হেলে গেছে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের পিলার আতঙ্কে চট্টগ্রামবাসী

দেশ বিদেশ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার
চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের ল্যুপের একটি পিলার হেলে লোহার ল্যাপিং ভেঙে গেছে। নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেইট এলাকার সফদর আলী ম্যানশনের সামনে ল্যুপের পিলারটি সড়কের দিকে হেলে পড়ে। এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে চট্টগ্রাম নগরবাসী। এ ব্যাপারে যোগাযাগ করা হলে ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান পিলারটি কবে হেলে পড়েছে সেটি জানেন না বলে জানান। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পিলারটি নজরে আসে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, সফদর আলী ম্যানশনের সামনে ল্যুপের পিলারটি তৈরির কাজ চলমান।
সেটিতে ঢালাইয়ের আগে লোহার ল্যাপিং তৈরি করা হচ্ছিল। সম্ভবত ধারণক্ষমতার বেশি লোহা হওয়ায় পিলারটি হেলে লোহার ল্যাপিং ভেঙে পড়ে। তিনি বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর ভেঙে পড়া লোহাগুলো আমরা সরিয়ে নিয়েছি। এতে বিপদের কোন আশঙ্কা নেই। লোহার ল্যাপিং ভেঙে পড়ার সময় কোনোরকম হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এ ঘটনায় সড়কে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। কয়েকজন যানবাহন চালক ও যাত্রী আলাপকালে বলেন, ভেঙে পড়া লোহাগুলোর অর্ধেকাংশ কেটে সোজা করে রাখা হয়েছে মাত্র। সড়কের দিকে হেলে পড়া পিলারটি এখনো সে অবস্থায় রয়েছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কায় সড়ক দিয়ে যান চলাচলে বুক কাঁপছে। পিলার হেলে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণকাজে নিয়োজিত প্রকৌশলী রিকসন বলেন, ফ্লাইওভারের জন্য যে ল্যুপ নির্মিত হচ্ছে সেখানে এক-একটি পিলারে প্রচুর পরিমাণ লোহা দেয়া হচ্ছে। যে পিলারটি হেলে পড়েছে সেটির ধারণক্ষমতার চাইতে লোহা বেশি হয়ে গেছে। ফলে পিলারটি হেলে ঝুঁকে পড়েছে। পিলারটির নিরাপত্তায় প্রকৌশলীরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ১লা অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত। ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫৪ ফুট প্রস্থের ফ্লাইওভারটির মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬৯৬ কোটি টাকা। এরমধ্যে ফ্লাইওভারটির মূল অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা এবং র‌্যাম্প ও ল্যুপ তৈরির কাজে ২৪৬ কোটি টাকা। সিডিএ ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-রেনকিন (জেভি)’র মধ্যে ২০১৪ সালের ২৮শে অক্টোবর এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে গাড়ির চলাচলের সুবিধার্থে ফ্লাইওভারে ৬টি র‌্যামপ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরমধ্যে ফ্লাইওভারের জিইসি মোড়ে ৪টি এবং ষোলশহর দুই নম্বর গেটে বায়েজিদ বোস্তামী রোডের দিকে দু’টি লুপ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একটি লুপ দিয়ে গাড়ি যেতে পারবে এবং অপরটি দিয়ে গাড়ি আসতে পারবে। তবে র‌্যামপ, ল্যুপ ছাড়াই গত ১৬ জুন গাড়ি চলাচলের জন্য ফ্লাইওভারটি খুলে দেয় সিডিএ কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০১২ সালের ২৩শে নভেম্বর সিডিএর নির্মাণাধীন বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে ১৫ জন নিহত হয়। আহত হয় অর্ধশতাধিক। নির্মাণাধীন এই সেতুর পিলার হেলে লোহার ল্যাপিং ভেঙে পড়ার খবরে নগরবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয় আকায়েদ

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে ৫ শতাংশ পরিবার

তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাকে হাইজ্যাক করে ফেলেছে

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আরো বেড়েছে দেশি পিয়াজের দাম

সময় চাইলেন ‘অসুস্থ’ বাচ্চু

ঢাকার আকাশে ঝড়ের ঘনঘটা

বিএনপির প্রচারণায় বাধার অভিযোগ

বিএনপির বিজয় র‌্যালি

ব্যবহারে বংশের পরিচয়

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’