রসিক নির্বাচন

সহিংসতার আশঙ্কা ৩৩ ওয়ার্ডে

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে | ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
দলীয় প্রতীকে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কর্মকাণ্ড চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। রসিক নির্বাচনে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে সহিসংসতার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তার চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম বিএনপির। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে কম। যে কারণে সাধারণ ভোটাররা সহিংসতার আশঙ্কাই করছেন বেশি।
অন্যদিকে অনেক ওয়ার্ডে জাতীয় পার্টির কাউন্সিলর প্রার্থী নেই। সিটি নির্বাচনে ২১১ জন কাউন্সিলর প্রার্থী, ৬৫ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর প্রার্থীর সংখ্যাই শতাধিক। অনেক ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী সংখ্যা ৭ জন। এদের মধ্যে চারজনই আওয়ামী লীগের। এরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলমগীর হোসেন চৌধুরী, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান, মহিলা আওয়ামী লীগনেত্রী রেবেকা বেগম, যুবলীগ নেতা ইমরাউল হাসান সুজন চৌধুরী। এ ওয়ার্ডে বিএনপির সাবেক কাউন্সিলর মোক্তার আহমেদ, জামায়াতের রবিউল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র আবদুর রাজ্জাক। এ ওয়ার্ডে জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নেই। ২৯ এর পাশের ওয়ার্ড ৩০ নম্বর। এ ওয়ার্ডে ৫ প্রার্থীর মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম তোতা ও ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। বিএনপির মালেক নিয়াজ আরজু ও নুরুজ্জামান যাদু। স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন লতিফ সরকার। এখানে জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নেই। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর হোসেন এবং আক্তারুল ইসলাম চৌধুরী। আর বিএনপির জেলা সদস্য সুলতান আহমেদ এবং সিরাজুল ইসলাম। জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নেই। এভাবে অন্যান্য ওয়ার্ডেও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জাপার দুর্গ রংপুরে জাপার প্রার্থীর সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা। নগরীর ১নং ওয়ার্ডে মোট প্রার্থী ৭ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক ৪ জন। এরা হলেন, রফিকুল ইসলাম, কামাল রাশেদ, মোস্তফা মিয়া ও শাহিন হোসেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি সমর্থিত আনোয়ার হোসেন। ২নং ওয়ার্ডে প্রার্থী ৫ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরওয়ার মির্জা, মাজহারুল ইসলাম রাসেল ও আবুল কালাম আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া রেজাউল করিম রাজু বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী। ৩নং ওয়ার্ডে ১১ জনের মধ্যে চারজন আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে। ৪নং ওয়ার্ডে প্রার্থী ৬ জন। এর মধ্যে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হারাধন চন্দ্র রায়, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন সাজু, আবুল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫নং ওয়ার্ডে  ৮ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী সমর্থিত ৩ জন প্রার্থী রয়েছে। ৬নং ওয়ার্ডে  ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগ ও দুজন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে। এখানে জাপার প্রার্থী নেই। ৭নং ওয়ার্ডে ৪ জনের মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাপার কোনো প্রার্থী নেই। ৮নং ওয়ার্ডে  ৮ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের আবুল মঞ্জুর কুঠিয়াল, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মানিক, মোসলেম উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া এই ওয়ার্ডে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত একজন করে প্রার্থী রয়েছে। ৯নং ওয়ার্ডে দুজন প্রার্থী। এর মধ্যে একজন সাবেক বিএনপি নেতা এবং বিএনপির একজন সমর্থিত। এখানে আওয়ামী লীগ ও জাপার কোনো প্রার্থী নেই। ১০নং ওয়ার্ডে ৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল ইসলাম ও শহীদুল ইসলাম এবং বিএনপির লাইক রহমান ও কামরুজ্জামান তুষার ও স্বতন্ত্র দুজন। ১১নং ওয়ার্ডে ৮ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুর রাজ্জাক, ওয়াজেদুল আরিফ মিলন ও বিশ্বজিৎ কুমার, বিএনপির নিরঞ্জন কুমার ও জয়নুল আবেদিন লুতু এবং জাপা প্রার্থী আলাউদ্দিন মানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যান্য দুজন স্বতন্ত্র। ১২নং ওয়ার্ডে নয়জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের সুলতান মাহামুদ প্রামাণিক, রফিকুল ইসলাম এনামুল হক, আফজাল হোসেন, আ. হালিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে বিএনপির একজন ও জাপার এক প্রার্থী রয়েছেন। ১৩নং ওয়র্াডে ১০ জনের মধ্যে ফজলে এলাহীঅ ফুলু, মিজানুর রহমান তুহিনসহ আরো দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত রয়েছেন। ১৪নং ওয়ার্ডে আটজনের মধ্যে আওয়ামী সমর্থিত তিন প্রার্থী রয়েছেন। ১৫নং ওয়ার্ডে তিনজন প্রার্থী রয়েছে। এর মধ্যে জাপার একজন ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই প্রার্থী রয়েছেন। ১৬নং ওয়ার্ডে চারজন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের গোলাম কবীর কাজল, আমিনুর রহমান ও শেখ মোহাম্মদ রয়েছেন নির্বাচনী মাঠে। ১৭নং ওয়ার্ডে ১৪ জন প্রার্থী। এর মধ্যে জাপা প্রার্থী একজন এবং আ’লীগ সমর্থিত চারজন প্রার্থী রয়েছেন। ১৮নং ওয়ার্ডে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির নিজামুল ইসলাম বাদল, আওয়ামী লীগের রাশেদ খান শরীফসহ চারজন এবং বিএনপির লাইক আহম্মেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৯নং ওয়ার্ডে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে  আওয়ামী লীগ সমর্থিত তিন প্রার্থী রয়েছেন। ২০নং ওয়ার্ডে চারজনের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুজন এবং বিএনপি সমর্থিত এক প্রার্থী রয়েছে। ২১নং ওয়ার্ডে চার প্রার্থীর মধ্যে জাপার মাহবুবার রহমান মঞ্জু, বিএনপির মাহমুদুর রহমান ভুট্টু, তরিকুল ইসলাম গৌরব রয়েছেন। ২২নং ওয়ার্ডে সাত প্রার্থীর মধ্যে জাপা সমর্থিত শাহজালাল করিম বকুল, বিএনপির আব্দুল ওহাব ঝুনু, আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান মিজু, আনোয়ার হাফিজ বুলবুলসহ আরো দুজন রয়েছে। ২৩নং ওয়ার্ডে দুজন প্রার্থী। এর মধ্যে যুবদল নেতা লিটন পারভেজ এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। ২৪নং ওয়ার্ডে ৪ প্রার্থীর মধ্যে জাপা সমর্থিত হাফিজ আহমেদ ছুট্টু, আওয়ামী লীগের রফিকুল আলম, শামীমুজ্জামান শামীম এবং বিএনপির মীর জামাল উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৫নং ওয়ার্ডে চার প্রার্থীর মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রউফ ও যুবলীগের নিজাম উদ্দিন সুমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৬নং ওয়ার্ডে  ৫ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান, শাহাজাদা আরমান, সাইফুল ইসলাম ফুলু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২৭নং ওয়ার্ডে ১৩ জনের মধ্যে  বিএনপির রেজওয়ান আল মেহেদী ও রফিকুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগের আব্দুল গণি দুলাল ও সাইদ পারভেজসহ আওয়ামী লীগ সমর্থিত চার প্রার্থী রয়েছে। ২৮ নং ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইদ্রিস আলী, রহমত উলাহ বাবলা, নেছার আহমেদ ও শাহাদৎ হোসেন আওয়ামী সমর্থিত হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া বিএনপি ও জাপা সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে একজন করে। ৩১নং ওয়ার্ডে ৫ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের আকতারুজ্জামান, জামালউদ্দিন, জাপার শামছুল আলম ও আনছারুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩২নং ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থী রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মাহবুবার রহমান, শাহদাৎ হোসেন, নুরুল হক এবং জাপার ইব্রাহিম হোসেন। ২৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী  মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, কাউন্সির পদে দলীয় নির্বাচন হচ্ছে না। তাই এখানে দলের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজই বেশি কাজ করছে। আর আমি এর আগেও কাউন্সিলর ছিলাম। তাই নির্বাচন করছি। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, কাউন্সিলর পদে দলের কোনো নির্দেশনা নেই। তাই একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াছির বলেন, আমরা সবাই মেয়র প্রার্থী নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। তাই ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা কম। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ওয়ার্ডগুলো কাউন্সিলর প্রার্থী দেয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রের কোনো নির্দেশনা নেই। তাই একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তবে তিনি বলেন, ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর এককপ্রার্থী থাকলে ভালো করতে পারত। তিনি বলেন, একাধিক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ ভালো করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও তিন ভাগের একভাগ ওয়ার্ডেও জাপা সমর্থিত কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী নেই। পক্ষান্তরে জাতীয় পার্টির চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে।
অপরদিকে, প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে নিজেদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগির ফলে জয় লাভের সম্ভাবনা কম। প্রতিটি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের একজন করে প্রার্থী থাকলে তাদের পাল্লা ভারী হতো বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন