সীমানা বিন্যাস আইন নিয়ে বিপাকে ইসি

প্রথম পাতা

সিরাজুস সালেকিন | ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০১
নতুন করে সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাস আইনে পরিবর্তন আনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিদ্যমান আইনের আলোকে এতদিন জনসংখ্যা এবং প্রশাসনিক অখণ্ডতা বজায় রেখে আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরনো আইনের সঙ্গে সংশোধিত আইনে উপজেলার অখণ্ডতা, ভোটার সংখ্যা এবং আয়তন যোগ করেও আসন ভাগাভাগিতে সমন্বয় আনতে পারছে না সীমানা সংক্রান্ত আইনের সাব-কমিটি। কমিটির পর্যবেক্ষণ  অনুযায়ী, আইনে পরিবর্তন এনে সীমানা বিন্যাস করা হলেও অতীতের মতো গ্রামের আসন আরো কমবে। তাই আইনটিকে আরো যুগোপযোগী করতে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা ও আসনওয়ারী ভোটার সংখ্যার তথ্য-উপাত্ত চেয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগকে (এনআইডি) উইংকে চিঠি দিয়েছে সাব-কমিটি। এই তথ্য পাওয়ার পর সব কিছুর বিচার-বিশ্লেষণ শেষে নতুন সীমানা আইনের খসড়া চূড়ান্তের পর তা আইনে পরিণত করতে সরকারের কাছে পাঠাবে কমিশন।
ফলে পুরনো সীমানা আইনের আলোকে আসন বিন্যাস করা হলেও তা হবে সীমিত পরিসরে। আর আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন আগের সীমানাতেই অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম-সচিব (আইন) মো. শাহজাহান বলেন, সীমানা পুনর্বিন্যাস আইনটি যুগোপযোগী করতে হবে, এ নিয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই। তবে কাজটি করতে গিয়ে পদে পদে জটিলতার উদ্ভব হচ্ছে। কারণ উপজেলার অখণ্ডতা, জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা এবং আয়তন সব কিছু আমলে নেয়ার পরও ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম শহরের আসন অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সঙ্গত কারণেই মফস্বলের আসন কমে আসবে। তাই সীমানা বিন্যাস আইনের প্রথম সভাটি করার পর এ ধরনের জটিলতা সামনে চলে আসায় ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং উপজেলার ভোটার সংখ্যার তথ্য চেয়ে এনআইডিকে চিঠি দিয়েছি। তাদের পাঠানো তথ্য যাচাই-বাছাই করে নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উপলক্ষ্য করে এটি করা হচ্ছে না, পরবর্তী কমিশনারদের কাজের সুবিধার্থে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তাই বলা যায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমানা বণ্টন হলেও তা হবে সীমিত আকারে বিদ্যমান আইনের আলোকে।  ইসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে সামরিক ফরমান জারি করে সীমানা বিন্যাস আইন প্রবর্তন করা হয়। তৎকালীন সরকারের প্রণীত আইনের আলোকে এতদিন ২৯৭ সংসদীয় আসনে পরিবর্তন এনেছে সব কমিশন। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার মার্শাল ল’ জারি করে প্রণীত সব আইনকে রহিত করে সংসদে আইন পাস করার মাধ্যমে সীমানা বিন্যাস আইনটি নতুন করে প্রবর্তনের বাধ্যবাধকতা চলে আসে। এর আগে ২০১১ সালে সাবেক শামসুল হুদা কমিশন এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত করেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদপূর্ণ করা কাজী রকিবউদ্দিন কমিশন পুরনো আইনের আলোকে সীমিত কয়েকটি আসনে পরিবর্তন এনে তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করে। কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্বে এনে নির্বাচনী আইনে সংস্কার আনতে সংলাপের পাশাপাশি সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাস আইনটি নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। এটি প্রথমে কমিশন একটি খসড়া প্রস্তুত করে আইন বিশেষজ্ঞ দিয়ে সব যাচাই-বাছাই করে গত ১৬ই অক্টোবর ওই বিশেষজ্ঞ কমিশনকে তার প্রস্তাবনাটি কমিশনে হস্তান্তর করেন। এরপর নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বাধীন আইন সংস্কার কমিটি আরেক দফা পর্যালোচনা করে ইসির আইন শাখার যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক করে আরেকটি সাব-কমিটি গঠন করে তাদের অধীনে এটি চূড়ান্ত বিশ্লেষণের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করে। গঠিত কমিটি, গত বুধবার তাদের প্রথম বৈঠকে নানা অসঙ্গতি খুঁজে পায়। পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং সর্বোপরি একটি আসনের মোট ভোটার সংখ্যা কত তার সঠিক তথ্য যাচাই করা। এর জন্য এনআইডির কাছে ইউনিট ভিত্তিক ভোটার তালিকার তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠায়।
এনআইডির পাঠানো তথ্য নিয়ে আসনওয়ারী মোট ভোটার এবং আদমশুমারির অনুযায়ী জেলাওয়ারী জনসংখ্যা সমন্বয় করে নতুন সীমানা বিন্যাস আইনের খসড়া চূড়ান্ত করবে এই কমিটি। কারণ জনসংখ্যার পাশাপাশি ভোটার সংখ্যা ও আয়তন বিবেচনায় নেয়ার পরও বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের আসন অনেকাংশে বেড়ে যাবে। এর আগে ২০০৮ সালে ১/১১ শামসুল হুদা কমিশন ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৩৩টিতে ব্যাপক ভাঙচুর করার মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের জেলায় ৮টি আসন কমার ফলে ঢাকায় আসন বেড়ে যায়। নতুন প্রণয়ন করতে যাওয়া আইনের ক্ষেত্রেও পুরনো চিত্রই বহাল থাকবে। এ কারণে  আইনে কোনো পদ্ধতি সংযোজিত হলে শহর-গ্রামের আসনে অসমতা থাকবে না। এ নিয়েই মূলত বিপাকে পড়েছে কমিশন। কমিটির লক্ষ্য, যে কোনো মূল্যে সংসদীয় আসনে একটি ভারসম্য বজায় রাখা। সীমানা বিন্যাস আইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, এমন বিধান সংযোজন করে সীমানা আইনটি করতে চাই, যাতে পরবর্তী কোনো কমিশনকে সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাস করতে গিয়ে সংকটে পড়তে না হয়। এর জন্য প্রয়োজনে কিছু জেলায় আসন নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে, যা ভোটার ও জনসংখ্যা বাড়ার পরও আসন বাড়ানো-কমানো না লাগে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৭-১১-১৭ ২৩:২৫:৪২

The increase of seats in parliament is necessary. Once the seats were for 1 lakh voter. Maintain the population and increase number of seats. Number of seats can't be constantly remain sane.

আপনার মতামত দিন

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয় আকায়েদ

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে ৫ শতাংশ পরিবার

তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাকে হাইজ্যাক করে ফেলেছে

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আরো বেড়েছে দেশি পিয়াজের দাম

সময় চাইলেন ‘অসুস্থ’ বাচ্চু

ঢাকার আকাশে ঝড়ের ঘনঘটা

বিএনপির প্রচারণায় বাধার অভিযোগ

বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ব্যবহারে বংশের পরিচয়

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’