অবশেষে পাকড়াও সেই চোর

এক্সক্লুসিভ

হাসান শাফিঈ | ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৬
প্রায় এক মাস পর পাকড়াও হয়েছে বিদেশে বসবাসকারী ব্যক্তির বাড়িতে হানা দেয়া সেই স্মার্ট নারী চোর। রাজধানী দারুস সালাম থানা পুলিশ বর্ধনবাড়ী এলাকা থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করে। আটকের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৯ হাজার টাকা। পরে আদালতে হাজির করে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। সুমী নামের এই নারী চোরকে আটকের বিষয়ে দারুস সালাম থানার ওসি (তদন্ত) ফারিকুল আলম মানবজমিনকে বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বর্ধনবাড়ীর এক বাসার নিচে গিয়ে দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করে, এটা কি সনিদের বাসা।
বাসার দারোয়ান মহিলাকে জানান, হ্যাঁ। তবে এখানে দাঁড়ান, সনির বাবা নিচেই আছে। তার সঙ্গে কথা বলুন। এক-দু’মিনিটের মধ্যে সনির বাবা বাইরে থেকে গেটে আসেন। দারোয়ান মহিলাকে সনির বাবার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। আলাপের শুরুতে ওই নারী সালাম জানিয়ে বলেন, আঙ্কেল আমি ফ্রান্স থাকি, প্যারিসে। আপনার মেয়ে আমার বান্ধবী। গতকাল রাতে সনির সঙ্গে কথা হলো। তাকে বললাম, তুমি দেশে থাকলে ভালো হতো। আগামী সপ্তাহে আমার জন্মদিন, তোমাকে দাওয়াত দিতাম! এ কথায় সনি বললো, আমি নেই তো কি হয়েছে, তুমি বাসায় গিয়ে আমার-বাবাকে দাওয়াত দিয়ে এসো। আমি তাদের তোমার জন্ম দিনে পাঠিয়ে দেবো। এজন্যই এলাম। এ কথায় বিশ্বাস করে সনির বাবা ওই নারীকে দোতলার বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় গিয়ে দু’-চার মিনিট পর ওই নারী বলে, চাচা নিচে লাল গাড়িতে করে আমার হাজব্যান্ড আসছে। আপনি গিয়ে একটু রিসিভ করে ওকে উপরে নিয়ে আসুন। সনির বাবা নিচে গেলে নারী সনির মাকে বলে, আন্টি দ্রুত একটু ভালো কাপড়-চোপড় পরুন। আপনার জামাই প্রথম বাসায় আসছে। একটু তৈরি হয়ে নিন। মহিলার এমন কথায় আলমারি খুলে কাপড়-চোপড় নিয়ে সনির মা বাথরুমে ঢোকেন। এ সুযোগে মহিলা আলমারিতে রক্ষিত ২৯ হাজার টাকা নিজের ভ্যানিটি ব্যাগে ভরে ফেলে। এরপর সনির বাবা দোতলায় উঠার সময়ে দেখেন ওই নারী নেমে যাচ্ছে। হঠাৎ-ই তার নারীটিকে সন্দেহ হয়। তিনি দারোয়ানকে গেট বন্ধ করতে বলেন। গেট বন্ধ করে তিনি ফোন করেন থানায়। আমরা গিয়ে ২৯ হাজার টাকাসহ তাকে আটক করি। ফারিকুল আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নারী তার নাম সুমী আক্তার বলে জানায়। মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে চুরি করার বিষয়টিও স্বীকার করে। সে এও বলে, চুরির পাশাপাশি সে কলগার্ল হিসেবেও মানুষের বাসায় যায়। চুরি করে। তবে সে তার সঙ্গে আর কারা জড়িত তা জানায়নি। এ কারণে অধিকতর তথ্য আদায়ের জন্য তাকে আদালতের মাধ্যমে দুইদিনের রিমান্ডে আনা হয়। যদিও রিমান্ডে সে খুব বেশি তথ্য দেয়নি। ওসি (তদন্ত) বলেন, আমাদের ধারণা ওই নারী এখনও নিজের সঠিক নাম আমাদের জানায়নি। যে নাম সে বলেছে, তা হয়তো সঠিক নয়। সে খুবই ধুরন্ধর প্রকৃতির মহিলা। ওসি তদন্ত আরো জানান, এই মহিলা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমার জানা মতে, এর আগে সে আদাবর, বিমানবন্দর ও বনানী থানা এলাকায় একই কায়দায় চুরি করে হাওয়া হয়ে গেছে। বিদেশে থাকা ছেলেমেয়ের গল্প বলে এর আগে একজন জজের বাসায়ও সে চুরি করেছে। পুলিশের হাতে আগে এক দফা ধরা পড়ে জেলও খেটেছে। তবে স্বভাব বদলায়নি। চুরি মামলায় অল্প দিনের মধ্যে জামিন পেয়ে যায় বলে এবার আমরা বিশ্বাস ভঙ্গ করে চুরির অপরাধ করার ৪০৬ ধারায় মামলা দিয়েছি। আদালতে আমরা এ মামলা প্রমাণ করতে পারলে তার ৮ বছরের সাজা হওয়ারও সুযোগ আছে। আশা করি, মামলায় আমরা প্রমাণ করতে পারবো। কারণ, তার কাছ থেকে চুরি হওয়া টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আশফাক

২০১৭-১১-১৮ ১২:৪৬:১৯

এ খবরের সাথে ওই ধুরন্ধর চোর মহিলার ছবি দেয়া খুবই দরকার ছিলো, যাতে লোকে সাবধান থাকতে পারে। কিন্তু সেটা করা হয়নি।

আপনার মতামত দিন