কুমিল্লার এক মাদরাসা শিক্ষকের তিন জন্ম তারিখ

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে | ১৫ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বরকরই পীর মঞ্জিল দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার আবদুল মতিনের ৩টি জন্ম তারিখের সন্ধান মিলেছে। জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে এসব জন্ম তারিখ ব্যবহার করে তিনি চাকরি ও মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাগিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাসহ সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়সহ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আবদুল মতিনের ৩টি জন্ম তারিখের বিষয় জানাজানি হলে ওই মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় এলাকায় বেশ তোলপাড় শুরু হয়।
অভিযোগে জানা যায়, চান্দিনা উপজেলার বরকরই ইউনিয়নের লগড্ডা গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের পুত্র আবদুল মতিনের ৩টি জন্ম তারিখ রয়েছে, যা হচ্ছে- তাঁর জন্ম নিবন্ধন সনদে ১লা জানুয়ারি ১৯৫৭, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে ১লা মার্চ ১৯৫৯ ও এমপিও ভুক্তির কাগজপত্রে ১লা জানুয়ারি ১৯৬১ইং। এ ছাড়া এসব সনদ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে তার নাম ও তার পিতার নামেও গড়মিল রয়েছে। বিভিন্ন সনদ ও কাগজপত্রে তার নাম- মোহাম্মদ আবদুল মতিন, মোহাম্মদ আবদুল মতিন কাজী, কাজী আবদুল মতিন এবং পিতার নাম- আবদুল খালেক, আ. খালেক কাজী ও মৃত আ. খালেক কাজী উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া ওই তিনটি জন্ম তারিখের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় (মার্চ ১৯৭১) আবদুল মতিনের বয়স ছিল ১৪ বছর ৩ মাস ও বর্তমান বয়স (১লা নভেম্বর ২০১৭) ৬০ বছর ১০ মাস। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ১২ বছর ও বর্তমান বয়স ৫৮ বছর ৮ মাস এবং চাকরির এমপিও ভুক্তির কাগজপত্রের জন্ম তারিখ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ১০ বছর ২ মাস ও বর্তমান বয়স ৫৬ বছর ১০ মাস। অভিযোগে বলা হয়, আবদুল মতিনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সঠিক হলে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও এমপিও ভুক্তির কাগজের জন্ম তারিখ ভুয়া এবং সেইক্ষেত্রে তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও চাকরি থেকে অবসরে যেতেন ২ বছর আগে। এ ছাড়া এমপিও ভুক্তির জন্ম তারিখ সঠিক হলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মুক্তিযোদ্ধা সনদের উভয় জন্ম তারিখ ভুয়া। এভাবে আবদুল মতিন তার নাম ও পিতার নামের গড়মিল করে এবং জাল-জালিয়াতি পূর্ণ ভুয়া সনদ, জন্ম তারিখ ও কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাসহ বছরের পর বছর সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ওই মাদরাসায় তিনি সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করলেও অবৈধভাবে প্রথমে সহ-সুপার এবং সম্প্রতি সুপার মাওলানা সফিকুল ইসলামকে ভীতি প্রদর্শন ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দিয়ে তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপারের পদে আছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়। এ ব্যাপারে মাওলানা সফিকুল ইসলাম বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন। এদিকে অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়সহ দুদক। এ বিষয়ে আবদুল মতিন বলেন, জন্ম তারিখ কাগজপত্রে উল্লেখ আছে, আমিতো লুকাতে পারব না। সুপার মাওলানা মো. সফিকুল ইসলামের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি মাদরাসায় আসেন না। এসব নিয়ে আর কোনো কথা বলতে চাই না। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) সহকারী কমিশনার নওরীন হক জানান, গত ৭ই নভেম্বর অভিযোগ তদন্তের শুনানীর দিন ধার্য ছিল, কিন্তু ওইদিন আবদুল মতিন সময় চাওয়ায় তা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে এবং সহসা তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় কুমিল্লার উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম চলছে, সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘আপাতত ভাত-রুটি থেকে দূরে আছি’

মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলো যুবক

দেখা হলো কথা হলো

দল থেকে বহিষ্কার মুগাবে

‘রোহিঙ্গাদের নির্যাতন যুদ্ধাপরাধের শামিল’

আন্ডা-বাচ্চা সব দেশে, বিদেশে কেন টাকা পাচার করবো

জেনেভায় বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে জাপান

প্রেমিকের সঙ্গে পালাতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষিত

আসামি ‘আতঙ্কে’ সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতারা

ত্রাণসামগ্রী বিক্রি করছে রোহিঙ্গারা

ভারতের সঙ্গে সম্প্রীতি নষ্ট করতেই রংপুরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা

সময় হলে বাধ্য হবে সরকার

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার

ব্যক্তির নামে সেনানিবাসের নামকরণ মঙ্গলজনক হবে না: মওদুদ

কায়রোয় আরব নেতাদের জরুরি বৈঠক

পুলিশি জেরার মুখে নেতানিয়াহু