ডিএসইর বাজার মূলধনে রেকর্ড

দেশ বিদেশ

এমএম মাসুদ | ২২ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূলধন চার লাখ ২৬ হাজার ১০৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ডিএসই‘র ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একবছর আগে ২০শে নভেম্বর ডিএসই বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। এদিকে বাজার মূলধনের পাশাপাশি সূচকেও রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে পুঁজিবাজারে। সপ্তাহের প্রথম দিনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ হাজার তিনশর ঘর অতিক্রম করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একবছর আগে ২০শে নভেম্বর ডিএসইএক্স ছিল প্রায় ৪ হাজার ৭২২ পয়েন্ট।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইর বাজার মূলধনে রেকর্ডের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া নতুন নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বিশেষ অবদান রেখেছে। তাদের মতে, বাজারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে শিগগির সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করবে ডিএসইর বাজার মূলধন।
ডিএসই সূত্রমতে, ১০ বছরে ডিএসই বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিনগুণ। ২০০৭ সালে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৭৪ হাজার কোটি টাকা। পরের বছর ২০০৮ সালে এটি কমে গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকায়। কিন্তু ২০০৯ সালে বাজার মূলধন বেড়ে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। এরপর ২০১০ সালে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করলে বাজার মূলধন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। বছর শেষে তা গিয়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায়। সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ১০৭ কোটি টাকায়। এ অবস্থায় যেতে বড় বাজার মূলধনী খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল ও ব্যাংক খাত। ডিএসইর পরিচালক ও সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, বাজার এখন স্থিতিশীল। এছাড়া বাড়ছে নতুন নতুন কোম্পানির সংখ্যা। এসব প্রতিষ্ঠানের মূলধনও বাজার মূলধনে যোগ হচ্ছে। ফলে বাজার মূলধন বাড়ছে। বর্তমানে অধিকাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধিও বাজার মূলধন বাড়ার অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, বাজার বর্তমানে ভালো আছে। প্রবৃদ্ধিও ভালো। ২০১০ সালে যেভাবে বাজার অস্থিতিশীল আচারণ করেছিল, এখন নেটা নেই। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। সবমিলিয়ে এসব উপাদান বাজার মূলধন বাড়াতে সহায়তা করেছে। বাজার মূলধন বাড়ানোর জন্য আরো ভালো ভালো প্রতিষ্ঠান বাজারে আনা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে গত বছরগুলোয় আইপিও প্রবাহ দেখলে বাজার মূলধনে এর অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়। মূলত ২০১০ সালের পর থেকে বাজারে নতুন প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১১ সালে বাজারে মোট ১২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্ত হয়। পরের বছর যা বেড়ে হয় ১৪টি। অন্যদিকে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বাজারে তালিকাভুক্ত হয় ৩৪টি প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সালে বাজারে আসে নতুন ১৬ প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালে এর গতি কিছুটা কমে যায়। আর চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাজারে এসেছে ৫টি প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ গত সাত বছরে বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ৮৯টি প্রতিষ্ঠান। ফলে শেয়ারসংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। যে কারণে বাজার মূলধনও বেড়েছে।
দেশের পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন আরও বেশি হওয়া উচিত বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, বাজারে তুলনামূলকভাবে মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম। বাজার মূলধন বাড়াতে হলে এমন সব প্রতিষ্ঠান বাজারে আনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তারা। তাদের মতে, শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাতে বাজারে বর্তমানে যে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার রয়েছে, তার বেশিরভাগই এখনও বিনিয়োগের অনুকূলে রয়েছে। এসব শেয়ারদর আরও বাড়লেও অতিমূল্যায়িত হবে না। বরং বাজার মূলধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
এদিকে বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ডিএসইতে ৯৭০ কোটি ৭৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবারের চেয়ে ২৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেশি। ওই দিন ডিএসইতে ৭৩৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নেয় ৩২৪টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্য সূচক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৪৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৩৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন