আবাসন খাতে স্থবিরতা

শেষের পাতা

এমএম মাসুদ | ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৫
নানামুখী কর আরোপ ও নীতি সহায়তার অভাবে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশের আবাসন খাত। এ ছাড়া জমির আকাশচুম্বী মূল্য ও নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খাতটি। এ অবস্থায় অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ক্রেতাদের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে 
আনতে গেইন ট্যাক্স ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করাসহ রেজিস্ট্রেশন বা ভূমি নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি করেছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া গাড়ির মতো রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি করার দাবি করেছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। রিহ্যাব সূত্রে জানা গেছে, গেল কয়েক বছরে মন্দা এখনো কাটাতে পারেনি আবাসন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ২০১০ সালের পর থেকে দেশের আবাসন শিল্প বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়।
ভূমি রেজিস্ট্রেশন ফি বেশি হওয়াই এই মন্দার অন্যতম কারণ বলেও মনে করেন তারা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সব ধরনের কর হ্রাস, বাংলাদেশ ব্যাংকের রি-ফাইন্যান্সিং চালু ও আবাসন খাতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনতে হবে। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে আশংকা তাদের। এদিকে এনবিআর-রিহ্যাবের এক যৌথসভায় এনবিআর বলছে, আবাসন শিল্পকে ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
রিহ্যাব জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ব্যয় সাড়ে ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে গেইন ট্যাক্স ৪ শতাংশ, স্ট্যাম্প ডিউটি ৩ শতাংশ, রেজিস্ট্রেশন ফি ২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ২ শতাংশ এবং ভ্যাট দেড় থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ। তাই রেজিস্ট্রেশন ব্যয় সাড়ে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশে কমিয়ে আনা জরুরি।
রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি বলেন, দেশে ফ্ল্যাটের সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা নেই। সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা চালু হলে এই শিল্পে অর্থের লেনদেন বাড়বে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যেমন প্রথমবার গাড়ি রেজিস্ট্রেশনে যে ব্যয় হয়, দ্বিতীয় বার বিক্রির ক্ষেত্রে এই ব্যয় অনেক কম হয়। গাড়ির মতো আমরা ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য এই ব্যবস্থা চাই। এতে করে সরকারও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। দ্বিতীয়বার বিক্রির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়াসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো রেজিস্ট্রেশন খরচ সর্বমোট ৩% নির্ধারণ করে সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থার প্রচলন করা এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন রিহ্যাবের এই নেতা।
ব্যাবসায়ীরা জানান, কর্মসংস্থানের বড় খাত হওয়া সত্ত্বেও গত চার-পাঁচ বছর ধরে লোকবল ছাঁটাই করছে কোম্পানিগুলো। বর্তমানে আর্থিক সরবরাহের অভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যথাযথ গৃহঋণ না থাকায় বিক্রিত ফ্ল্যাটের রি-পেমেন্ট হচ্ছে না। সময়মতো ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ঋণ খেলাপি হচ্ছে, উচ্চ রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের ফলে ক্রেতারা রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে। তাই সম্ভাবনাময় এ খাতকে এগিয়ে নিতে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় ও গেইন ট্যাক্স কমানো, সেকেন্ডারি বাজার তৈরি এবং স্বল্প সুদে বিশেষ তহবিল গঠন জরুরি। তারা জানান, বর্তমানে ডেভেলপারদের জন্য ৫টি শ্রেণিতে আবাসিকে প্রতি বর্গমিটারে ৩০০-১৬০০ টাকা আয়কর দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিকে প্রতি বর্গমিটারে দিতে হচ্ছে ১২০০-৬৫০০ টাকা। আয়করের এ হারকে প্রতি বর্গমিটারের আবাসিকের জন্য ৩০০-৫০০ টাকা এবং বাণিজ্যিকের জন্য প্রতি বর্গমিটারে ৫০০-২৫০০ টাকায় আয়কর নামিয়ে আনাও প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, প্রতিবছর ১৫-১৭ হাজার ফ্ল্যাট গ্রাহককে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু নিবন্ধন ফিসহ অন্য কর বেশি হওয়ায় ক্রেতারা নিবন্ধন করতে চান না। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। করসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে সাড়ে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। এ উচ্চ রেজিস্ট্রেশন ফি’র কারণে ক্রেতারা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ ট্যাক্স সাড়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করলে রাজস্ব আয় বাড়বে।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, আবাসনে রাজস্ব সংক্রান্ত যে জটিলতা এতদিন ছিল তা আর থাকবে না। ভবিষ্যতে আবাসন শিল্পকে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
রিহ্যাব সূত্র মতে, আবাসন খাতের সহায়ক শিল্প হিসেবে সিমেন্ট, স্টিল, রং, সিরামিকশিল্প গড়ে উঠেছিল। বাংলাদেশে এখন সিমেন্টের উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ কোটি টন। কিন্তু দেশের বর্তমান চাহিদা ১ কোটি ৮০ লাখ টন। আবাসন খাত সচল থাকলে এ অবস্থা থাকত না। নতুন কারখানা গড়ে ওঠারও সম্ভাবনা তৈরি হতো। দেশের স্টিল কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ৭০ লাখ টন। কিন্তু বাজারের চাহিদা না থাকায় উৎপাদন করছে মাত্র ৪০ লাখ টন। সিরামিক পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও দাম কমেছে। কমে গেছে রঙের চাহিদাও। এর পাশাপাশি ইট, আসবাবপত্র, ইলেকট্রিক পণ্যসহ অন্য পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি কমেছে। ফলে এ খাতে নতুন বিনিয়োগ এলে পুরো অর্থনীতিতে সুবাতাস মিলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয় আকায়েদ

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে ৫ শতাংশ পরিবার

তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাকে হাইজ্যাক করে ফেলেছে

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আরো বেড়েছে দেশি পিয়াজের দাম

সময় চাইলেন ‘অসুস্থ’ বাচ্চু

ঢাকার আকাশে ঝড়ের ঘনঘটা

বিএনপির প্রচারণায় বাধার অভিযোগ

বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ব্যবহারে বংশের পরিচয়

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’