নি র্বা চ নী হা ল চা ল, মানিকগঞ্জ- ১

ঘরের শত্রু বিভীষণ

শেষের পাতা

রিপন আনসারী, মানিকগঞ্জ থেকে | ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৮
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরব মানিকগঞ্জ-১ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন। গণসংযোগ আর আলোচনা-সমালোচনার ভাণ্ডার নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন এলাকায়। নেতাদের উদ্দেশ্য কীভাবে একজন আরেক জনকে পেছনে ফেলে দলীয় টিকিট বাগিয়ে আনবেন। তবে আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ বিরোধের মাত্রা বেশি। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যিনিই হবেন, তার জন্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াবে নিজ ঘরের শত্রু। পক্ষান্তরে টানা দুইবার ক্ষমতার বাইরে থাকায় এই আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপির তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ চান জনপ্রিয় প্রার্থী।
সে ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা  খান রিতার নাম উঠে এসেছে জোরালো ভাবে।
পদ্মা-যমুনা ও কালিগঙ্গা নদীবেষ্টিত ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসন। ২০০১ সাল পর্যন্ত বিগত সবগুলো নির্বাচনে শুধুমাত্র ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলা নিয়ে ছিল এই আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুটি উপজেলার সঙ্গে শিবালয় যুক্ত হয়। এখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়। এক সময় তার বাবা প্রয়াত এ এম সায়েদুর রহমান ছিলেন এ আসনের সংসদ সদস্য। মা নীনা রহমান জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনের মধ্যে এই আসনেই শুধু নাঈমুর রহমান দুর্জয় জয়লাভ করেন। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে এবিএম আনোয়ারুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সাল থেকে পেছনের ৫টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। এক সময় বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল এই আসনটি। সে সময় ভোটের রাজনীতিতে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীই সুবিধা করতে পারেননি। তবে সেই প্রেক্ষাপট আর বর্তমান প্রেক্ষাপট এক নয়।
বর্তমান এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের সমালোচনা নিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নিজের ঘরের প্রতিদ্বন্দ্বী সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী। পক্ষান্তরে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের শূন্যতায় আসনটি পুনরুদ্ধারে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ ও বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা চান জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতাকে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলছেন, স্তিমিত হয়ে পড়া এই আসনের তিনটি উপজেলায় বিএনপিকে চাঙ্গা করে তোলার সিংহভাগ কাজই করেছেন আফরোজা খান রিতা। তিনটি উপজেলায় দলীয় সকল কর্মকাণ্ড তার নেতৃত্বে এবং দিকনির্দেশনাতেই হচ্ছে। দীর্ঘদিন এই তিনটি উপজেলায় বিএনপির কমিটি ছিল না। অভিভাবকহীনতায় দিন কাটিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। আফরোজা খান রিতার চেষ্টায় তিন উপজেলাতেই বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছে। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর দলীয় নেতৃবৃন্দ অভিভাবক বলতে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতাকেই বেছে নিয়েছেন। আফরোজা খান রিতার নেতৃত্বে গেল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসনের তিনটি উপজেলাসহ জেলার ৭টি উপজেলাতেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এখানকার দলীয় নেতাকর্মীরা সবদিক বিবেচনা করেই আগামী নির্বাচনে আফরোজা খান রিতাকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাদের পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। সে ক্ষেত্রে আফরোজা খান রিতাকে যদি এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেয়া হয় তাহলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী যিনিই হবেন তার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আফরোজা খান রিতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি আসনেই প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তার জন্য মানিকগঞ্জ-৩ আসনটি আগেই নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। সে প্রস্ততি তার মধ্যে রয়েছে। সে লক্ষ্যে জেলার প্রত্যেকটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনকে আরো বেশি সক্রিয় করে তোলার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবীর। এছাড়া এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দুই পুত্র বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু এবং আরেক পুত্র জেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আরো রয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আমি গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা যদি এই আসনে মনোনয়ন চান কিংবা তাকে যদি মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই। তখন অবশ্যই তার পক্ষে কাজ করবো। তবে তাকে যদি এই আসনে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় সে ক্ষেত্রে তার পরের অবস্থানে অবশ্যই আমি আছি।
আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী তোজাম্মেল হক তোজা বলেন, আমি এর আগেও একাধিকবার এই আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। আগামীতেও চাইবো। কিন্তু জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা যদি মনোনয়ন চান তাহলে প্রার্থী হিসেবে তার জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা আমাদের চাইতে অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে আমি তার পক্ষেই কাজ করবো। আফরোজা খান রিতা ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমি ছাড় দেবো না।
এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা বলেছেন, আমাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে মানিকগঞ্জের তিনটি আসন পুনরুদ্ধার করা। সে লক্ষ্যে দলকে আরো বেশি সুসংগঠিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারুণ্যের অহংকার দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মহোদয় নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনরুদ্ধারে যোগ্য ব্যক্তিকেই দলীয় মনোনয়ন দেবেন।
এই আসনে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। বিগত বেশির ভাগ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী যারাই হয়েছিলেন তাদের জন্য প্রধান সমস্যা ছিল নিজ ঘরের নেতাদের বিরোধিতা। সর্বশেষ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরোধিতাও করেছিলেন নিজ দলের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা। ওই নির্বাচনে প্রতিপক্ষ জাসদ প্রার্থী আফজাল হোসেন খান জকির পক্ষে গোপনে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই কাজ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দুর্জয় বিরোধীরা লাভবান হতে পারেনি। তবে সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে উঠে পড়ে লেগেছেন নিজ দলের প্রভাবশালী একাধিক নেতা। এদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ। যিনি প্রকাশ্যে দুর্জয়ের বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি সভা-সমাবেশ মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন। শুধু এস এম জাহিদই নন তার সঙ্গে যোগ হয়েছেন সাবেক এমপি আনোয়ারুল হক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম। এই তিনজনই বর্তমানে নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বড় বাধা।
এই তিন জনই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদেরকে নির্বাচনী এলাকায় তুলে ধরছেন। তবে এদের মধ্যে জোরালো ভাবে মাঠে নেমেছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ। তিনি সম্প্রতি সভা-সমাবেশ মঞ্চে স্পষ্ট করে তার বক্তব্যে বলেছেন আগামী নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন।
পক্ষান্তরে বর্তমান সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় সর্বক্ষণই মাঠে রয়েছেন। আগামী নির্বাচনেও দলীয় টিকিট নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিতই কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবার পাশাপাশি তার সময়ে তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নমূলক যে সমস্ত কাজ হয়েছে তা তুলে ধরছেন। আগামী নির্বাচনে নৌকার জন্য ভোট চাইছেন। তার সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে তিনি একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং এক সময়কার জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা।
এছাড়া এই আসনে আওয়ামী লীগের আরো মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে রয়েছেন মানিকগঞ্জ পৌর সভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুবাস সরকার। তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন।
দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিগত প্রত্যেক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। এ কারণে গত দুটি সংসদ নির্বাচনের আগের প্রায় নির্বাচনেই দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে আমার মন্তব্য হচ্ছে বার বার প্রার্থী পরিবর্তন একটা ভুল সিদ্ধান্ত। বর্তমানে যিনি সংসদ সদস্য আছেন তাকেই আরেকবার দলীয় মনোনয়ন দিলে জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে অন্যান্য দলের অবস্থান একেবারেই নড়বড়ে। এক সময় জাতীয় পার্টির কিছু ভোট থাকলেও দলের বর্তমান অবস্থা শোচনীয়। জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থীর নাম এখনো শোনা যায়নি।
গত নির্বাচনে জাসদের প্রার্থী ছিলেন জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি। তিনি আগামী নির্বাচনেও সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে ভোটের রাজনীতিতে তার অবস্থান নেই বললেই চলে। তবে কয়েক দিন আগে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এই আসনের ঘিওর উপজেলায় একটি শোকসভায় উপস্থিত হলে জাসদ নেতারা তার কাছে আফজাল হোসেন খান জকিকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে দাবি করেন। এই আসনে জামায়াতের কিছু ভোট আগে থেকেই রয়েছে। এখন তারা নীরব।
সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৭-১১-১৮ ০১:৪৪:৪৮

Lot of Awamileague candidates thinking if they can achieve party nomination they will easily win without vote similar to 2013.

আপনার মতামত দিন

‘নির্বাচনে না আসলে বিএনপির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে’

নিখোঁজ প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার

মালিবাগে গুদামে আগুন

ওয়ালটনে প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম মারা গেছেন

সাবেক প্রক্টর কারাগারে, প্রতিবাদে অবরুদ্ধ চবি

আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের জামিন স্থগিত

এবারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস

‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা’

লেবাননে বৃটিশ কূটনীতিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বিমানে দেখা এরশাদ-ফখরুলের

হলফনামার তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়: সুজন

ছিনতাইকারীর টানাটানিতে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

গুজরাট ও হিমাচলে বিজেপিই জিততে চলেছে

আরো ৪০ রোহিঙ্গা গ্রাম ভস্মীভূত:  এইচআরডব্লিউ

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’