফি’র ৩০০ টাকা না দিলে ২৪ ঘণ্টা দূরে থাকুক- সাতদিনেও মেলে না জিএসপি সনদ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইইউভুক্ত ২৮টি দেশে রপ্তানিকারকরা পণ্য রপ্তানিতে জিএসপি সুবিধা পান। দেশগুলো হলো- অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, সলভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৪ সাল থেকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো জিএসপি সেবা প্রদান কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে সম্পন্ন করছে। অনলাইনে জিএসপি আবেদনপত্র জমা করার পর ব্যাংকে জমাকৃত নির্ধারিত টাকার পে-স্লিপ সংগ্রহের পর টাইপ করা জিএসপি’র হার্ড কপি (ইনভয়েস, বিএল, শিপিং রুল ও এক্সপি) ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে জমা করলে ২৪ কর্ম-ঘণ্টার মধ্যে কাগজপত্র সঠিক থাকলে জমাদানের ক্রম অনুসারে জিএসপি সনদ জারি করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত ফি না নেয়ার নিশ্চয়তা দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে কম্পিউটারাইজড সেবা দেয়া অব্যাহত থাকলেও কাগজপত্রে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা দেয়ার সঙ্কেত না থাকলে সহজে মেলে না জিএসপি সনদ।
ফয়সাল আহমেদ নামের একজন গ্রাহক মানবজমিনকে বলেন, ইপিবি রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন লাইসেন্স সুবিধা, জিএসপি সুবিধা, এনরোলমেন্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করে। তবে এসব সনদ পেতে রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন রকম হয়রানির শিকার হতে হয়। সুবিধাগুলো পেতে রপ্তানিকারকদের সব কাগজপত্র নির্ভুল ও সঠিক হতে হয়। তারপরও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়া সনদ পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, সব কাগজপত্র সঠিক থাকলে একজন রপ্তানিকারককে একটি সনদের জন্য অতিরিক্ত ৩০০ টাকা দিতে হয়। এছাড়া, কাগজপত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি থাকলে গুনতে হয় ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা। কোনো ডকুমেন্ট রি-ইস্যু করতেও গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা।
নাদিম হোসেন নামে এক গ্রাহক বলেন, ইপিবি’র সেবা সিস্টেম কম্পিউটারাইজড হওয়ায় কর্তৃপক্ষ চাইলে ৩০ মিনিটেও গ্রাহকদের জিএসপি সনদ ইস্যু করতে পারে। তারপরও সেবা পেতে ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়ার বিষয়টি মেনে নেয়া যায়। তবে ‘আর্জেন্ট ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
সেবা দিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে ইপিবি’র পরিচালক আবদুল মইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্যের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনিও কথা বলেননি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Fazlur Rahman

২০১৭-১২-০৭ ২৩:৫৬:২৪

good

আপনার মতামত দিন