অভিশংসনের মুখে মুগাবে

শেষের পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ২২ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৫
অভিশংসনের মুখে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রস্তাবে ভোট হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, স্কাই নিউজ। মুগাবেকে ক্ষমতা ছাড়ার জন্য সোমবার দুপুর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল তার রাজনৈতিক  দল জানু-পিএফ। এর মধ্যে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে বলা হয়েছিল। তবে ক্ষমতা ছাড়তে ইচ্ছুক নন মুগাবে।
সোমবার পদস্থ সেনাসদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তা জানিয়ে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার তাকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জিম্বাবুয়ের পার্লামেন্টের অধিবেশন বসবে। সেখানে মুগাবেকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জানু-পিএফ দলের এক নেতা। জানু-পিএফ দলের সংসদ সদস্য পল জানিয়েছেন, অভিশংসনের এই প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই দিন সময় লাগতে পারে। এর মাধ্যমে অবসান হতে পারে মুগাবের চার দশকের শাসনকাল। এ প্রসঙ্গে দেয়া এক বিবৃতিতে জানু-পিএফ দল বলেছে, মুগাবে অস্থিতিশীলতার উৎস। গত পনেরো বছরে দেশের অর্থনীতিকে তিনি খাদের কিনারে নিয়ে এসেছেন। আরো বলা হয়, মুগাবে তার সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ স্ত্রী গ্রেসি মুগাবেকে তার উত্তরসূরি বানাতে চেয়েছেন। এতে তৈরি হয়েছে বিশৃঙ্খলা। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। জনতাও তার পদত্যাগ চায়। উল্লেখ্য, নিজের স্ত্রী গ্রেসি মুগাবেকে ক্ষমতার কেন্দ্রে আনতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মনাঙ্গয়াকে বরখাস্ত করেন মুগাবে। এর ফলে তৈরি হয় রাজনৈতিক সংকট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর এই হস্তক্ষেপকে অপারেশন রিস্টর লিগ্যাসি (উত্তরাধিকার পুনর্বহালের অভিযান) বলা হচ্ছে। অভিযানের শুরু থেকেই মুগাবেকে গৃহবন্দি করে রেখেছে সেনাবাহিনী। তার সঙ্গে পদত্যাগের ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল সেনাবাহিনী। ধারণা করা হয়েছিল সোমবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে নিজে স্বপদে বহাল থাকার অদ্ভুত ঘোষণা দেন তিনি।
তবে অবস্থাদৃষ্টে বোঝাই যাচ্ছে- ক্ষমতা ছাড়তে অনিচ্ছুক মুগাবে শেষ পর্যন্ত পার পাচ্ছেন না। তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জিম্বাবুয়ের সেনাপ্রধান জেনারেল কন্সতান্তিনো চিয়েঙ্গা বলেছেন, পদত্যাগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও শর্তাবলিতে সম্মত হয়েছেন রবার্ট মুগাবে। বরখাস্ত হয়ে দেশত্যাগ করা ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মনাংগাওয়া খুব শীঘ্রই জিম্বাবুয়েতে প্রত্যাবর্তন করবেন। তিনি মুগাবের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন। সেনাপ্রধান চিয়েঙ্গা জিম্বাবুয়ের জনগণকে মুগাবেকে উৎখাতের অভিযানে শান্তিপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য ধন্যবাদ জানান।
প্রসঙ্গত, যদিও বলা হচ্ছে অভিশংসন প্রস্তাব আনার দিন দুয়েকের ভেতরে মুগাবেকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে, তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন জিম্বাবুয়ের সাংবিধানিক আইনজীবী ডক্টর তারিসাই মুতাঙ্গি। তিনি বলেন, অভিশংসন প্রক্রিয়া কার্যকর করতে মাস খানেকের বেশি সময় লাগবে। মুগাবে জানেন যে, আইন এবং সংবিধান দুটোই তার পক্ষে। তিনি আরো বলেন, জিম্বাবুয়ের সংবিধান অনুযায়ী ৪টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা যায়। তাহলো-
১। গুরুতর অসদাচরণ
২। সংবিধান অমান্য কিংবা অসমর্থন কিংবা প্রতিহত করা
৩। ইচ্ছাকৃতভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করা
৪। মানসিক কিংবা শারীরিক অক্ষমতার কারণে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়া
দৃশ্যত, মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সরানোর উদ্যোগে জড়িত উচ্চপদস্থরা সংবিধান মেনেই তাকে সরাতে চাচ্ছেন। আর সংবিধানমতে মুগাবেকে সরাতে হলে সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেন প্রবীণ ওই আইনজীবী। তবে, মুগাবের পদত্যাগের দাবিতে অগ্রগামী ভূমিকা রাখা জিম্বাবুয়ের ওয়ার ভেটারান অ্যাসোসিয়েশন (যুদ্ধ অভিজ্ঞ সহযোগী সংস্থা) বর্তমানে ভিন্নপন্থা অবলম্বন করছে। সংগঠনটি দেশটির উচ্চ আদালতের প্রতি মুগাবেকে কর্তব্যচুতির অভিযোগে অপসারণ করার আবেদন করেছে। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের মুগাবে বিরোধী জনতা তার পদত্যাগের দাবিতে জোর আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন