হবিগঞ্জবাসীর দুঃখ সুতাং নদী

বাংলারজমিন

রাশেদ আহমদ খান, হবিগঞ্জ থেকে | ১৫ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার
হবিগঞ্জের সুতাং নদী। এক সময়ের খরস্রোতা এ নদীটি এখন মৃতপ্রায়। দীর্ঘদিন ড্রেজিং না করা ও শিল্পনগরীর বর্জ্য এ নদীটিকে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত করেছে। নদীর পানি এখন চিটা হয়ে গেছে। এতে অস্তিত্ব হারাচ্ছে এ নদীটি। শিল্প বর্জ্যের দূষণে নদীটি এখন হবিগঞ্জবাসীর দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মারাত্মক দূষণে পানি বিষাক্ত হয়ে মরে যাচ্ছে নদীর মাছ। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কয়েক হাজার জেলে। অন্যদিকে চাষাবাদে দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল। এছাড়া নদীর পানি ব্যবহার করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। সুতাং নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এর দৈর্ঘ্য ৮২ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৩৬ মিটার এবং প্রকৃতি সর্পিলাকার। সুতাং নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভ করে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারপর লাখাই উপজেলার কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। সরেজমিন অলিপুর শিল্প এলাকার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় চরম শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বসবাসকারীরা। স্থানীয়রা জানান, জেলার অলিপুরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা কলকারখানার দূষিত বর্জ্য সুতাং নদীতে ফেলা হচ্ছে। এখানে গড়ে উঠা অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠানে নেই প্রয়োজনীয় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি)। যেসব কোম্পানিতে ইটিপি রয়েছে সেগুলো অতিরিক্ত খরচের ভয়ে নিয়মিত চালানো হচ্ছে না। সরকার ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দেখাতে অনেক কোম্পানি ইটিপি স্থাপন করেছে। কিন্তু এগুলো বন্ধ রেখে কারখানার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সুতাং নদীতে। এ ব্যাপারে নিয়মিত নজরদারি নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলদের। এ সুযোগে অলিপুর শিল্প এলাকার ৩০/৩৫টি কারখানার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সুতাং নদীতে। এর ফলে নদীতীরবর্তী বুল্লা, করাব, লুকড়া, নূরপুর, রাজিউড়াসহ বেশকটি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে কৃষি, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পাশাপাশি মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। সুতাং গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ মোহাম্মদ রাসেলসহ কয়েকজন কৃষক জানান, সুতাং নদীটি ড্রেজিং এর অভাবে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের নজরদারীর অভাবে বহমান এ নদীটি কালের আবর্তে বিলীন হতে চলেছে। পাহাড়ি ঢল ও অতি বর্ষণের ফলে ভারত থেকে আসা উজানের পানি ও পলি মাটিতে ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে নদীটি। কৃষকরা জানান, সুতাং নদীর পানি ব্যবহার করে লাখাই উপজেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বোরো জমিতে চাষাবাদ হয়। নদীর পানির অভাবে প্রতি বছর চাষাবাদ করতে কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে বোরো উৎপাদন। এছাড়া লাখাই উপজেলার মোট ১৪টি গভীর নলকূপ, ১’শ ৩৮টি অগভীর নলকূপ এবং ৪শ’ ৮০টি পাওয়ার পাম্প চালিত মেশিন দ্বারা সেচ দিয়ে থাকেন কৃষকরা। সুতাং নদীসহ স্থানীয় খাল বিলের উপর স্থাপিত হয় পানি সেচের এসব পাওয়ার পাম্পগুলো। ফাগুন মাসের প্রথমদিকে সুতাং নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মেশিনগুলো বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। স্থানীয় রাজিউড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম বাবুল জানান, এলাকাবাসীর বাধারমুখেও অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান নদীতে তাদের বর্জ্য ছাড়ছে। কৃষিকাজে সেচের জন্য খননকৃত শৈলজুড়া খাল দিয়ে সুতাং নদীতে ঢুকছে কোম্পানীগুলো বর্জ্য। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনও রহস্যজনক কারণে এ ব্যাপারে নির্বিকার। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল জানান, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, গবাদি পশু ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কয়েকবার আন্দোলন করেছে স্থানীয়রা। পরিবেশ দূষণের অভিযোগে মার লিমিটেড নামে একটি কোম্পানিকে বন্ধ করে দিয়েছিল এলাকাবাসী। কিন্তু আবার গোপনে চালু হয়েছে কোম্পানিটি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগসাজশে চলছে এসব অনিয়ম। তিনি বলেন, সুতাং নদী এখন স্থানীয়দের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই সরকার যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে স্থানীয়দের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘সম্মতি ছাড়া নারীকে স্পর্শ নয়’

‘বোতলবন্দি ভূত’ বিক্রি করতে গিয়ে আটক ৪

লালবাগে হেলে পড়েছে পাঁচতলা ভবন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিং শুরু

‘আমাকে অবরুদ্ধ রাখা হয়নি’

‘ভূমির মালিকানা পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীরই থাকবে’

জনগণ সতর্ক নজর রাখছে

ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার লক্ষণ

কেরানীগঞ্জে প্রকৌশলী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

যে ছবি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিতর্কের ঝড়

১৩ ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ, অবরুদ্ধ অবস্থার সমাপ্তি

সৌদির সঙ্গে হজ চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন

সঙ্ঘকে ধরে দিল্লির কাছে পৌঁছতে চাইছেন খালেদা

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সেবা বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে পর্যটকরা

‘এটি অন্যরকম অনুভূতি’

অচলাবস্থা নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পা রাখলেন ট্রাম্প