যে পেশায় ফি নেই

দেশ বিদেশ

শামীমুল হক | ২২ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০২
আচ্ছা ফি ছাড়া কোনো পেশা আছে কি সমাজে। যেখানে গেলে ফি ছাড়া কাজ করা যায়? স্কুল বা কলেজ জীবনে শিক্ষকরা যখন তার ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন- বড় হয়ে তুমি কি হতে চাও? উত্তর আসে ডাক্তার বা প্রকৌশলী। এরমধ্যে ডাক্তার বলার সংখ্যাই বেশি। কারণ কি জিজ্ঞেস করলে- উত্তর আসে ডাক্তারির মাধ্যমে মানবসেবা করতে চাই। এবার দেখা যাক ডাক্তারের মানবসেবার নমুনা। কোনো রোগী ডাক্তারের কাছে গেলে সিরিয়াল দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
তারপর যখন ডাক্তারের কাছে পৌঁছানো হয় তখন তিনি মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট, কেউ কেউ মাত্র এক মিনিট সময় দেন। আপনার কথা শুরু হতে না হতেই প্রেসক্রিপশন তৈরি। সঙ্গে লম্বা একটা লিস্ট। কি কি পরীক্ষা- নিরীক্ষা করতে হবে তার তালিকা। বেরিয়ে আসার সময় দিতে হবে কমপক্ষে ৫০০ টাকা। কোনো কোনো ডাক্তার তো তিন মাস আগে কোনো সিরিয়ালই দেন না। তিন মাস পর সেই ডাক্তারকে দেখাতে গেলে দিতে হয় হাজার, দেড় হাজার টাকা। আবার একদিন পর রিপোর্ট দেখাতে গেলেও দিতে হবে টাকা। তারপরও আপনি খুশি। কারণ ডাক্তার তো দেখাতে পেরেছেন। অবশ্য ব্যতিক্রম যে নেই তা কিন্তু নয়। সেটা একেবারেই হাতেগোনা। এবার আসুন ইঞ্জিনিয়ারের কথা। কনসালটেন্সি ফি দিতে হবে কথা বললেই। আপনি বাড়ি বানাবেন? কোনো ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বললেন। বাড়ির ডিজাইন করতে হলে দিতে হবে লাখ টাকা। এ নিয়ে চলে দরদাম। শুধু তাই নয়, এক মাসের কথা বলে সময় নিবে তিন থেকে চার মাস। তারপর আপনার পছন্দ না হলে ফের টাকা দিয়ে নতুন আরেকটি ডিজাইন তৈরি করতে দিতে হবে। তারপরও আপনার মুখে হাসি। কারণ নতুন বাড়ি করবেন। চোখে আপনার স্বপ্ন। বাড়ি বানাতে হলে লাগবে বিদ্যুৎ লাইন। এ জন্য দৌড়াতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। টাকা ছাড়া বিদ্যুতের লাইন লাগবে না। যদিও তারা আপনার বাড়িতে লাইন দিতে বাধ্য। গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। যদিও এখন বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। সামান্য ডিশ সংযোগ আনবেন সেখানেও দিতে হবে তিন হাজার টাকা সংযোগ ফি। মাসিক ফি’তো রয়েছেই। ব্যবসায়ীর কাছে যাবেন? সেখানেও ব্যবসা ছাড়া কোনো কথা বলবেন না ব্যবসায়ীরা। কারণ তার কাজই হলো লাভ করা। কিন্তু কত লাভ করছেন তার কোনো হিসাব কি আপনার কাছে আছে? দেশের পুলিশ স্টেশনগুলো বসে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে। অথচ আপনি জিডি করতে যাবেন- এটি নিতে করবে নানা টালবাহানা। মাত্র দুইশ’ টাকা হাতে দিলে হয়ে যায় জিডি। আর ডাকাতি বলে কখনো থানায় মামলা করা যাবে না। অলিখিত নিয়ম এখন সর্বত্র। লিখতে হবে চুরি। তারপরই মামলা হবে। তবে এজন্য ফি দিতে হবে। এসব ফিও আবার অলিখিতভাবে নির্ধারিত। কণ্ঠশিল্পী। কণ্ঠ দিয়ে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। কোনো লাইভ প্রোগ্রাম, স্টেজ শোতে নিলে আগে চুক্তি করতে হবে গায়ক-গায়িকার সঙ্গে। কেউ কেউ অর্ধেক ফি আগেই নিয়ে নেন। আবার কেউ কেউ পুরো ফি না দিলে যান না। আবার নির্দিষ্ট সংখ্যক গানের বেশি একটিও তিনি গাইবেন না। দর্শক শ্রোতার হাজারো অনুরোধেও তার মন গলে না। অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও টাকা ছাড়া কোনো পারফরমেন্স করবেন না। টিভিতে সাক্ষাৎকার দিতে হলেও তাদের আগে পেমেন্ট করতে হয়। আর সিনেমায় অভিনয় করতে গেলে নামি তারকা হলে দামও বেশি। কখনো কখনো দেখা যায় প্রযোজক, পরিচালককে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাতে। প্রযোজককে জিম্মি করে ফেলেন তারা। শিক্ষকতা পেশার দিকে তাকালে সমাজে আজকাল কি দেখা যায়? দেখতে পাই স্কুলে যান তারা সময় কাটাতে। লেখাপড়া করান প্রাইভেটে, কোচিংয়ে। মাস শেষে গুনে গুনে টাকা নেন শিক্ষক। উকিলের কথাই ধরা যাক। এ পেশায় কথায় কথায় ফি। এবার আসা যাক ক্রিকেটার কিংবা ফুটবলারের দিকে। খেলতে খেলতে যারা নামি তারকা হয়েছেন তাদের কথা ভিন্ন। যারা মোটামুটি খেলোয়াড় তারাও যখন কোথাও খেলতে যান নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা ছাড়া যান না। গ্রামের একটি ফুটবল টুর্নামেন্টেও যদি যান তাহলে তাদের আসা-যাওয়া, খেলার ফিসহ নানা বিষয় উল্লেখ থাকে। সব পূর্ণ করেই একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে যেতে হয়। কখনো কোনো খেলোয়াড় বিনা ফিতে খেলেছেন এমনটা শোনা যায়নি। আর সাংবাদিকতা। রোদ নেই, বৃষ্টি নেই। ঝড়-ঝাপ্টা তাদের কোনো কিছুই ছুঁতে পারে না। তাদের লক্ষ্য একটাই-খবর সংগ্রহ। পাঠকের জন্য নিত্য নতুন খবর জোগাড় করা। সমাজের সুখ-দুঃখের চিত্র বর্ণনা করা। অনাচার, অবিচারের কাহিনী তুলে ধরা। অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা। নির্যাতিত মানুষের পক্ষ থেকে তাদের কথা লিখে যাওয়া। কেউ অসুস্থ। সাহায্যের প্রয়োজন। সেখানেও ছুটে যান সাংবাদিক। আবার বাড়ি দখল করে নিচ্ছে, চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, স্বামীর নির্যাতনের শিকার এখানেও দ্বারস্থ হন সাংবাদিকের। পেশাগত দিক নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে কেউ তাতেও ছুটে আসেন সাংবাদিকদের কাছে। সাংবাদিকরা পরম মমতায় সেসব অনাচার, অবিচারের কাহিনী তুলে ধরেন জাতির সামনে। যেখানে কোনো ফি লাগে না। সাংবাদিকরা লিখেই যান। ধন্যবাদের আশা করেন না। প্রশংসার আকাঙ্ক্ষাও কাজ করে না তাদের মনে। তারা মনে করে তাদের পেশার ভেতরে রয়েছে সামাজিক দায়দায়িত্ব। এ দায়বদ্ধতা সাধারণের চেয়ে একটু বেশি। শুধু সাংবাদিকই নয়, প্রতিটি পেশারই কোনো না কোনোভাবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হয়। কিন্তু সাংবাদিক ছাড়া অন্য কোনো পেশায় এটি অনুপস্থিত। আর তাই সাংবাদিকতা হলো মহান পেশা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

NkNath

২০১৭-১১-২১ ১৮:৪৮:০৬

সাংবাদিকরা অনেক সময় সচ্ছ হয়না। তারা ফি নয় ফিয়ের বদলে মোটা অংকের টাকা। নাহলে সংবাদ উলটা ছাপা হয়। এটার জন্য বিস্তারিত বলার প্রয়োজন নেই। ভুক্তভোগীরা এবং সাংবাদিকরা তা জানেন।

Eashin Mahmud jibon

২০১৭-১১-২১ ১২:৪৭:০৫

ami ekmot

আপনার মতামত দিন

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয় আকায়েদ

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে ৫ শতাংশ পরিবার

তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাকে হাইজ্যাক করে ফেলেছে

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আরো বেড়েছে দেশি পিয়াজের দাম

সময় চাইলেন ‘অসুস্থ’ বাচ্চু

ঢাকার আকাশে ঝড়ের ঘনঘটা

বিএনপির প্রচারণায় বাধার অভিযোগ

বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ব্যবহারে বংশের পরিচয়

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’