রমরমা শুক্রাণু ব্যবসা

বিশ্বজমিন

ইকোনমিস্ট | ১৫ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৩
বলিউডের ‘ভিকি ডোনার’ ছবিটি অনেকেই দেখেছেন। শুক্রাণু বিক্রি করে বেশ টাকা কামানো এক যুবককে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় ছবির গল্প। শুধু রূপালী পর্দায়ই নয়, শুক্রাণু দানের চর্চা কিন্তু বাস্তবেও আছে। পশ্চিমে এক সময় চর্চাটা সীমিত ছিল পড়াশুনার ফাঁকে টুপাইস কামানোর চিন্তায় থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে। কিন্তু শুক্রাণু দানের ব্যবসা এখন বেশ রমরমা! লন্ডন-ভিত্তিক ম্যাগাজিন ইকোনমিস্টের এক নিবন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই ব্যবসার আদ্যপান্ত।  
আশির দশকে এইডসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে এই ব্যবসা নিয়ে রাখঢাক দূর হয়।
দানকৃত শুক্রাণু পরীক্ষা-নীরিক্ষা ও ব্যবস্থাপনার খরচ ও ঝুঁকি দুইই এ সময় বেড়ে যায়। তখন শুক্রাণু দানের ব্যবসা লুফে নেন অনেক উদ্যোক্তা। ব্লাড ব্যাংকের আদলে গড়ে উঠে শুক্রাণু ব্যাংক! আর আজ দক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে যারা বিদেশেও শুক্রাণু রপ্তানি করতে পারছে, তারা বেশ ভালো অঙ্কের ব্যবসাই করছে। কিন্তু কীভাবে?
মূলত, দু’টি কারণে উদ্যোক্তারা সুবিধা করতে পেরেছে। প্রথমত, অনেক দেশেই শুক্রাণু দানের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ আছে। ফলে সেসব দেশে চাহিদা অনুযায়ী শুক্রাণুর জোগান নেই। বৃটেন সহ অনেক দেশেই বেনামে শুক্রাণু দান করা অবৈধ করা হয়। কিন্তু, বেশিরভাগ দাতাই স্বনামে শুক্রাণু দানে আগ্রহী নন। আবার কিছু দেশে শুক্রাণু দান করা যায়, কিন্তু বিনিময়ে টাকা নেওয়া অবৈধ। এ কারণেই এই দেশগুলোতে শুক্রাণু দান করার মতো লোক পাওয়াই মুশকিল হয়ে পড়ে। আর এই সংকটের কারণেই সন্তান ধারণে অক্ষম লোকজন বিদেশ থেকে শুক্রাণু কেনার কথা ভাবতে শুরু করে।
দ্বিতীয়ত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমকামীতাকে মেনে নেওয়া হচ্ছে। এসব পরিবারের সবচেয়ে বড় অভাবই হলো সন্তান। এই অপূর্ণতা গুছাতেই নারী-সমকামী দম্পত্তি বা স্বামীহীন নারীরা বিকল্প উপায়ে সন্তান ধারণের কথা ভাবেন। অনেক দেশেই আবার দানকৃত শুক্রাণুর মাধ্যমে নারীদের সন্তান ধারণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। ফলে এসব নারীরা শুক্রাণুর জন্য বিদেশমুখী হতে দ্বিধা করেন না।
সবচেয়ে চতুর প্রতিষ্ঠানগুলো এসব দেশকেই টার্গেট করে। তারা শুক্রাণু সরাসরি সেসব দেশের ক্লিনিকে রপ্তানি করে, যেসব দেশে শুক্রাণু দানের ওপর কড়াকড়ি আছে। সম্ভবত, আরও বেশি অর্থ পাওয়া যায় যদি সরাসরি আগ্রহী দম্পত্তি বা ব্যক্তির কাছে শুক্রাণু বিক্রি করা যায়। ইন্টারনেট আর কুরিয়ার সার্ভিসের এই যুগে, বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে শুক্রাণু অর্ডার দিয়ে ঘরে নিয়ে আসাটা কঠিন কোনো কাজ নয়।
আমেরিকান শুক্রাণু ব্যাংকগুলো ব্যবসার ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে। এদের কেউ কেউ দাবি করে, একজন শুক্রাণু দাতা মাসে সর্বোচ্চ ১৫০০ ডলারও আয় করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যৌনক্রিয়া থেকে অনেকটাই অনিয়মিত হয়ে যেতে হয় দাতাকে।
প্রত্যেক বারের জন্য সাধারণত দাতা ১০০ ডলার পেয়ে থাকেন। প্রতিবার যে পরিমাণ শুক্রাণু পাওয়া যায়, তা ৫টি বোতলে রাখা যায়, যেগুলোর প্রত্যেকটি ৫০০ থেকে ১০০০ ডলারে বিক্রি করা সম্ভব। আর বেশিরভাগ ক্রেতাই একাধিক বোতল কেনেন। দাতা খুঁজে পাওয়া, পরীক্ষা, পুনঃপরীক্ষা, শুক্রাণু সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের খরচ একেবারে কম নয়। তবে সব খরচ বাদ দিয়েও মুনাফা থাকে ঢের।
এই ব্যবসায় প্রতিযোগিতাও আছে ব্যপক। গ্রাহকদের বাড়তি সুবিধা দিতে অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের ‘পণ্য’ তথা শুক্রাণুর নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে থাকে। অনেকে আবার নিজেদের ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন দেন জনপ্রিয় ডেটিং সাইটে। ওয়েবসাইটে ক্রেতারা পছন্দসই বৈশিষ্ট্যের শুক্রাণুও বেছে নিতে পারেন। চোখের রং, শিক্ষা বা শখ -- দাতার নানাবিধ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী অনেকে শুক্রাণু বেছে নেন। অনেক প্রতিষ্ঠান আবার বেশি অর্থের বিনিময়ে দাতার অতিরিক্ত তথ্য জানার সুযোগ দেয় গ্রাহককে। যেমন, ২৫ ডলার দিয়ে হয়তো দাতার ছোটবেলার ছবি দেখে নিতে পারেন গ্রাহক। কারণ, ধরেই নেওয়া হয়, শুক্রাণু দাতার অনেক বৈশিষ্ট্য পাবে সন্তান।
এই ব্যবসা নিয়ে বিতর্ক যে নেই তা নয়। মুক্ত বাজার অর্থনীতির সবচেয়ে কট্টর সমর্থকরাও এই প্রশ্নে একমত নন যে, শুক্রাণু বা দেহের অন্যান্য টিস্যু আর দশটা পণ্যের মতো বাধাহীনভাবে বিক্রি করতে দেওয়া উচিত কিনা। দানকৃত শুক্রাণু থেকে যে সন্তান জন্ম নেবে তার স্বার্থের কথা চিন্তা করে, শক্ত যুক্তি খাড়া করা যায় যে, এই ব্যবসায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা উচিত। যেমন, সব শুক্রাণুধার রোগমুক্ত কিনা তা পরীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা আরোপের কথা বলেন অনেক।
কিন্তু কে দানকৃত শুক্রাণুর মাধ্যমে সন্তান ধারণ করতে পারবেন, আর কে পারবেন না, তা যদি নৈতিকতা-উদ্ভূত নীতিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করার চেষ্টা করা হয়, তবে বৈষম্যমূলক হয়ে যায়। আবার এখনকার ইন্টারনেট শপিং-এর যুগে এসব বিধিনিষেধ অকার্যকরও।
শুক্রাণু দানের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালা, অপ্রতুলতা ও উচ্চমূল্যের (এক দশকে দ্বিগুণ হয়েছে দাম) কারণে গ্রাহকরা শুক্রাণুর অন্য উৎসও খুঁজছেন। এর মধ্যে আছে এক আন্তর্জাতিক কালোবাজার, যা নজরদারির আওতায় নেই। ফলে নিয়ন্ত্রণ আরোপও খুব কাজের কথা নয়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে চীনের তিন দফা প্রস্তাব

সিএনজি অটোরিকশার ৪৮ঘন্টার ধর্মঘট

শাহজালালে ৩ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণসহ আটক ১

দীপিকার মাথা কাটলে পুরস্কার ১০ কোটি রুপি!

নিউ ক্যালেডোনিয়ায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প

কেন সৌদি আরব ও ইরান পরস্পরের প্রতিপক্ষ?

বন্দুকের নলের মুখেও ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নন মুগাবে

বাংলাদেশের বন্ধু, মার্কিন কূটনীতিক হাওয়ার্ড বি শেফার আর নেই

তারেক রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

গেদে সীমান্তে পিতা-পুত্রের মিলন, আবেগঘন এক দৃশ্য

বিএনপির নেতার বাসার সামনে থেকে বোমা উদ্ধার

‘পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি যৌন নিপীড়ক’

দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার পঙ্কজ রায়

কেক কেটে তারেক রহমানের জন্মদিন পালন

মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলো যুবক

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার