হুতি বিদ্রোহীদের হাতে বন্দি কয়েক ডজন সাংবাদিক

দেশ বিদেশ

মানবজমিন ডেস্ক | ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
কয়েক ডজন সাংবাদিককে বন্দি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তাদেরকে রাজধানী সানা’র একটি টেলিভিশন সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছে। এই টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে সদ্য নিহত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ’র দলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা। খবরে বলা হয়, শনিবার হুতি বিদ্রোহীরা সানায় অবস্থিত আল-ইয়ুম টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা সেখানে গ্রেনেড হামলা করে।
পরে ৪১ জন কর্মকর্তাকে সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) জানিয়েছে, হুতি বিদ্রোহীরা টিভি চ্যানেলের ‘অ্যাক্সেস কোড’ দেয়ার জন্য সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। তারা নিজেদের প্রস্তুতকৃত অনুষ্ঠান প্রচার করতে চায়। কূটনীতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আরএসএফ জানায়, এই হমলায় তিন জন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ডেস্কের পরিচালক আলেক্সান্দ্রা এল খাজেন সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের নিন্দা জানান। বলেন, ‘এতে জেনেভা কনভেনশনের নীতিকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমরা দ্রুত সাংবাদিকদের মুক্তি দেয়ার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’দেশটির আরো ১৩ জন সাংবাদিক হুতি বিদ্রোহী ও আল-কায়েদার হাতে বন্দি রয়েছেন। সর্বশেষ প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুযায়ী, সংবাদকর্মীদের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ১৮০টি দেশের মধ্যে ইয়েমেনের অবস্থান ১৬৬তম। এ ছাড়া দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ এর অনুগত বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়ে হামলা করা হল। মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি অব দ্য রেডক্রস (আইসিআরসি) জানিয়েছে, সানা’র সংঘাতে চলতি মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৩৪ জন নিহত হয়েছেন।
আহত হয়েছেন ৪শ’রও বেশি মানুষ। উল্লেখ্য, সোমবার সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহ’র গাড়িতে হামলা করা হয়। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। যদিও কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, সালেহকে তার বাসভবনেই হত্যা করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্টের খুন হওয়ার ঘটনায় দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে।           

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন