সেমিনারে বক্তারা

একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার, ৪:৫১
রাজধানীতে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, রাজনৈতিক সঙ্কট দূর করতে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে দীর্ঘ মেয়াদী বেসামরিক কর্তৃত্ববাদী শাসনের মধ্যে ঢুকে যেতে হবে। একই সঙ্গে রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সেন্টার ফর গর্ভনেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত সেমিনারে ‘বাংলাদেশের নতুন মধ্যবিত্ত, গণতন্ত্র ও ধর্মের প্রশ্ন’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। আলোচনায় অংশ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, সারা বিশ্বের নির্বাচনগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সংখ্যালঘিষ্ঠ ভোট পেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সরকার গঠন করছে। এতে করে সকল জনগণের সরকার হচ্ছে না।
এ ধরণের সরকারের জন্য প্রয়োজন প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার। সেটার জন্য প্রয়োজন রেফারেন্ডাম এবং আনুপাতিক হারে নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকা। এতে করে গণতন্ত্র আরও অনেক পূর্ণতা পাবে। মধ্যবিত্তের সংজ্ঞা আয়ের ভিত্তিতে সঠিক না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত হচ্ছে পেশাভিত্তিক শ্রেণি। মধ্যবিত্ত পৃথিবীর সব দেশে একভাবে বিকশিত হয়না। বাংলাদেশে এর বিকাশ রাষ্ট্রের আনুকূল্যে গড়ে উঠেছে। এ রাষ্ট্রের আনুকূল্যে গড়ে ওঠা পেশাগত শ্রেণির দূর্বলতা রয়ে গেছে। সরাসরি গণতন্ত্র ও মধ্যবিত্তের সম্পর্ক সরাসরি আশা করতে পারি না। ধর্মনিরপেক্ষতা ও পুঁজিবাদ একত্রে ইউরোপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের এখানে এটা হয়নি। ইউরোপের অভিজ্ঞতা এখানে নকল করা সম্ভব ছিল না। আমাদের এখানে প্রকৃতপক্ষে কোন ধর্মীয় সংস্কার হয়নি। আমাদের এখানে সংস্কার মানে আরও প্রতিহিংসাপরায়ন। মানে এরা আমাদের সঙ্গে একমত না হলে তাদেরকে একেবারে উৎখাত করে দিতে হবে। সংস্কার না হওয়ার ফলে ধর্মের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, আমাদের এখানে ধর্মের প্রাধান্য পাচ্ছে কেন? ধর্ম নিয়ে এই হৈ চৈ শুধু বাংলাদেশে না, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও হচ্ছে। যত মুসলমান রাষ্ট্র আছে, শুধু মুসলমান না, খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলোতেও হচ্ছে। এটা দূর করা সম্ভব নয়। আমরা হঠাৎ করে দেখে ভয় পাচ্ছি। ভয়ের কারণ নেই। আমাদের দেশে বাস্তব ধর্মনিরপেক্ষতা, তাত্ত্বিক ধর্মনিরপেক্ষতা না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আমরা বলি সবসময় গ-গোল থাকে। অর্থনীতি এগোচ্ছে, রাজনীতি একটু দূর্বল। বিশেষ করে ২০১৪ এর পরবর্তীতে মনে হচ্ছে এক ধরণের সীমারেখা, বিভাজন। একটা নতুন ধরণের বেসামরিক কর্তৃত্ববাদ। আমরা বেসামরিক কর্তৃত্ববাদের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়ে আছে। রাষ্ট্র প্রক্রিয়ার পরিম-লের মধ্যে সেই কর্তৃত্ববাদের ছায়া বা নিয়ন্ত্রণ আমরা দেখতে পাই। এটা একটা বড় ধরণের সংকট। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার দুটো দিক দেখতে পাই। তবে আফ্রিকার বা ল্যাটিন আমেরিকার বাস্তবতার মধ্যে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। অনেক জায়গায় দেখেছি বেসামরিক কর্তৃত্ববাদ দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান গ্রহণ করতে পেরেছে। তারা এক ধরণের নাগরিকদের সম্মতি পেয়েছে। আমাদের এখানে বেসামরিক কর্তৃত্ববাদের অবস্থা তৈরি হলেও সরকার বৈধতার সঙ্কটে কিন্তু ভুগছে এবং সেখান থেকে একটা অস্থিরতার জায়গা আছে। অধিকারবোধের বাস্তবতা থেকে নাগরিক নাকি প্রজা এই জায়গাটা তৈরি হয়েছে। প্রজারাও তো অনেক সুবিধা পায়। কিন্তু প্রজাদের আবার অধিকার প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা আছে। নাগরিক না প্রজা অধিকারবোধের জায়গায় এই বাস্তবতা বিরাজ করছে যেটা আমাদের জন্য সুখকর নয়। বর্তমান বাস্তবতা মধ্যবিত্ত রাজনীতি বিমুখ বলছি। কিন্তু এখানেও বিশ্লেষণের, গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান ছাত্র বা সাধারণ মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অনীহা রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক আকাক্সক্ষার অনীহা। রাজনীতিতে অংশগ্রহণে অনীহা কারণ অংশগ্রহণের মূল্য বেড়ে গেছে। কারণ মূল দিতে হয়। এটার জন্য সক্রিয় হওয়ার বাস্তবতা বিশ্লেষণ করা দরকার।
সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক ও টেলিভিশন উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও অংশ নেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সিজিএস-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম আতাউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, গবেষক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাকহিলস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আহরার আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম, ব্রাক ইউনিভার্সিটির বিআইজিডি-এর হেড অব অপারেশন্স সরওয়ার জাহান চৌধুরী প্রমুখ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন

বিরোধীরা আসলেই কাগুজে বাঘ: মোজাম্মেল হক

গাংনী বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

মহান বিজয় দিবস আজ

চট্টলার সিংহপুরুষের বিদায়

রাজধানীতে বৃদ্ধা ও শিশু খুন

বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল একটা আদর্শ নিয়ে

সবক্ষেত্রে চাই গুণগত সেবা

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারে স্পেন!

কাদের-মওদুদকে ঘিরেই স্বপ্ন দু’দলের

শেষমুহূর্তে তৎপর বিএনপি

ট্রাম্প প্রশাসনের ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব

ইউপিডিএফ ভাঙার নেপথ্যে

মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে দুইয়ে শেখ জামাল

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর

যেভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না