মুক্তিযোদ্ধা কোটা কমিয়ে আলাদা পরীক্ষা চায় পিএসসি

এক্সক্লুসিভ

নূর মোহাম্মদ | ২০ নভেম্বর ২০১৭, সোমবার
বিসিএস-এ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটার শতকরা হার কমিয়ে তাদের জন্য আলাদা পরীক্ষা নেয়ার সুপারিশ করেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। কমিশন মনে করে, সরকারি সার্ভিসের গতিশীলতা আনতে, কোটা পদ্ধতি ও কোটা বিন্যাস পদ্ধতির পুনর্বিবেচনা ও পুনঃপর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আর বিশেষ কোটার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলো সংরক্ষিত না রেখে মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা জন্য নির্বাহী নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পিএসসি আয়োজনে এক সেমিনারে এসব সুপারিশ উঠে আসে। সেগুলো প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের কাছে পেশ করা হয়েছে কমিশনের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে। এ ব্যাপারে পিএসসি’র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক মানবজমিনকে বলেন, পিএসসি’র সেমিনারে বিভিন্ন মহলের যেসব মতামত দিয়েছেন, যৌক্তিক মতামতগুলো আমরা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন লিখিত আকারে পেশ করেছি।
এটাকে সুপারিশ বলা যাবে না। কোটা সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। ৩৫তম বিসিএস-এ নির্দিষ্ট কোটার প্রার্থী না পাওয়ায় অনেকে মেধা থেকে চাকরি পেয়েছে। এতে দুই পক্ষই উপকৃত হয়েছে। সরকারের পদগুলো পূরণ হয়েছে, অধিক সংখ্যক মেধাবীরা পদ পেয়েছে, বিশেষ কোটাও শূন্য থাকেনি। তিনি বলেন, সরকারের সেবায় গতি আনতে শূন্য পদ ফাঁকা না রেখে কীভাবে পূরণ করা যায়- সেটি ভাবাই হবে যথার্থ।     
বর্তমানের সরকারি প্রথম শ্রেণির চাকরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত। বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থী পাওয়া না গেলে ওইসব পদ খালি রাখতে ২০১০ সালে নির্দেশনা দেয় সরকার। এর আগে ৩২তম বিসিএস’র মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পূরণ না হওয়া এক হাজার ১২৫টি পদ ৩৩তম বিসিএস’র মেধা তালিকা থেকে পূরণের সিদ্ধান্ত দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। সর্বশেষ ৩৫তম বিসিএস-এ নিদিৃষ্ট কোটার প্রার্থী না পাওয়ায় মেধা থেকে ৬২শতাংশ পদ পূরণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে সবাই স্বাগত জানিয়েছে।   
এছাড়াও কমিশনের সেমিনারে ১৬ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে আছে, সাধারণ পরীক্ষা পদ্ধতি ও অন্যান্য টেকনিক্যাল ক্যাডারের পরীক্ষা পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন করা। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় আরও গতি আনতে পরীক্ষা নেয়ার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হয় সেই আর্থিক স্বাধীনতা চাওয়া হয়েছে পিএসসি’র পক্ষ থেকে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান বলেন, এখানে পরীক্ষা সংক্রান্ত আর্থিক স্বাধীনতা চেয়েছি। একেক পরীক্ষার ধরন একেক রকম হয়। পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেই এবং সেক্ষেত্রে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের সম্মানী বিষয়টি সেভাবে বিবেচনা করতে চাই। কিন্তু অর্থ ছাড়ের ব্যাপারে সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় হয় না। সেজন্য আমরা বলেছি, পরীক্ষার সুষ্ঠু করতে আমরা যেভাবে পাঠাবো অর্থ ছাড় যাতে সেভাবে হয় সেই বিষয়টি বুঝাতে চেয়েছি।
এছাড়াও পরীক্ষা হলে দায়িত্বে থাকা পরিদর্শকদের সঙ্গে কমিশনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা সভা করা, পরীক্ষার দিন ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশ-আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধি নিশ্চিত করা, হলের গেটে একাধিক সারি করে প্রার্থীদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করে প্রবেশ করা নিশ্চিত করা, প্রার্থী সংখ্যানুপাতে প্রতিটি হলের জন্য একাধিক মেটাল ডিটেক্টর রাখা, মহিলা প্রার্থীদের সার্চের জন্য আলাদা বুথ ও মহিলা পুলিশ বা পরিদর্শক নিয়োগ করা, আসল পরীক্ষার্থী কী না তা নিশ্চিত করতে হলের গেটে পরীক্ষার দিন প্রার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা এবং ট্রাম্প স্ক্যানার বা পিকচার স্ক্যানার ব্যবহার করা। পরীক্ষা নেয়ার সহায়তাকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে সম্মানী দেয়া নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মানী নিশ্চিত করা, বিসিএস ক্যাডার-নন ক্যাডার পদের প্রবেশপত্র ভিন্ন ভিন্ন আকারে এবং রঙে প্রিন্ট করা। এতে পরীক্ষার প্রার্থীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। কক্ষভিত্তিক প্রশ্নপত্র, হাজিরা তালিকা এবং উত্তরপত্র মুদ্রণ করা, পরিদর্শকের সংখ্যা বাড়ানো, পরীক্ষা হলে ফোন বা ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার অকার্যকর করতে স্বল্প সময়ের জন্য নেটওয়ার্ক জ্যামার ব্যবহার করা, হাজিরা খাতায় ছবি আরও বড় সাইজের এবং স্পষ্ট করা। পরীক্ষা শুরুর ৪০-৬০ মিনিট আগেই প্রার্থীকে হলে প্রবেশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এছাড়াও কমিশনের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রত্যেক সদস্যের জন্য প্রিভিলেজ স্টাফ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। জানা গেছে, পিএসসি সব সদস্যের জন্য গানম্যান চাওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোমন হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় তা আটকে দিয়েছে। এছাড়াও প্রশ্নপত্র প্রণয়নে আধুনিক পদ্ধতি ও প্রশ্ন ব্যাংক প্রণয়ন করা জরুরি বলে মনে করে সংস্থাটি। যদিও পিএসসি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ করা হচ্ছে। কিন্তু এর পরিসর আরও বাড়ানো দরকার। বিজি প্রেসে অনেক সংখ্যক সেট প্রশ্নপত্র না করে পিএসসি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অল্পসংখ্যক সেট প্রশ্নপত্র মুদ্রণ করে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে এবং গোপনীয়তা রক্ষা করা যেতে পারে। কমিশনের তথ্য প্রযুক্তি শাখার জনবল আরও বাড়ানো এবং আইসিটির শাখার দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আর্কষণ করা হয়। পিএসসি আঞ্চলিক কার্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা বিশেষ করে লজিস্টিক সাপোর্ট আরো বাড়ানো,  প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটার প্রার্থীদের সনদ আরো অধিকতর যাচাই বাচাই করে প্রদান করতে হবে। কিছু প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরি সংক্রান্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয় পিএসসি’র পক্ষ থেকে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন

বিরোধীরা আসলেই কাগুজে বাঘ: মোজাম্মেল হক

গাংনী বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

মহান বিজয় দিবস আজ

চট্টলার সিংহপুরুষের বিদায়

রাজধানীতে বৃদ্ধা ও শিশু খুন

বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল একটা আদর্শ নিয়ে

সবক্ষেত্রে চাই গুণগত সেবা

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারে স্পেন!

কাদের-মওদুদকে ঘিরেই স্বপ্ন দু’দলের

শেষমুহূর্তে তৎপর বিএনপি

ট্রাম্প প্রশাসনের ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব

ইউপিডিএফ ভাঙার নেপথ্যে

মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে দুইয়ে শেখ জামাল

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর

যেভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না