বনানীতে সিদ্দিক হত্যাকাণ্ড

প্রবাসী ব্যবসায়ীর নির্দেশে অংশ নেয় ভাড়াটে কিলাররা

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
বনানীর মুন্সি ওভারসীজের মালিক সিদ্দিক হোসাইন হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারীকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  গ্রেপ্তারের পর কিলিং মিশনের বর্ণনা দিয়েছে আসামি হেলাল উদ্দিন। প্রবাসী এক ব্যবসায়ীর নির্দেশে মুন্সি ওভারসীজে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় সিদ্দিক হোসাইনকে। এ বিষয়ে গতকাল সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, হেলালসহ ছয় জন এই কিলিং মিশনে অংশ নেয়। তাদের প্রত্যেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিলো। হেলাল ছাড়া বাকি পাঁচ জনই পেশাদার কিলার।
প্রবাসী ওই ব্যবসায়ীর নির্দেশে সিদ্দিককে হত্যার জন্য ওই পাঁচ কিলারকে ভাড়া করা হয়েছিলো। প্রবাসী ওই ব্যক্তি বর্তমানে সুইডেনে অবস্থান করছেন। খিলক্ষেতের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামি তিনি। মনিরুল ইসলাম জানান, সিদ্দিককে হত্যার জন্য ওই প্রবাসীকে অন্য কেউ ভাড়াও করতে পারে। এজন্য গ্রেপ্তার হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদ ও জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
সিদ্দিককে হত্যা করার সময় মুখোশধারী চার কিলার  মুন্সি ওভারসীজের অফিসে ঢুকে হামলা চালায়। তারা ২৫-২৬ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। কিলিং মিশনে অপারেশনাল কমান্ডারের ভূমিকা পালন করেছে হেলাল। হেলাল উদ্দিনসহ আরো একজন তখন দেয়ালের বাইরে অবস্থান করেছিলো। হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলো হেলাল নিজেই। এমনকি ঘটনার পর অস্ত্রগুলো তার হেফাজতে রাখে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে সাদ্দাম ও পিচ্চি আল-আমিন নামে দুই জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। হেলালের প্রবাসী বন্ধুসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মনিরুল ইসলাম।
গত ৫ই ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে গুলশান থানার কালাচাঁদপুর  থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হেলাল উদ্দিনকে। ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সদস্যরা এই যৌথ অভিযানে অংশ নেন। এসময় পুলিশের দিকে গুলি করলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে চারটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি নাইন এমএম পিস্তল ও নয় রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। গুলশান থানায় হেলালের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, হেলাল উদ্দিন ও ওই প্রবাসী ব্যবসায়ী দুজনেই ছাত্রদলের সাবেক নেতা। ডিবি’র সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাহফুজুল আলম রাসেল জানান, গ্রেপ্তার আসামি হেলাল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। তাকে আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৪ই নভেম্বর রাত প্রায় ৮টার দিকে গুলি করে হত্যা করা হয় সিদ্দিক হোসাইনকে। এসময় তিনি বনানীর বি ব্লকের চার নম্বর সড়কের ১১৩ নম্বর বাড়ির নিজ প্রতিষ্ঠান মুন্সি ওভারসীজে ছিলেন। তখন অফিসে কর্মরত আরো তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়। হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি (উত্তর) বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন