সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরের ৩ সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত প্রক্রিয়া শেষ হবে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৪ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৮
দেশে নৃশংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি। তবে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হওয়ার পরই এ কার্যক্রম শুরু হবে। সম্পন্ন হবে তিন সপ্তাহের মধ্যে। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিয়ে সেখানকার নেতাদের এ বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এ বিষয়ে খবর দিয়েছে ফিলিপাইনের ম্যানিলা বুলেটিন ও অনলাইন দ্য ডেইলি ইনকুইরার। তবে এর আগে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যেসব রোহিঙ্গা রাখাইনে তাদের বসবাস ছিল, সরকারের দেয়া প্রমাণপত্র দেখাতে পারবে শুধু তাদেরকেই ফিরে যেতে দেয়া হবে।
এখনও পর্যন্তু মিয়ানমার দৃশ্যত সেই অবস্থানেই আছে। এর আগের এক রিপোর্টে মিয়ানমারের মিডিয়া জানিয়েছিল, এ সংক্রান্ত যে চারটি মূলনীতি রয়েছে ১৯৯৩ সালে সম্পাদিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন চুক্তিতে তা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমার তা পরিবর্তন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে সুচি বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হলেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবেন বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাকে সব রোহিঙ্গাই কি ফিরে যেতে পারবে কিনা তা তিনি পরিষ্কার করেন নি। ঘরে আগুন, সামনে-পিছনে বন্দুক তাক করা, এখানে ওখানে ধর্ষণের বিভৎসতাÑ এর মধ্যে রোহিঙ্গারা প্রাণপণ ছুটে পালিয়েছেন বাংলাদেশে। তাদের পক্ষে কোনো প্রমাণপত্র সঙ্গে করে আনা সম্ভব ছিল কিনা তা একটি প্রশ্নসাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে যাদের সঙ্গে কোনো প্রমাণপত্র নেই তাদের কি হবেÑ এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সোমবার আসিয়ানের অজ্ঞাত দু’নেতার সঙ্গে বিরল এক বৈঠক করেন সুচি। তাতে ওই দু’নেতা রোহিঙ্গা ইস্যুটি উত্থাপন করেন। তার প্রেক্ষিতেই সুচি ওই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশার বিষয়ে এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে মিয়ানমার। অং সান সুচিকে উদ্ধৃত করে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্সিয়াল মুখপাত্র হ্যারি রক রক বলেছেন, আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত লোকদের (আইডিপি) প্রত্যাবর্তন বা ফিরিয়ে নেয়ার কাজ শেষ হবে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে। এ বিষয়ে আসিয়ান নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন সুচি। সংবাদ সম্মেলনে রক রক বলেন, আমি নিশ্চিত রোহিঙ্গা ইস্যতে আলোচনা হয়েছে। এই প্রসঙ্গটি দু’সদস্য দেশ উত্থাপন করেছিল। তবে ওই দুটি দেশ বা তাদের নেতাদের নাম প্রকাশ করেন নি তিনি। জানিয়েছেন, সুচির সঙ্গে তাদের ওই বৈঠক হয়েছে ম্যানিলার ফিলিপাইন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে। সেখানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলেছে মিয়ানমার। বিশেষ করে তারা বলেছে, তারা জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আছে। পাশাপাশি তারা মানবিক সহায়তাকে স্বাগত জানায়। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশন আগস্ট মাসে এর আগে সংঘটিত রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার ও তাদের অবাধে চলাচল করতে দেয়ার সুপারিশ করা হয়। এ রিপোর্ট প্রকাশের পর ২৫ শে আগস্ট রাখাইনে সর্বশেষ সহিংসতা শুরু হয়। এর ফলে বাধ্য হয়ে কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রবি-সোমবার সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি

‘বিএনপি নির্বাচনে না আসলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে’

আনন্দ শোভাযাত্রার রুট ম্যাপ দেখে চলাচলের অনুরোধ ডিএমপির

‘হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমারদেশ প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে’

সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে

কাউন্টারে টিকেট নেই, দ্বিগুণ দামে মিলছে ফেসবুকে!

৭ই মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি সরকারিভাবে উদযাপন আগামীকাল

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে তারা গুমের সঙ্গে জড়িত’

শপথ নিলেন মানাঙ্গাগওয়া

বাণিজ্য, জ্বালানী ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

‘বিএনপির ভোট পাওয়ার মতো এমন কোনো কাজের নিদর্শন নেই’

তাজরীন ট্র্যাজেডির ৫ বছর, শেষ হয়নি বিচার

দুই দফা জানাজা শেষে নেত্রকোনার পথে বারী সিদ্দিকীর মরদেহ

রোহিঙ্গা ফেরতের চুক্তি ‘স্টান্ট’: এইচআরডব্লিউ

‘আমি হতবাক’

ডাক্তাররা বেশ প্রভাবশালী ও তদবিরে পাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী