রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যর্থ হলেন আসিয়ান নেতারা

বিশ্বজমিন

বিল ফ্রেলিক | ১৫ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:১৮
বার্মার (মিয়ানমার) সেনাবাহিনীর জাতি নিধনের বিষয়টি এ সপ্তাহে ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে সামনে আনতে ব্যর্থ হলেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতারা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো ওই জাতি নিধনযজ্ঞে কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এমনকি তাদের সমাপনী বিবৃতির খসড়ায় এই নির্যাতিত মুসলিম সংখ্যালঘুদের ‘রোহিঙ্গা’ নাম উল্লেখ করতেও প্রয়োজন বোধ করে নি। এ সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা বলার পরিবর্তে বলা হচ্ছে রাখাইন রাজ্যের ‘আক্রান্ত সম্প্রদায়’। সেখানে রাখাইনের ‘আক্রান্ত সম্প্রদায়ের’ জন্য মানবিক সহায়তা দেয়ার বিষয়টি মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছে। এ বিষয়ে নেতারা অন্তত কড়াভাবে কথা বলা থেকে বিরত থেকেছেন।
এতে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা এরা কি মানুষ নন? তাহলে কি বেশি বলা হবে। তারা শরণার্থী হিসেবে তাদের অধিকার সংরক্ষণ করেন, তাদের জাতিগত পরিচয়কে অস্বীকার করা ও বার্মার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেইÑ এসব বিষয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলা কি বাড়িয়ে বলা হবে? সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সহায়তার জন্য মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ‘দশ দফা মূলনীতি’ ঘোষণা করেছে। এর উদ্দেশ্য শরণার্থীদের সুরক্ষা দেয়া, আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষগুরোকে সহায়তা করা।
প্রথমত: বার্মা যেথেক যেসব রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছেন তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা। এর পক্ষে ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে। যেমন এবারের অভিযানে গণহত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণ করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আরো নানা রকম নির্যাতন করা হয়েছে (এক্ষেত্রে মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অপরাধ ঘটানো হয়েছে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ), রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন সেদেমের সরকারের জন্য একটি নিয়মিত প্যাটার্নে দাঁড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ যে নৃশংসতা ঘটানো হয়েছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার দাবি কার্যত প্রত্যাখ্যান করা, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মিয়ানমারে বসবাস করলেও তাদের বিরুদ্ধে এসব ভয়াবহ নির্যাতনের বিষয়টিতে জোর দেয়া প্রয়োজন। সরকারের এসব কর্মকা-ের ফলে রোহিঙ্গাদের চলাচলে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাদের স্বাস্থ্যসেবা সীমিত। তাদের জীবন জীবিকা, আশ্রয়, শিক্ষার অধিকার নেই। রয়েছে খেয়ালখুশি মতো তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বন্দি করে রাখার রীতি।  
সংশ্লিষ্ট সব মহল যদি মেনে নেয় যে এরাই হলো ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী’ তাহলে তা হবে প্রথম মৌলিক সাড়া, যার মধ্য দিয়ে তাদের অধিকারকে নিশ্চিত করা যায়।
অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী হিউম্যান রাইটস ওয়াটকে বলেছেন, তারা দেশে ফিরতে চান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অথবা অদূর ভবিষ্যতে সে অবস্থার যে পরিবর্তন হবে তা মনে করছেন না কোনো রোহিঙ্গাই। ফলে যারা সাক্ষাতকার দিয়েছেন তারা মনে করছেন তাদের পক্ষে এই পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া নিরাপদ নয়। এক্ষেত্রে বার্মা যদি দেশে ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ অধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করে, সমান জাতীয় অধিকার নিশ্চিত করে, নির্যাতিতদের জন্য সুবিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তবেই স্বেচ্ছায় বার্মা ফিরে যাওয়া তাদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদার হবে।
(বিল ফ্রেলিক, পরিচালক, রিফিউজি রাইটস প্রোগ্রাম। হিউম্যান রাইটস ওয়াচে লেখা তার নিবন্ধের অনুবাদ)

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি

‘বিএনপি নির্বাচনে না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে’

আনন্দ শোভাযাত্রার রুট ম্যাপ দেখে চলাচলের অনুরোধ ডিএমপির

‘হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমারদেশ প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে’

সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে

কাউন্টারে টিকেট নেই, দ্বিগুণ দামে মিলছে ফেসবুকে!

৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি সরকারিভাবে উদযাপন আগামীকাল

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে তারা গুমের সঙ্গে জড়িত’

শপথ নিলেন মানাঙ্গাগওয়া

বাণিজ্য, জ্বালানী ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

‘বিএনপির ভোট পাওয়ার মতো এমন কোনো কাজের নিদর্শন নেই’

তাজরীন ট্র্যাজেডির ৫ বছর, শেষ হয়নি বিচার

দুই দফা জানাজা শেষে নেত্রকোনার পথে বারী সিদ্দিকীর মরদেহ

রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তি ‘স্টান্ট’: এইচআরডব্লিউ

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী