সরকারই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে যেতে বাধ্য হবে

প্রথম পাতা

কাফি কামাল | ৮ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:২১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে একতান্ত্রিক, আত্মঅহমিকামূলক ও জনগণকে বাইরে রেখে আবার ক্ষমতা দখলের ইঙ্গিত বলে মনে করে বিএনপি। কম্বোডিয়া সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে  প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক বক্তব্য দেন, যার বেশির ভাগ তারা খুব একটা গুরুত্ব দেন না। কারও আহ্বানে বা দয়ার উপর ভিত্তি করে নয়, জনগণের ইচ্ছা বা আগ্রহের উপর নির্ভর করেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি। আর প্রধানমন্ত্রী যাই বলুন না কেন- রাজনৈতিক গতিশীলতা পরিস্থিতিকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাবে যখন সরকার বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করতে বাধ্য হবে। বিএনপি’র চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নীতি-নির্ধারক ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দেবে বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক বক্তব্য দেন, যার বেশির ভাগ আমরা খুব একটা গুরুত্ব দেই না। কারণ, তিনি অনেক সময় বক্তব্য দেন, যার রাজনৈতিক মূল্য আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাবে না বরং সরকারকেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বাধ্য করা হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, ‘আর ক্ষমা চাওয়ার বিষয় না, ক্ষমা করে দিয়েছেন। মূল কারণটা হচ্ছে, দেশনেত্রীর ওপরে যে নির্যাতন চলেছে, সরকার যে নিপীড়ন চালাচ্ছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে- এ কারণেই তিনি বলেছেন, আমি ক্ষমা করে দিচ্ছি। আমি কোনও প্রতিহিংসা চাই না।’ জনগণের কাছে খালেদা জিয়াকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমা কাকে চাইতে হবে জনগণই তার বিচার করবে। বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, দেখা যাক- কে, কাকে জনগণের সামনে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়! তা ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রমাণ করবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে কথাগুলো বলেছেন সেটা বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে বলেছেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে অবস্থা ভিন্ন রকম। আগামীতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটতে হবে। রাজনৈতিক গতিশীলতা পরিস্থিতিকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাবে যখন সরকার বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করতে বাধ্য হবে। সুতরাং এখন যে কথাগুলো তিনি বলছেন, সেগুলো তখন অপ্রসাঙ্গিক হয়ে যাবে।
দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যগুলো রাজনৈতিক দিক থেকে একতান্ত্রিক। কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক মতামতের বহিঃপ্রকাশ নয়। দ্বিতীয়ত: উনার প্রতিটি বক্তব্যই আত্মঅহমিকামূলক। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আশা করে না। উনার কাছ থেকে আরও গঠনমূলক ও সৃজনশীল বক্তব্য আশা করেছিলাম। মির্জা আব্বাস বলেন, প্রতিটি মুসলমানের মনে রাখা উচিত, আল্লাহ্‌তালা অহংকারীকে পছন্দ করেন না। অহংকার একমাত্র আল্লাহ্‌র জন্য, মানুষের জন্য নয়। প্রধানমন্ত্রী যাই বলুন না কেন, জনগণের ইচ্ছা ও চাপের মুখে আওয়ামী লীগ যথানিয়মে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, উনার এ বক্তব্য বাকশালকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত। আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যাপারে তিনি সম্পূর্ণ অসত্য কথা বলেছেন।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা জনগণকে বাইরে রেখে আবার ক্ষমতা দখলের পরিষ্কার ইঙ্গিত। তিনি জনগণের ভোটাধিকার ফের হরণ করতে চান। কিন্তু দেশের জনগণকে বাইরে রেখে চাইলেই কি সবসময় সবকিছু হয়। চাইলে কি বারবার ক্ষমতা দখল করা যায়। জোর করে যারা ক্ষমতায় থাকতে চায় তাদের নজির তো বাংলাদেশেই আছে, সে নজির তো ভালো নয়। আমীর খসরু বলেন, মনে রাখতে হবে- শেখ হাসিনাই তো নিরপেক্ষ সরকারের প্রবক্তা। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই- শেখ হাসিনার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আর নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া বিএনপি শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না। আর দেশের মালিক জনগণ। কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী দেশের মালিক নয়। যে কোনো মূল্যে জনগণ তাদের মালিকানা ফিরিয়ে নেবে।
দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে অনির্বাচিত সরকারের মধ্যেই ফুটে উঠে ফ্যাসিবাদী চরিত্রের রূপ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেও সে রকম প্রতিধ্বনি পেলাম। তিনি বলেন, নির্বাচন হচ্ছে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক। বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বহুবার দেশ পরিচালনা করেছে। জনগণই বিএনপি’র শক্তি। ফলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আজ মূলত জনগণকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেছেন। বাংলাদেশে বিএনপি’র মাধ্যমে একাধিকবার জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। জনগণের ইচ্ছা বা আগ্রহের উপর নির্ভর করেই আমরা নির্বাচনে যাব। কারও আহ্বানে বা কারও দয়ার ওপর ভিত্তি করে নয়। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আলাল বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে যেটা হয়েছে সেটা নিজের ঘরের দিকে তাকালেই উনি দেখতে পাবেন। বাকশালের মাধ্যমে বিলুপ্ত আওয়ামী লীগকে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে পুনরায় নতুন জীবন দান করেছেন। সেক্ষেত্রে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়ার প্রতি উনাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে আলাল বলেন, বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেহেতু এদেশের ভবিষ্যৎ পথিকৃৎ নেতা তাই প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার তিনি হবেনই। তবে এর মধ্যে সত্যতা কতটুকু আছে তা নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। সময়ই বলে দেবে, কারা সাগর চুরি করেছে আর কাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অপবাদ দেয়া হচ্ছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৭-১২-০৭ ১৮:২৮:০০

অনেক কথার সাথে সহমত পোষণ করলেও তারেক রহমানের ব্যাপারে বিএনপির ধারণার সাথে একমত হতে পারলাম না। এখানেই বিএনপির ভূল আর জামাতকে সাথে রাখা। তারেক রহমানের উদ্যত আচরণের সাক্ষী প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা ও হাওয়া ভবন।

আপনার মতামত দিন