হতাশাজনক পরিস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর নারী অ্যাঙ্গেলা মারকেল

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৪৪
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর নারী। কিন্তু রাজনৈতিক মিত্রদের কাছে জোট সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে এখন তার ভাগ্য নিজের নাগালের বাইরে। নিজের ভাগ্যকে তিনি নিজে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। সোমবার ব্যবসা-বান্ধব রাজনৈতিক দল ফ্রি ডেমোক্রেট পার্টি (এফডিপি) জোট সরকার নিয়ে আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মারকেলের ভাগ্য এখন সরল দোলকের মতো দুলছে। এক্ষেত্রে তার ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে তিনটি উপায়ে।
এক. অন্য কোনো দল কি তাকে সরকার গঠনে সমর্থন দেবে কিনা। দুই. প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে মারকেলকে আরো সময় দেবেন কিনা এবং তিন. মারকেলকে কি তার দল খ্রিস্টান ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিইউ) নেতা হিসেবে মানতে প্রস্তুত কিনা-এমন সিদ্ধান্তের ওপর। এর বাইরে আছে, নতুন নির্বাচন আহ্বান করা। তবে বিকল্পগুলো শুনতে খুব সহজ মনে হলেও কার্যক্ষেত্রে তা অতোটা সহজ নয়। এ নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ হচ্ছে। তাতে বলা হচ্ছে, এখন জার্মানির তথা অ্যাঙ্গেলার ভাগ্য কোনদিকে যায় তার অনেকটাই নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট স্টেইনমায়ারের ওপর। দেশটিতে প্রেসিডেন্ট একটি আনুষ্ঠানিক পদ হলেও এ রকম পরিস্থিতিতে দেশকে রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তরণে তার ওপরই বড় দায়িত্ব বর্তায়। ওদিকে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে আরেক খবর প্রকাশ হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সোমবার সরকার গঠন নিয়ে সমঝোতা সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পর অ্যাঙ্গেলা মারকেল নতুন নির্বাচনকেই সমর্থন করছেন। তিনি ২০০৫ সাল থেকে জার্মানিতে চ্যান্সেলর হিসেবে টানা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সংলাপ ভেঙে যাওয়ার পর তিনি বলেছেন, এফডিপি আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার পর তিনি নতুন নির্বাচনের পক্ষে। তিনি এতদিন উদারপন্থি এফডিপি এবং গ্রিনস দলের সঙ্গে জোট গঠন করে ক্ষমতায় যাবেন বলে আশা করা হচ্ছিল। এমন জোটকে ‘জ্যামাইকা কোয়ালিশন’ নাম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা আর হচ্ছে না। এমন অবস্থায় নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করছেন প্রেসিডেন্ট স্টেইনমায়ার। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্কট উত্তরণের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দেশ ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে সবচেয়ে স্থিতিশীল হিসেবে পরিচিত। টেলিভিশনে এক বক্তব্যে স্টেইনমায়ার বলেছেন, আগামীতে দলগুলো একটি নতুন সরকার গঠনে সম্মত হবে বলে আমি আশা করি। এক্ষেত্রে দলগুলোর দায়িত্ব আছে। যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠন সম্ভব না হয় তাহলে চ্যান্সেলর পদে একজন প্রার্থীকে অবশ্যই বেছে নেবেন প্রেসিডেন্ট। যদি জার্মান পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগে তিন দফা ভোটের পরও কোনো সরকার গঠন সম্ভব না হয় তাহলে নতুন নির্বাচন আহ্বান করা হবে। উল্লেখ্য, জার্মানিতে গত সেপ্টেম্বরে নির্বাচন হয়। এতে অ্যাঙ্গেলা মারকেলের মধ্য-ডানপন্থি সিডিইউ/সিএসইউ শীর্ষে চলে আসে। কিন্তু তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়।  ফলে শুরু হয় জোট সরকার গঠনের তোড়জোর। এক্ষেত্রে মধ্য-বামপন্থি এসপিডি দলের সঙ্গে মারকেলের মধ্য-ডানপন্থিদের জোট গঠনের কোনো সম্ভাবনাই সামনে আসে না। তারা ঘোষণা দিয়ে দেয়, তারা ফিরে যাবে বিরোধী দলে। এ দলটির নেতা মার্টিন শুলটজ এ বিষয়ে সোমবারও তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এ জন্য মারকেলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনে এগিয়ে আসে এফডিপি এবং গ্রিনস। কয়েক সপ্তাহ ধরে জোট গঠন নিয়ে এফডিপির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যায় মারকেলের দল। কিন্তু সোমবার তারা আলোচনা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর সোমবার অ্যাঙ্গেলা মারকেল একটি বিবৃতি দেন। তাতে তিনি বলেন, এফডিপির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি যে, আমরা পারস্পরিক সমঝোতায় আসতে পারি নি। এ নিয়ে এদিন সন্ধ্যায় তিনি ‘মাইনরিটি’ সরকার গঠন নিয়ে ভীষণ সংশয় প্রকাশ করেন। তবে নিজে দলের প্রধান হিসেবে অব্যাহত থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেন। তবে দলে যে তার নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করা হবে না এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ব্যাপক জয় পায় এএফডি। প্রায় অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে বুন্দেসটাগে প্রথম প্রবেশের সুযোগ পায় উগ্র ডানপন্থি এই দলটি। এখন মারকেলের ভবিষ্যত কি হবে তা সময়ই বলে দেবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ওআইসি’র ঘোষণা নেতানিয়াহু’র প্রত্যাখ্যান

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন

ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা

গাজীপুরে মসজিদের ভেতর নৈশ প্রহরীকে গলা কেটে হত্যা

‘প্রেম’ করে বিয়ে, চাকরি হারালেন শিক্ষক দম্পতি

চবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সত্যতা মিলেছে

প্রশ্ন ফাঁস হতো প্রেস থেকে

আবাসিক এলাকায় রাতে হর্ন বাজানোয় নিষেধাজ্ঞা

‘বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনে বাধা নেই’

কুয়ালালামপুরে গ্রেপ্তার ২ ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা

জামিনে আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক

নারী সহশিল্পীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয় আমাকে

বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করার আবেদন প্রত্যাখ্যাত ইন্দোনেশিয়ায়

প্রথম ১ মাসে ৬৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার, বাংলাদেশ সফরের আহ্বান

৪ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ভূমিমন্ত্রীপুত্র কারাগারে