ছাগল চুরি করলেন আওয়ামী লীগ নেতা, অতঃপর...

অনলাইন

পিরোজপুর প্রতিনিধি | ৫ ডিসেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার, ৫:৪১ | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৪৩
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় ছাগল চুরির অভিযোগে এক আওয়ামী লীগ নেতার ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও শারীরিক শাস্তি দিয়েছেন স্থানীয় শালিসদাররা। উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে গত সোমবার রাতে ওই ইউনিয়নের দলীয় কার্যালয়ে এ শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শালিস বৈঠক ও ইউপি চেয়ারম্যানের দেয়া তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের উদয়তারা গ্রামের বাসিন্দা বিধবা ফিরোজা বেগম (৬০) এর একটি ছাগল গত ১লা নভেম্বর চুরি করে নেন একই গ্রামের মৃত মন্নান বেপারীর পুত্র লোকমান বেপারী। অভিযুক্ত লোকমান বেপারী ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন শাখার বর্তমান সদস্য বলে নিশ্চিত করেছেন ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুনিল হালদার। তিনি আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ফিরোজা বেগম গত ২৫ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান অভিযুক্ত ওই নেতাকে গত ১৬ ও ২৬শে নভেম্বর ২বার নোটিশ করেন।
ওই নোটিশের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম খোকন কাজী, সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন হাওলাদার, আ’লীগ নেতা ও অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা নিত্যানন্দ হালদার, ওই ইউপি’র ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মনোজ কান্তি মন্ডল, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য লিটন হালদারসহ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ বিচার কার্য অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ছাগল মালিক ফিরোজা বেগম জানান, তিনি অসহায় হওয়ায় গত ২ বছর আগে ছাগলটি স্থানীয় একটি এনজিও তাকে সাহায্য হিসাবে প্রদান করে। বিচারকার্য অনুষ্ঠানে আ’লীগ নেতা লোকমান বেপারী ছাগলটি গত ১৫ দিন আগে ২৫’শ টাকায় স্থানীয় শ্রীরামকাঠী বাজারে বিক্রি করেছে বলে নিজের দোষ স্বীকার করেন। শালিসের রায় অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যান ১০ হাজার টাকা জরিমানাসহ শারীরিক শাস্তি ঘোষণা করেন। পরে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউপি সদস্য মনোজ কান্তি মন্ডল এ শাস্তি কার্যকর করেন।
সার্বিক বিষয়ে কথা হলে চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্র বলেন, লোকমান বেপারীর বিরুদ্ধে চুরি অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে এবং সে নিজেও তার দোষ স্বীকার করেছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জরিমানা ও শাস্তি দেয়া হয়েছে।
[এমকে]

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৭-১২-০৫ ১৬:৪০:০১

গ্রামে গঞ্জে দলের শাখা বিস্তার করতে গ্রামের গরীব পরিবারের লোককেও সদস্য করা হয়। দল ভারি করার জন্য তাদের চরিত্র বিবেচনা করা হয় না। সদস্য হলে পদবি হয়ে যায় নেতা। কিন্তু স্বভাব সুলভ আচরণ থাকে চুরির। ফলে বদনাম হয় দলের। দলকে দুর্নাম মুক্ত রাখতে যাচাই বাছাই করে সদস্য করা উচিত।

Harun Or Rashid

২০১৭-১২-০৫ ০৭:১৯:৫২

কিছু বলার নাই।হাহাহাহাহাহাহাহাহাহাহা াহাহা

আপনার মতামত দিন