মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা

বাংলারজমিন

মাহামুদুন নবী, মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে | ২২ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি সংকট, ওষুধ অপ্রতুল, চিকিৎসকদের কর্তব্যে অবহেলাসহ নানা কারণে স্বাস্থ্যসেবা নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। ফলে উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষের একমাত্র সেবাদানকারী হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গতানুগতিকভাবেই বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে বেড সংকুলান না থাকায় ৩১ শয্যার হাসপাতালে রোববার দুপুর পর্যন্ত মোট ১০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এবং বেড না পেয়ে বাধ্য হয়েই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেকে আবার চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকরণ ও যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় বেশিরভাগ সময়ই চিকিৎসকরা প্রাইভেট ক্লিনিকে/ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছে রোগীদের। যার ফলে মোটা অঙ্কের টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন  স্থানীয় প্যাথলজির মালিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল কাঠামো অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ১৭টি পদের মধ্যে কর্মরত পদের সংখ্যা ৪ জন।
৩য় শ্রেণীর ৭২টি পদের মধ্যে কর্মরত ৫২ জন। ৪র্থ শ্রেণির ১৯টি পদের মধ্যে কর্মরত ৮ জন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সহকারীর ৩৯টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৮ জন। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৮টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩ জন। জনবল কাঠামো অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণির মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৬১টি। কর্মরত পদের সংখ্যা ৬৫। এবং মোট শূন্য পদের সংখ্যা ৯৪। ১ম শ্রেণির ১৭টি পদের মধ্যে ১৩টি পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গতকাল দুপুরে সরজমিনে দেখা গেছে, অবকাঠামো সুযোগ না থাকায় ৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা হাসপাতালে বেড না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অন্যদিকে বেড সংকুলান না থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে পর্যন্ত ঠাঁই না পেয়ে চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কারণ ৩১ শয্যার হাসপাতালে রোববার দুপুর পর্যন্ত ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ছিল ১০৫ জন।
গাইনি বিভাগে ডাক্তার আছেন কিন্তু সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে রোগীদের। এ ক্ষেত্রে রোগীদের উৎসাহিত করা হয় প্রায়ভেট ক্লিনিকে যাওয়ার জন্য। হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তাররাই প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে এসব রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। অধিকাংশ সময় বহির্বিভাগে রোগীদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। আবার রোগীদের চাপে হিমশিম খেয়ে অনেক সময় ডাক্তাররা ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিবারাত্রি ডিউটি করে বর্তমানে ঠাণ্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরএমও ডাক্তার মোকছেদুল মোমিন অসুস্থ হয়ে বাসায় শয্যাশায়ী থাকার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরাগত রোগীরা। অন্যদিকে চিকিৎসকদের কর্তব্যে অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতার কারণে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতির সুযোগ থাকলেও সেগুলোর সুবিধা পাচ্ছেন না রোগীরা। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা করাতে হয় প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। হাসপাতালের মূল্যবান যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত হওয়ার ফলে একদিকে যেমন এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিকের চলছে রমরমা বাণিজ্য। ফলে রোগীদের গুনে যেতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিকাশ কুমার শিকদার বলেন, আমরা ডাক্তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে বার বার অবহিত করেও কোন সদুত্তর পাইনি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয় আকায়েদ

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে ৫ শতাংশ পরিবার

তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাকে হাইজ্যাক করে ফেলেছে

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আরো বেড়েছে দেশি পিয়াজের দাম

সময় চাইলেন ‘অসুস্থ’ বাচ্চু

ঢাকার আকাশে ঝড়ের ঘনঘটা

বিএনপির প্রচারণায় বাধার অভিযোগ

বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ব্যবহারে বংশের পরিচয়

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’