বিস্মিত অপু

বিনোদন

কামরুজ্জামান মিলু | ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১২
ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস দারুণভাবে বিস্মিত হয়েছেন। তার এ বিস্ময় ডিভোর্স লেটারে শাকিব খানের দেখানো মূল দুই কারণ নিয়ে। সেই কারণ দুটির একটি হলো অপু তাদের একমাত্র সন্তান আব্রাম খান জয়কে ঘরে তালাবন্দি করে কলকাতায় ঘুরতে গেছেন। আর দ্বিতীয় কারণ সঙ্গে ছিল তার বয়ফ্রেন্ড। তবে গতকাল দুপুরে অপু বিশ্বাস এসব প্রসঙ্গে বিস্ময়পূর্ণ কণ্ঠে মানবজমিনকে বলেন, যে দুটি কারণ দেখিয়ে আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠানো হয়েছে সেসব সত্যিই আমার কাছে বোধগম্য নয়। ১৭ই নভেম্বর আমি আব্রামকে রেখে ভারতে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম।
কারণ আমার বেশ শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তাই ওইদিন সকালেই আমি রিজেন্ট এয়ারওয়েজে ভারতে যাই। আমার ইচ্ছে থাকলেও ছেলেকে সঙ্গে নেয়া সম্ভব ছিল না। কারণ তাকে দেখাশোনার জন্য আমার বাসায় সেলিনা আক্তার (শেলী) নামে যে মেয়েটি থাকে তাকেসহ নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার ভারতীয় ভিসার মেয়াদ ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে একদিনের জন্য আমি একাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার জন্য ভারতে যাই। ডাক্তার দেখানোর পর ১৮ই নভেম্বর বাংলাদেশে ফিরে আসি। এমনকি ভারতে যাওয়ার আগে মনির ভাইয়ের (শাকিবের কাজিন) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি ওই সময় ব্যাংককে শাকিবের সঙ্গে ছিলেন। আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ না থাকলে আমি দ্রুত চলে যেতাম না। এটা ডিভোর্সের কোনো ইস্যু হতে পারে না। একদিনের জন্য গেলেও আমি বাসার কাজের মেয়েসহ আমার কাজিন শেলীর কাছে আব্রামকে রেখে গিয়েছিলাম। অপু বিশ্বাস আরো বলেন, আর কথিত বয়ফ্রেন্ড বলে নায়ক বাপ্পিকে ঘিরে আমাকে নিয়ে যে মন্তব্য করা হচ্ছে এটা শুনে আমি বিস্মিত। আমি একা ভারতে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। কোনো বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে না। এটা কেন সাজানো হচ্ছে আমি জানি না। এটার প্রমাণ কি শাকিব খান দিতে পারবেন? আর বাপ্পির কথা এখানে কিভাবে এলো। বাপ্পি তো আমার জুনিয়র। আমাকে দিদি ডেকে সে সবসময়ই সম্মান করে। এদিকে এরইমধ্যে ডিভোর্সের কাগজটি অপু বিশ্বাস হাতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এ চিঠি পাওয়ার পর তার পদক্ষেপ কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটু সময় নিচ্ছি। আর একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে একটা সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হব। হুটহাট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আমি এদেশের একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক। আমার সঙ্গে কোনো অন্যায় হবে এটা আমি মানতে পারি না। যদি আমার সঙ্গেই অন্যায় হয় তাহলে আমাদের যারা আইডল মনে করে বা অনুসরণ করে চলে তারা লাইফে কতটুকু হ্যাপি হতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি আবেদন জানাব। আমার আবেদনের ভাষায় থাকবে, তিনি একজন মেয়ে। আর তিনি সহনশীল এবং হৃদয়বান প্রধানমন্ত্রী। একটা মেয়ের সঙ্গে অন্যায় বা অবিচার হবে এটা নিশ্চয়ই তিনি চাইবেন না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা কামনা করছি। অপু বিশ্বাস আরো বলেন, ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার পর আজ আমাকে শাকিব তালাক দিতে চাইছে। আমি এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াব। মানবাধিকার ও নারী সংগঠনগুলোকেও পাশে চান অপু। তিনি বলেন, সেলিব্রেটি হলেও আমার সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। সংসারে নানান ঝামেলা থাকে তা নিজেদের মধ্যে সমাধান করা যায়। ডিভোর্সের নোটিস পাঠানোর বিষয়টা অপুর কাছে এখনো অবিশ্বাস্য। উল্লেখ্য, ভারতের হায়দরাবাদের রামুজি ফিল্ম সিটিতে এখন রাশেদ রাহা পরিচালিত ‘নোলক’ ছবির শুটিং করছেন শাকিব খান। সেখানে যাওয়ার আগেই তিনি ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর করেন। এরপর শাকিবের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়রের কার্যালয়, অপু বিশ্বাসের ঢাকার নিকেতনের বাসা এবং বগুড়ার ঠিকানায় ওই ডিভোর্সের নোটিস পাঠানো হয়। এই ডিভোর্স কার্যকর হবে নোটিস পাঠানোর তারিখ থেকে তিন মাস পর।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Quazi Nasrullah

২০১৭-১২-০৭ ১০:৩৪:৫৩

শাকিব নামের এই কুলাঙ্গারটাকে ফিল্ম থেকে বহিষকার করা হউক।

আপনার মতামত দিন