নদীপাড়ের মানুষ-১

যমুনায় হাঁটু জল বন্ধ নৌরুট বিপাকে কৃষক

বাংলারজমিন

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে | ১৫ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার
চরম নাব্য সংকটে যমুনা। ১৯৯৮ সালের পর থেকে যমুনা সেতুর উজানে নদী ভড়াট হয়ে চর জাগতে শুরু করে। এখন যমুনা সেতুর উজানে সিরাজগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত ২৩০ কিলোমিটার নদীতে ছোট বড় চরের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। নতুন আরো এক হাজার চর জেগে ওঠার অপেক্ষায়।
যমুনার মূল উৎপত্তি ভারতে। উৎপত্তিস্থল থেকে যখন পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে তখন এর গতি থাকে অনেক। পানির গতির কারণে ভরতের অংশের মাটি বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন টন বাংলাদেশের নদীতে পড়ে।
এর ফলে ক্রমান্বয়ে নদী ভরাট হতে থাকে। নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে অল্প পানিতেই বন্যার সৃষ্টি হয়।
একসময়ের প্রমত্তা যমুনা এখন নাব্য হারিয়ে বিভিন্ন রুটে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যমুনার বুকে এখন ধু-ধু বালু চর। মাইলের পর মাইল হেঁটে চরে বসবাসরত মানুষকে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি হতে জামালপুরের মাদারগঞ্জ সদরের সঙ্গে যোগাযোগে কোনোমতে যাত্রীবোঝাই নৌকা চলছে। এতে চলাচলে চরম দুর্ভোগ ছাড়াও বিভিন্ন নৌপথে মালামাল বহন বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে চরে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের বিপণন নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে চরের কৃষক। চরে এখন নিয়মিত চাষ হচ্ছে মরিচ, আলু, বাদাম, গম, ভুট্টাসহ প্রায় সব রকমের রবি ফসল।
স্থানীয়রা জানান, এককালে যমুনা নদীর গভীরতা থাকায় বিভিন্ন সমুদ্র বন্দরের সাথে জাহাজ, কার্গো ও পাল তোলা বড় বড় নৌকা দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত। একারণে পণ্য পরিবহনে খরচ কম হতো। এবং উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য সহজে ও অল্প খরচে দেশের শিল্প এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হওয়ায় কৃষকেরা পণ্যের নায্যমূল্য পেতেন। এখন পলি আর বালিতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়েছে। দেখা দিয়েছে অসংখ্য ছোট বড় বালুর চর। এসব বালুচরের কারণে বর্ষা মৌসুমেও নৌকা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এছাড়াও উজান থেকে নেমে আসা সামান্য ঢলের পানিতেই নদী পরিপূর্ণ হয়ে নদীতে অকাল বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পর পরেই নদীতে নতুন নতুন চর জেগে উঠায় নৌকা আর চলে না। ফলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করা যায় না। আবার বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে হাট-বাজার, অফিস আদালত, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজে সময়মতো আসা তাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা। নদী নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় চরে তাদের বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীতে না চলছে নৌকা আবার ধু-ধু বালুতে না চলছে কোনো যানবাহন। মাইলের পর মাইল তপ্ত বালুতে পায়ে হেঁটেও পথ চলা যায় না। সারিয়াকান্দি সদরের সঙ্গে চরাঞ্চলের যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য যুগ যুগ ধরে এ এলাকার কালিতলা ঘাটে নৌঘাট থাকলেও যমুনা নদী বালুতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী কোনো নৌকা সেখানে ভিড়ছে না। স্বল্প পরিসরে নৌকা চলাচল করলেও খাল পাড় হয়ে আসতে যাত্রীদের নৌকা থেকে নেমে ঠেলে পার করতে হয়। তাও আবার ঘাটে পৌঁছুতে সময় লাগছে তিন-চারগুণ। ডুবো চরের ভয়ে সন্ধ্যার পরপরেই নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে ইউরিয়া সার ও অন্যান্য মালামাল বোঝাই নৌকা কালিতলা ঘাটে ভিড়ছে না। তবে এসব পণ্যবাহী নৌকা সদর থেকে ৫-৬ কিলোমিটার ভাটিতে মথুরাপাড়া ঘাটে ভিড়ছে। এতে সময় ও খরচ পড়ছে বেশি। পাকুরিয়া চরের মাসুদ হাসান, সাবজল হোসেন, আবদুল মান্নান, আফজাল হোসেন, রহমত আলী জানান, আগে এ যমুনা নদীর পথে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন বন্দর থেকে তেল সারসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে জাহাজ চলাচল করায় এটা জাহাজ গড়ান নদী হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত রয়েছে। নদীর গভীরতা হারিয়ে যাওয়ায় গত বছরের বন্যার পর থেকে আর কোনো জাহাজ কার্গো উত্তর দিকে যাতায়াত করছে না। এখন নদীর এমন অবস্থা জাহাজ তো দূরের কথা পণ্যবোঝাই নৌকা নিয়ে হাটে ঘাটে যাওয়াই কঠিন। কাজলা ইউনিয়নের চকরথিনাথ চরের সাহের আলী, বেণীপুর চরের আবদুস সালাম, নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পায়ে হেঁটে বালু পথ পাড়ি দেয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। সারিয়াকান্দি সদরে আসতে আগে সকালে বাড়ি হতে বের হয়ে আবার দুপুরের মধ্যেই বাড়ি ফেরা যেত। আর এখন সকালে বাড়ি হতে বের হয়ে রাতের আগে বাড়ি ফেরা যায় না। এ কারণে আমরা সাত আট মাস ধরে সারিয়াকান্দি হাটে আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। নয়াপাড়া চরের সেকেন্দার আলী জানান, বাড়ির ঘাটে নৌকা ভিড়ায় আগে বাড়ি থেকেই স্কুলে লেখাপড়া করত। কিন্তু এখন অনেক পথ হেঁটে চর পাড়ি দিয়ে স্কুলে পৌঁছা কঠিন হয়ে পড়ায় ছাত্রছাত্রীদের অন্যের বাড়িতে রেখে পড়া শিখাতে হচ্ছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডেও সেকশন অফিসার ময়েজ উদ্দিন জানান, যমুনা নদী ড্রেজিং করার জন্য কোন বরাদ্দ নেই। তবে বাঙ্গালী নদী ড্রেজিংয়ের জন্য একটি আদেশ ইতিমধ্যেই তাদের দপ্তরে এসেছে। বগুড়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীর ২৩ পয়েন্টে ২০ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের জন্য ফাইল প্রস্তুত হচ্ছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিএনপিকে ভোট দিয়ে অশান্তি ফিরিয়ে আনবে না জনগণ: প্রধানমন্ত্রী

অভিযোগ মিথ্যা এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ করিনি

আরো ব্লগার হত্যার হিটলিস্ট

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, অতঃপর...

ফের বেড়েছে বিদ্যুতের দাম

চাহিদা নেই, তবুও রাজউকের নতুন ফ্ল্যাট প্রকল্প

‘আনিসুল হককে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা ভিত্তিহীন’

মৌলভীবাজারে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ভিডিএন চেয়ারম্যান ও এমডি

সিলেটে জামায়াতের ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’, জল্পনা

সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

রোহিঙ্গা জাতি নিধনের তুমুল সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

যশোর জেলা স্পেশাল জজের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার না করতে বলা হলো পোপকে

অসুস্থ রাজনীতি বাংলাদেশকে গ্রাস করছে: ড. কামাল হোসেন