বারী সিদ্দিকী লাইফ সাপোর্টে

শেষের পাতা

ফয়সাল রাব্বিকীন | ১৯ নভেম্বর ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৫
প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী বারী সিদ্দিকী গুরুতর অসুস্থ। তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে
রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার দুটি কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি তিনি বহুমূত্র রোগেও ভুগছেন। এর মধ্যেই শুক্রবার রাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অচেতন অবস্থাতেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
এরপর তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। বারী সিদ্দিকীর ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী মানবজমিনকে বলেন, বছর দুয়েক ধরেই বাবা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। গত বছর থেকে সপ্তাহে তিনদিন কিডনির ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। শুক্রবারও সন্ধ্যায় বাবা শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে যান। সেখান থেকে রাত ১০টা নাগাদ বাসায় ফেরেন। তখনো তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। কিন্তু গভীর রাতে হঠাৎ তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বাবার অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। তারা কোনো আশার কথা বলতে পারছেন না। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ই নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয় তার। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। সত্তরের দশকে বারী সিদ্দিকী জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন। ওস্তাদ  গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল সংগীতের উপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হন বারী। বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসংগীতে প্রশিক্ষণ নেন। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। আর দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সঙ্গে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ‘রঙের বাড়ই’ নামের একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে প্রথম সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর ১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে ৭টি গানে কণ্ঠ দেন। এর মধ্যে ‘শুয়া চান পাখি’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৯৯ সালে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাঁশি সম্মেলনে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেন। অডিও অ্যালবামের পাশাপাশি বারী সিদ্দিকী আরো বেশকিছু চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করেছেন। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘শুয়াচান পাখি’, ‘পূবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’, ‘একটা জিন্দা লাশ’, ‘মাটির দেহ’, ‘মাটির মালিকানা’, ‘মানুষ’, ‘মা’ প্রভৃতি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

সেখ আব্দুল কুদ্দুছ

২০১৭-১১-১৮ ২৩:০৫:৫৭

ইয়া আল্লাহ ! বারী সিদ্দিকীকে সুস্ত করে ঘরে ফেরাও তার আপন জনদের কাছে। তার গান শুনে জীবনে যে কত চোখের পানি ফেলেছি তা আমি আর আল্লাহ ছাড়া কেউ যানেনা ।

আপনার মতামত দিন

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয় আকায়েদ

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে ৫ শতাংশ পরিবার

তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাকে হাইজ্যাক করে ফেলেছে

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আরো বেড়েছে দেশি পিয়াজের দাম

সময় চাইলেন ‘অসুস্থ’ বাচ্চু

ঢাকার আকাশে ঝড়ের ঘনঘটা

বিএনপির প্রচারণায় বাধার অভিযোগ

বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ব্যবহারে বংশের পরিচয়

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’