আলোতেই বসছে টিকিটের ‘কালোবাজার’

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৩
সকাল সাড়ে ১০টা, মিরপুর শেরেবাংলা মাঠের ৩ থেকে ৫ নাম্বার গেইট পর্যন্ত দর্শকরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। গতকাল তাই পরিবারের সদস্য নিয়ে একটু আগেভাগেই মাঠে চলে এসেছেন অনেকেই। কারো কারো আগে আসার কারণ টিকিট কিনে ভিতরে ঢুকবেন। মূলত বাচ্চাদের আবদার মেটাতেই অনেক অভিভাবক ঘুরছেন টিকিটের সন্ধানে। এমনই তো চাই টিকিট কালোবাজারিদের। কোনো রাখ-ঢাক নেই, দিনের আলোতেই স্টেডিয়ামের সামনে বসে গেছে টিকিটের ‘কালোবাজার’।
বেশ জোর দিয়ে বিভিন্ন গ্যালারির নাম ধরে ডেকে ডেকে হচ্ছে টিকিট বিক্রি। প্রতিটি টিকিট নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অন্তত ২০০ থেকে ১০০০ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রির চেষ্টা করছে ব্ল্যাকাররা। বিশেষ করে শুক্রবার বন্ধের দিন বলেই ব্ল্যাকাররা যে বেশ বেপরোয়া। তাদের আশপাশেই ঘুরছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু তাদের আচরণে স্পষ্ট যেন তোয়াক্কাই করছে না তারা। একজন ব্ল্যাকারের সামনে দাঁড়াতেই প্রশ্ন কোন গ্যালারির টিকিট চাই আপনার! গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড বলতেই জানিয়ে দিলেন ৩০০০ হাজার টাকা। আর একটার বেশি টিকিট কিনলে লাগবে ২৫০০ টাকা করে। অথচ এ গ্যালারির টিকিট মূল্য ২০০০ টাকা। সবচেয়ে চাহিদা বেশি ২০০ টাকার টিকিটের যে কারণে সেটির মূল্য তাদের কাছে ৫০০ টাকা। না কেনার ইচ্ছে প্রকাশ করে সামনে বাড়তে, পিছন থেকে জানিয়ে দিলেন ‘পরে আসলে দ্বিগুণ দিয়েই পাবেন না ভাই।’
সরজমিনে স্টেডিয়াম এলাকায় ঘুরে দেখা যায় টিকিট ব্ল্যাকে বিক্রি করছে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে তাদের বয়স। এরা সবাই এলাকার মাস্তান ও মাদক ব্যবসায়ী বলেই পরিচিত। যে কারণে স্থানীয় প্রশাসন তাদের চিনলেও খুব সহজেই ধরেন না রহস্যময় কারণে। তাদেরই একজন মাসুম। দিনের বেলাতেই তার সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল নেশা কাটেনি। নিয়মিত নেশা করার ছাপটাও তার চেহারাতে। হাতে ও মুখে কাটা দাগ। কথা বলতেই জানালেন যে কোন কোন গ্যালারির টিকিট তিনি দিতে পারবেন। শুধু নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি দিতে হবে। কোথায় কিভাবে টিকিট দিবেন সেটি জানা যাবে টাকার পরিমাণ নিশ্চিত করার পরই। তবে তারা কোথা থেকে এসব টিকিট পাচ্ছেন তা বলতে একেবারেই নারাজ। মাসুম বলেন, ‘আপনার টিকিট দরকার হলে পাবেন, বলেন কয়টা লাগবে। কিন্তু কোথা থেকে এনে দিবো তা কেন জানতে চান! আমরা এলাকার পোলা আমাদের টিকিট ভূতে এনে দেয়।’
বিপিএলের প্রতিটি আসরেই টিকিট নিয়ে এমন নৈরাজ্য চোখে পড়ার মতো। সিলেটে প্রথমবার আয়োজনেও ছিল টিকিট নিয়ে বড় ধরনের ঘাপলা। জাল ও শেষ হয়ে যাওয়া ম্যাচের টিকিট অন্যদিন বিক্রি করে ধরা পড়েছে বিসিবির টিকিট ও সিটিং কমিটির দুই অস্থায়ী কর্মচারীও। কিন্তু মিরপুরে টিকিট কালোবাজারিরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কোথা থেকে তারা টিকিট পান এ প্রশ্নের বেশ কয়েকটি উত্তর পাওয়া যায় অনুসন্ধানে। এখানে বিসিবির কিছু কর্মচারী টিকিট সরবরাহ করে থাকেন ব্ল্যাকারদের। এছাড়াও মিরপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বুথ থেকে লাইন দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে সেগুলো বিক্রি করা হয় বাইরে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানকে দেয়া সৌজন্য টিকিটও রয়েছে ব্ল্যাকারদের হাতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এখানে বিসিবি ভিতরের লোকদের সম্পৃক্ততা ছাড়া টিকিট পাওয়া বেশ কঠিন। যদিও তার দাবি, ‘আমরা ধরি কিন্তু এখানে যারা বাইরে টিকিট বিক্রি করছে বেশির ভাগই নেশাগ্রস্ত। তাদের আটকে রেখে কোনো লাভ হয় না। এছাড়াও রাজতৈকি প্রভাব তো আছেই।’
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য ২ হাজার টাকা, শহীদ জুয়েল ও মুশতাক স্ট্যান্ডে ৫০০ টাকা, আন্তর্জাতিক গ্যালারিতে ৫০০ টাকা, নর্দার্ন ও সাউদার্ন স্ট্যান্ড ৩০০ টাকা, ইস্টার্ন স্ট্যান্ড ২০০ টাকা। কিন্তু দর্শকরা ব্যাংকে টিকিট পান না, মিরপুর শেরে বাংলার আশাপাশের বুথ গুলোতেই টিকিট পাওয়া যায় না। কিন্তু গ্যালারির অনেক আসন রয়েছে ফাঁকা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন

বিরোধীরা আসলেই কাগুজে বাঘ: মোজাম্মেল হক

গাংনী বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

মহান বিজয় দিবস আজ

চট্টলার সিংহপুরুষের বিদায়

রাজধানীতে বৃদ্ধা ও শিশু খুন

বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল একটা আদর্শ নিয়ে

সবক্ষেত্রে চাই গুণগত সেবা

বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারে স্পেন!

কাদের-মওদুদকে ঘিরেই স্বপ্ন দু’দলের

শেষমুহূর্তে তৎপর বিএনপি

ট্রাম্প প্রশাসনের ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব

ইউপিডিএফ ভাঙার নেপথ্যে

মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে দুইয়ে শেখ জামাল

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৮ ডিসেম্বর

যেভাবে অপহরণকারীদের হাত থেকে মুক্ত হলেন সিলেটের ব্যবসায়ী মুন্না