নাগরিক সম্মেলনে বক্তারা

এসডিজি বাস্তবায়নে কাজের সমন্বয় ও জবাবদিহিতা দরকার

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন করতে হলে বেসরকারি, ব্যক্তি ও সরকারের সমন্বয় থাকা জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। গড় উন্নয়ন থেকে বের হয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে তারা বলছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কিভাবে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসা যায় সেই বিষয়ে জোর দিতে হবে। জবাবদিহিতা, মানুষের মর্যাদা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন  প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভোটার অধিকার এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।
সুশীল সমাজকে যুক্ত করতে না পারলে উন্নয়ন করা সম্ভাব নয় বলেও বিশিষ্ট নাগরিকরা মত দেন।
গতকাল বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘নাগরিক সম্মেলন-২০১৭, বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়ন’- শীর্ষক দিনব্যাপী আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের স্লোগান ছিল ‘কাউকে পেছনে রাখা যাবে না।’
প্রারম্ভিক অধিবেশনে প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান বলেন, এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে। নজরদারি থাকতে হবে। সুশীল সমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে। একই অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, এসডিজি অর্জনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বেসরকারি, ব্যক্তি ও সরকার  হাতে হাত রেখে এগিয়ে যেতে হবে। মানুষের মর্যাদা নশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সাফল্য যেমন আছে তেমনি ব্যর্থতাও কম নয়। অবস্থানের বড় পরিবর্তন হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের মেয়ার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, স্থানীয় সরকারকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করলে দেশ উন্নয়ন হবে। সুশীল সমাজকে যুক্ত করতে না পারলে উন্নয়ন করা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন। সভাপতির বক্তব্যে ড. দেবপ্রিয় ভট্টচার্য বলেন, বাংলাদেশের বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বলেন, দেশে অবিশ্বাস্য ভাবে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এতে অসন্তোষ তৈরি করবে। প্রারম্ভিক অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী, এডভোকেট সুলতানা কামাল, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবসায়ী আসিফ ইব্রাহিম প্রমুখ।
এদিকে বিকালে সমাপনী অধিবেশনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ( সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ছাড়া এসডিজি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টে পৌঁছতে হলে সুশাসন অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা কমে ৩ শতাংশ আনা হবে। একই অধিবেশনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সামাজিক নিরাপত্তার উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, আমাদের কল্যাণকর রাষ্ট্রের দিকে যেতে হবে। আইনের শাসন এবং আইন প্রণয়নে স্বচ্ছতার অবস্থানে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের ইনস্টিটিউশনগুলো দুর্বল এবং এগুলো রাজনীতিকরণ হয়েছে। পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দরকার ভোটের অধিকার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশের সম্পদ ৯৯ ভাগের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। দেশপ্রেমিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পেছনে যারা আছেন তাদেরকে অতিরিক্ত সুযোগ দিতে হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই’র পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গণমাধ্যমের সঙ্গে সু-সম্পর্ক জোরদার করার উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এই সংক্রান্ত বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দরকার। এসডিজি বাস্তবায়নে কৃষি বাজেট এবং গবেষণায় আরো জোর দিতে হবে। একই অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির, টিআইবি’র ড. ইফতেখারুজ্জামান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শাহীন আনাম, নির্মাতা অভিতাভ রেজা, ব্যবসায়ী নাসির মঞ্জুর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ১২টি দাবি সম্মিলিত ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অভিনেত্রী নাভিলা হক। এতে তিনি বলেন, বদলে যাবে বাংলাদেশ। আমরা সবাই মিলে এমন এক বাংলাদেশ গড়বো যেখানে কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না, জাতীয় উন্নয়ন ও সাফল্য থেকে কোনো নাগরিক বঞ্চিত থাকবে না। আমাদের এ প্রত্যয়ের সফল বাস্তবায়নই হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি নাগরিক সমাজের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধার্ঘ্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রেরণাচিত্র প্রদর্শন ও ৩২টি এনজিও’র সমন্বয়ে তাদের কর্মকাণ্ডের একটি প্রদর্শনী উদ্বোধন করা হয়। অর্থনৈতিক, সামাজিক, জলবায়ু ও পরিবেশ এবং সুশাসন প্রসঙ্গ চারটি সমান্তরাল অধিবেশনের আয়োজন করা হয়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন