ডাকাতি, নিরাপত্তাহীনতায় ঢাকায় ভারতীয় কোম্পানি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ২০ নভেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৩
বার বার চুরি, ডাকাতির কারণে ধামরাইয়ে অবস্থিত ভারতীয় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। আরগাস মেটালস প্রাইভেট লিমিটেড নামের কলকাতাভিত্তিক এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির শাখা স্থাপন করা হয় ধামরাইয়ে ১০ বছর আগে। এটাই বাংলাদেশে তাদের প্রথম শাখা। এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কিন্তু বার বার চুরি, সিরিজ ডাকাতির ফলে সেই পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এতে বলা হয়, ধাতব পদার্থ রিসাইক্লিংয়ের জন্য এ প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সালে ধামরাইয়ে যাত্রা শুরু করে। রপ্তানিকারক ইউনিট হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। শুরু হয়েছিল ৭০ জন শ্রমিক নিয়ে। কিন্তু আস্তে আস্তে এ সংখ্যা বাড়তে থাকে। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংখ্যা দাঁড়ায় আড়াইশ। ভারতভিত্তিক এই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের উজ্বল বাণিজ্য সুবিধা দেখতে পায়। কিন্তু ২০১০ সালে প্রথম এখানে ডাকাতি হয়। এর আগে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তারা এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেয়। এ বিষয়ে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীপঙ্কর সাহা বলেছেন, ডাকাতরা কারখানা থেকে ৩২ লাখ টাকা মূল্যের কাঁচামাল লুটে নিয়েছে। প্রথমদিকে আমরা ভেবেছিলাম এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তখনই পুলিশের কাছে এ বিষয়ে আমরা অভিযোগ করি। কিন্তু এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় নি। কিন্তু এই লুট এখানেই শেষ হয় নি। আবার ওই কোম্পানিতে ডাকাতি হয় ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে। এবার কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, লুট হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের কাঁচামাল। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি সিসিটিভি ক্যামেরা ও সাতটি কমপিউটার। আরেকজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জীব জৈন বলেন, এ বছরের জুনে তৃতীয়বারের মতো ডাকাতি হয়। তখন আমরা বুঝতে পারি এটি একই ধরনের ঘটনা। এবার এ কারখানা থেকে চুরি যায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য। প্রায় ১৫ দুর্বৃত্ত কারখানার ভিতরে প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের এক কর্ণারে নিয়ে যায়। যারা এক্ষেত্রে বাধা দেয় তাদেরকে প্রহার করা হয। ২০১৪ সালে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় ৫ জনকে। উদ্ধার করা হয় ১২ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য। তা সত্ত্বেও কর্মীদের মধ্যে ভয় দেখা দিযেছে। দীপঙ্কর সাহা বলেন, অনেক শ্রমিক বলছেন এখানে কাজ করা আর নিরাপদ নয়। তারা কাজ ছেড়ে চলে যেতে চান। আমরা তাদেরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনবার ডাকাতির পর তারা নিরাপত্তাহীন বোধ করছেন। বার বার ডাকাতি, শ্রমিকদের এই অনিরাপত্তাবোধ থেকে আমাদের কারখানা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে হয়েছে। একদিকে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রমিকদের মধ্যে ভীতি দেখা দেয়ায় আমরা প্রতিযোগিতার বাজারে পিছিয়ে পড়ছি। ওই রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ মনে করে এখানে বাণিজ্যে বিনিয়োগ করা নিরাপদ এবং এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ঢাকা জেলা পুলিশের সুপারিনটেনন্ডেন্ট শাহ শফিউর রহমান মিজান বলেন, শুরুর দিকে ডাকাতির অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তা এখন অনেক কমে এসেছে। পর্যায়ক্রমে ডাকাতির ঘটনা এখনও আমার জানা নেই। যেহেতু আমরা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিই তাই কোনো বিনিয়োগকারীর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন