ঘুষ দিলেই নড়ে ফাইল

বাংলারজমিন

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) থেকে | ২২ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার
মাসের পর মাস পড়ে থাকে ফাইল। তদন্তের নামে টাকা। অডিটের নামে টাকা। অ্যাকাউন্টের নামে টাকা। টাকা পেলেই নড়ে ফাইল। এমন শত অভিযোগের পাহাড় জমেছে হালুয়াঘাট উপজেলার কৃষি ব্যাংক ধুরাইল শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
তার নাম এম এ বারিক। ব্যাংকে সেকেন্ড ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। পাশাপাশি ঋণ শাখার অডিট কর্মকর্তা হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ইতিমধ্যে ধুরাইল গ্রামের ইউপি সদস্য তুলা মিয়া, পাবিয়াজুড়ি গ্রামের রুহুল আমিন ও নিখিল চন্দ্র সরকার ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে ময়মনসিংহের কৃষি ব্যাংকের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন যা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। সোমবার সরজমিন ব্যাংকে উপস্থিত হলে দেখা যায়, নানা অভিযোগ নিয়ে গ্রাহকরা হাজির হয় ব্যাংকের এই অসাধু কর্মকর্তার সামনে। করুয়াপাড়া গ্রামের এরশাদ আলী (৩০) জানান, ৪ মাস আগে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন ঋণ দেবে এই কথা বলে। অবশেষে কোনো ঋণ না পাওয়াই ঘুষের টাকা ফেরত নিতে এসেছেন। এরশাদ আরও বলেন, এই কর্মকর্তাকে প্রতি লাখে ১৫ হাজার টাকা কমিশন না দিলে মাসের পর মাস তার টেবিলে ফাইল পড়ে থাকে। ধরাবন্নী গ্রামের সুলাইমান (৩৫) ৫০০ টাকা ঘুষ দিয়ে চেক বই  উত্তোলন করেছেন। ধুরাইল গ্রামের নাজমুল বলেন, যে টাকা ঘুষ দেয় তার ফাইল দ্রুত গতিতে দৌড়ায়। আর টাকা না দিলে আর খবর থাকে না। পাবিয়াজুড়ি গ্রামের চান মিয়া জানান, বারিকের কাছে ঋণের জন্য পরামর্শ করতে আসলে তার কাছে আলাদা ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এতে সে ঋণ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কাওলারা গ্রামের নাজমুল (৩৫) ইসলাম বলেন, আমি ঋণ রিকভারির জন্য বারিকের কাছে এসেছিলাম, বারিক আমার কাছে ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করলো। যার কারণে রিকভারি আর করতে পারিনি। একই রকমভাবে এলাকার শত মানুষের অভিযোগ ওই অসাধু কর্মকর্তা বারিকের বিরুদ্ধে। এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বারিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি সব অপকর্ম অস্বীকার করে বলেন, ব্যাংকে বর্তমানে আইও না থাকায় মাঠে পরিদর্শনে তাকে যেতে হয়। ৪/৫ দিন সময় লাগে ঋণ প্রসেসিং করতে। উক্ত ব্যাংকের ম্যানেজার আব্দুল আওয়াল বলেন, ঋণ শাখার আইও মনিম হোসেন শুভন ট্রেনিং এ থাকায় এ দায়িত্ব বারিক পালন করছেন। এছাড়া কমিশন গ্রহণ করেন কি না এই বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
তিনি বলেন, আমি পাবলিককে ডেকে এনে বলে দিই যেন কেউ কোনো প্রকার ঘুষ না দেয়। এছাড়া বারিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে তিনটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে তা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত বারিককে উক্ত ব্যাংক থেকে কিভাবে বদলি করা যায় তার চেষ্টা করবেন। এলাকাবাসীর কৃষি ব্যাংকের এই অসাধু কর্মকর্তার বদলীসহ তার বিরুদ্ধে ব্যাংকিং আইনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জোর দাবি জানান।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন

বিরোধীরা আসলেই কাগুজে বাঘ: মোজাম্মেল হক

গাংনী বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

মহান বিজয় দিবস আজ

চট্টলার সিংহপুরুষের বিদায়

রাজধানীতে বৃদ্ধা ও শিশু খুন

বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল একটা আদর্শ নিয়ে

সবক্ষেত্রে চাই গুণগত সেবা

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারে স্পেন!

কাদের-মওদুদকে ঘিরেই স্বপ্ন দু’দলের

শেষমুহূর্তে তৎপর বিএনপি

ট্রাম্প প্রশাসনের ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব

ইউপিডিএফ ভাঙার নেপথ্যে

মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে দুইয়ে শেখ জামাল

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর

যেভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না