শাহ্‌রাস্তিতে স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধে সন্তানের দাবি ছাড়লেন পিতা

বাংলারজমিন

শাহ্‌রাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি | ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার
চাঁদপুরের শাহ্‌রাস্তিতে স্ত্রীর দেন মোহরের টাকা পরিশোধে সন্তানের দাবি ছাড়লেন এক পাষণ্ড পিতা। স্ত্রীর তালাকের দেনমোহরের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আপন সন্তানকে চাঁদপুর নোটারী পাবলিক কর্তৃক নিদাবি করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। উপজেলার হাজীগঞ্জের ১০নং গন্ধর্ব্যপুর ইউপির দেশগাঁও গ্রামের পাটওয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট পরিবারটির সূত্র জানায়, ওই বাড়ির নুরুল ইসলাম হাজির ছোট মেয়ে মুন্নীকে (৩৫) ২০০১ সালে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিয়ে দেন শাহ্‌রাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উওর ইউপির শোরসাক গ্রামের রাউত বাড়ির আবদুর রবের পুত্র রাজ্জাকের (৫০) সঙ্গে। সুখে শান্তিতে চলছিল তাদের সংসার জীবন। এরই মধ্যে তাদের দাম্পত্য জীবনে আসে একটি পুত্র সন্তান।
এদিকে স্ত্রী মুন্নী জানায়, আমি দীর্ঘ ১৬ বছর সংসার জীবনে স্বামীর আচরণের বিভিন্ন রূপ দেখতে পাই।
যার আচরণে মধ্যে যৌতুক আদায় পরকীয়া, মাদক এবং বহুবিবাহ ছিল অন্যতম নেশা। তার প্রতিটি ভয়ঙ্কর আচরণ আমার শারীরিক ও মানসিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। আমাকে বিয়ের পূর্বে উপজেলার নরিংপুর গ্রামে কোনার বাড়িতে আরো একটি বিয়ে করে। ওই সংসারে ফাইম হাসান সঞ্জু (১৮) নামের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে সংসার জীবনে বহুবার কলহ-বিবাদ লেগেই থাকত। মুন্নী জানায়, স্বামী রাজ্জাক তার রূপে আকৃষ্ট না থেকে হাজিগঞ্জের দেশগাঁও গ্রামের দেশখাগুড়িয়া এলাকায় গোপনে আরো একটি বিয়ে করেন। তাতে ও রাজ্জাক তুষ্ট না হয়ে ঢাকায় আরেকটি বিয়ে করেন। এভাবে তার বহু বিবাহের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক বার তার বিরুদ্ধে সালিশি বৈঠক হয়। সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তাকে পরিবর্তনের সুযোগ দিলেও সে নিজেকে বদলাতে ব্যর্থ হয়। যাতে করে আমার পরিবারে নানান অভাব অনটনের সঙ্গে সন্তানকে নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। আর এ জীবনযুদ্ধ সামলাতে হচ্ছে আমার বাবার বাড়ি থেকেই। অবশেষে আমি আমার স্বামী আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আমলি আদালতে (শাহ্‌রাস্তি থানা) যৌতুক নিরোধ আইনের ৪নং ধারায় একটি মামলা করি, যার সিআর নং ১০৭/১৭। তারই রেশ ধরে চলতি মাসের ৬ তারিখে চাঁদপুর নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে আমার স্বামী আবদুর রাজ্জাক আমার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে। এ ক্ষেত্রে আমার দেনমোহরের ধার্যকৃত টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে তার ঔরসজাত সন্তান আবদুল্লাহকে (১০) চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক আমার বরাবরে নিদাবি করে দেন (যার-নং ৭৮২)। এখন আবদুল্লাই আমার বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন

বিরোধীরা আসলেই কাগুজে বাঘ: মোজাম্মেল হক

গাংনী বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

মহান বিজয় দিবস আজ

চট্টলার সিংহপুরুষের বিদায়

রাজধানীতে বৃদ্ধা ও শিশু খুন

বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল একটা আদর্শ নিয়ে

সবক্ষেত্রে চাই গুণগত সেবা

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারে স্পেন!

কাদের-মওদুদকে ঘিরেই স্বপ্ন দু’দলের

শেষমুহূর্তে তৎপর বিএনপি

ট্রাম্প প্রশাসনের ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব

ইউপিডিএফ ভাঙার নেপথ্যে

মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে দুইয়ে শেখ জামাল

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর

যেভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না