চাহিদা নেই, তবুও রাজউকের নতুন ফ্ল্যাট প্রকল্প

শেষের পাতা

দীন ইসলাম | ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৬
উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ফ্ল্যাটের দিকে আগ্রহ নেই সাধারণ ক্রেতাদের। কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। এরপরও ঝিলমিলে নতুন ফ্ল্যাট প্রকল্প নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য রাজউক এবং মালয়েশিয়ার বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস এসডিএন বিএইচডি
অ্যান্ড কনসোর্টিয়ামের মধ্যে গত ১৬ই নভেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ১৩ হাজার ৯২০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। চার বছরের মধ্যে এসব ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং এ জন্য মালয়েশিয়ান কোম্পানি বিনিয়োগ করবে।
সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পের (পিপিপি) আওতায় এ ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি পিপিপি’র আওতায় এশিয়ার অন্যতম বড় একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পে ১৬০ একর জমির ওপর ৬০টি ২০ তলা ভবনে ১৪০০ বর্গফুট আয়তনের নয় হাজার ১২০টি, ১৪টি ২৫ তলা ভবনে ১৬০০ বর্গফুট আয়তনের দুই হাজার ৬৮৮টি এবং ১১টি ২৫ তলা ভবনে ২২০০ বর্গফুট আয়তনের দুই হাজার ১১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া এ অ্যাপার্টমেন্ট পার্কে ১৩ হাজার ৯২০টি গাড়ি পার্ক করার সুবিধা, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার, লেক, পার্ক, খেলার মাঠ, ঝরনাসহ নানা সুবিধা রাখা হচ্ছে। ওই অনুষ্ঠানে বলা হয়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্রায় ৭০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। সেখানে বড় আয়তনসহ বিভিন্ন আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এদিকে রাজউকের উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে এক হাজার ছয়শ’ ৫৪ বর্গফুট আয়তনের ছয় হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফ্ল্যাট পেয়েও ১৭৪৬ জন বরাদ্দগ্রহীতা তাদের টাকা তুলে নিয়েছেন। ফলে এসব প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। তাই নতুন করে এক হাজার ছয়শ’ ৫৪ বর্গফুট আয়তনের ১৭৪৬টি ফ্ল্যাটের বরাদ্দ দেবে রাজউক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তারা মনে করছেন, এ প্রকল্পের ফ্ল্যাট বুঝে পেতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে টেন্ডার সংক্রান্ত নেতিবাচক তথ্য পেয়েছেন তারা। এসব কারণে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েও অনেকে নিচ্ছেন না। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে ১৮ নং সেক্টরে ৭৯টি ভবনে ছয় হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব ফ্ল্যাটে চার পর্বে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালের মার্চে প্রথম পর্বে ছয় হাজার ১০৯টি, ২০১৪ সালের মার্চে দ্বিতীয় পর্বে ৭৫৫টি, ২০১৬ সালের এপ্রিলে তৃতীয় পর্বে ৪২৬টি এবং চতুর্থ পর্যায়ে ২০১৭ সালের জুনে ২২৫টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্বে ১৫৯৫ জন, দ্বিতীয় পর্বে ১২১ জন এবং তৃতীয় পর্বে ৩০ জন বরাদ্দ গ্রহীতা তাদের বরাদ্দ বাতিল করে জমাকৃত জামানতসহ কিস্তির অর্থ উঠিয়ে নেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে পাঁচ হাজার ছয়শ’ ১৪টি ফ্ল্যাট বহাল আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০২২টি খালি ফ্ল্যাটের বরাদ্দ দেবে রাজউক। এ জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ফ্ল্যাট বরাদ্দের নীতিমালায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় এবার ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হবে। ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে মানুষের মধ্যে এমন নেতিবাচক মনোভাবের পরও রাজউক ফ্ল্যাট প্রকল্প নিয়েই চলেছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৭-১১-২৪ ০৪:০৪:২৪

চাহিদা থাকলে সরকারী টাকার অপচয় তো হবে না। অপচয় মূলক প্রকল্পই তো রাজউক করতে চায়।

sujan

২০১৭-১১-২৩ ১৭:২৫:৪৫

Officer try to make some money .

আপনার মতামত দিন

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন

বিরোধীরা আসলেই কাগুজে বাঘ: মোজাম্মেল হক

গাংনী বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

মহান বিজয় দিবস আজ

চট্টলার সিংহপুরুষের বিদায়

রাজধানীতে বৃদ্ধা ও শিশু খুন

বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল একটা আদর্শ নিয়ে

সবক্ষেত্রে চাই গুণগত সেবা

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারে স্পেন!

কাদের-মওদুদকে ঘিরেই স্বপ্ন দু’দলের

শেষমুহূর্তে তৎপর বিএনপি

ট্রাম্প প্রশাসনের ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব

ইউপিডিএফ ভাঙার নেপথ্যে

মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে দুইয়ে শেখ জামাল

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর

যেভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না