যৌন অসদাচরণের মামলায় ফেঁসে যেতে পারেন ট্রাম্প

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ৮ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার
সামার জেরভস নামের এক নারী ট্রা¤েপর বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনে মানহানি মামলা করেছেন। ওই নারী দ্য এপ্রেন্টিস নামক অনুষ্ঠানের একজন সাবেক প্রতিযোগী। যৌন অসদাচরণের বিরুদ্ধে বর্তমান সোচ্চার পরিস্থিতির আলোকে একজন রাষ্ট্রীয় বিচারক মামলাটি পর্যবেক্ষণ করে দেখছেন। এ অবস্থায় অস্থিতিশীলতা এড়াতে মামলাটি খারিজ করে দেয়া যায় কিনা তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও। ট্রা¤েপর প্রেসিডেন্ট পূর্ববর্তী সময়ে দ্য এপ্রেন্টিস নামক টিভি শোতে অংশগ্রহণকারী জেরভস সুপ্রিম কোর্টে এ বছরের জানুয়ারিতে ট্রা¤েপর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ২০০৭ সালে ট্রা¤প তার সঙ্গে যৌন অসদাচরণ করেন। তার মুখম-লে বারবার চুমু দেন। শরীরের ¯পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন। নিজের ¯পর্শকাতর অঙ্গ চেপে ধরেন তার শরীরে। তবে ট্রা¤প সে সময় এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি তখন দাবি করেন, তার ব্যক্তিত্বহানি করে নির্বাচনে তার অবস্থান দুর্বল করে হিলারি ক্লিনটনকে জেতানোর জন্য এসব রটানো হয়েছে। ট্রা¤প ওই ধরনের সব অভিযোগকে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। ট্রা¤েপর করা ওই মন্তব্যের সূত্র ধরে জেরভিস এবং তার আইনজীবী দাবি করেছেন, এই মন্তব্যে তাদের সম্মানহানি হয়েছে। তারা ট্রাম্পকে ওই মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা ওই মামলার বিচারক জেনিফার সেটারকে মামলাটি খারিজ করে দেবার আবেদন করেছেন। তবে, বিচারক যদি তা না করেন, সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যা¤পকে এ সংক্রান্ত এবং অন্যান্য যৌন অভিযোগ সংক্রান্ত সকল নথিপত্র প্রকাশ করতে হবে। জবানবন্দি নেয়া হতে পারে ট্রা¤প এবং মামলার অন্যান্য বাদীদের। মঙ্গলবারে এ সংক্রান্ত ব্যাপারে ম্যানহাটনের নিউ ইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টে ঘণ্টাব্যাপী শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মামলার ব্যাপারে ট্রা¤েপর ব্যক্তিগত আইনজীবী মার্ক কাসয়িচ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সুপ্রিমেসি ক্লজের ধারা অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত একজন প্রেসিডেন্টের ওপর কোর্টের বিচারিক এখতিয়ার নেই। রাষ্ট্র আদালতে প্রেসিডেন্টকে হাজিরা দিতে বলাটা ‘অনুচিত সরাসরি নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবে পরিগণিত হবে বলে মত দেন তিনি। তবে এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে জেরভসের আইনজীবী মেরিয়ান মেয়ার অয়াং বলেছেন, এমন কোনো আইনগত উদাহরণ নেই যে একজন ফেডারেল কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রীয় আদালত সিদ্ধান্তের আওতায় আনতে পারবে না। তিনি ট্রা¤েপর প্রতি ইঙ্গিত করে এমনটি বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের যৌন অসদাচরণের বিরুদ্ধে কোর্টের ব্যবস্থাপত্রকে উদাহরণ হিসেবে টানেন।
উল্লেখ্য, যদি আদালত এই মামলাটিকে চালিয়ে যাবার অনুমোদন দেয়, তবে সেক্ষেত্রে ট্রা¤েপর আইনজীবীরা মামলায় বিলম্বের আবেদন করে রেখেছেন। যার আওতায় ট্রা¤প যদি পুনর্নির্বাচিত হন, তবে মামলাটি সাত বছর স্থগিত রাখা হতে পারে। তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেছেন জেরভসের আইনজীবী। তিনি বলেছেন, এই বিলম্বের ফলে মামলার প্রমাণাদি নষ্ট হতে পারে। এবং মামলার বিবাদীদের স্মৃতিভ্রংশ হতে পারে। ট্রা¤েপর আইনজীবীরা জেরভসের মানহানির অভিযোগের বিরুদ্ধেও যুক্তিতর্ক উত্থাপন করেন। বলেন, যৌন অসদাচরণের অভিযোগের জবাবে ট্রা¤েপর দেয়া বক্তব্য আত্মরক্ষামূলক। কারণ ওই সময়ে জেরভস ট্রা¤েপর সঙ্গে এ নিয়ে তর্কে জড়িয়ে যান। যেটা নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রা¤পকে হেয় করার একটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল। তবে ওই অভিযোগের জবাবে জেরভসের আইনজীবী বলেন, জেরভস কোনো রাজনৈতিক বক্তা নন যে তিনি রাজনৈতিকে উদ্দেশ্যে বিবাদে জড়াবেন। তিনি এ অভিযোগের বিষয়ে ট্রা¤েপর মন্তব্যকে ‘প্রমাণিত মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। শুনানির শেষে বিচারক জেনিফার বলেন, তিনি পরবর্তীতে এ বিষয়ে রুল জারি করবেন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৭-১২-০৭ ১৩:৪৯:০৯

পৃথিবীর নিকৃষ্টতর চরিত্রহীন এক জন লোককে আমেরিকার মত দেশের জনগণ কি ভাবে প্রেসিডেন্ট বানাল ভেবে পাই না।

আপনার মতামত দিন